শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩


খুবই সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখা, জাযাকাল্লাহ। SPOT ON.

আমি এজন্য প্রায় বলি আরবি ভাষা শেখার পাশাপাশি "উসুল আল ফিকহ" নিয়ে পড়াশোনা করাটা খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বর্তমান যুগের বড় উলামারা (!!) ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিভাবে এবং কোন উসুলি পদ
্ধতিতে ব্যাখ্যা করছেন সেটা যদি না বুঝি, শুধু আরবি ভাষা জানার কারনে এই সব উলামাদের ভারী কথাগুলো (যেসবের ভুল উসুল আল ফিকহ এর প্রাথমিক পর্যায়ের একজন ছাত্র ও বুঝে) দ্বারা এফেক্টেড হয়ে যেতে পারে।


ইসলামকে রি-ইন্টারপ্রেট করার ধারণাটি একটি বিপজ্জনক ধারণা। ১৪০০ বছর ধরে ইসলাম আমাদের মাঝে আজো টিকে থাকার কারণ শুধু এটা নয় কুরআনকে আল্লাহ অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করেছেন, বরং এর আরো একটি কারণ হল আল্লাহ একটি হক্বপন্থী দলকে সবসময় বাঁচিয়ে রেখেছেন, কাজেই যখনই ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এই ‘আলিমগণ উঠে দাঁড়িয়েছেন এবং জেল-জরিমানা ও জানের মূল্য দিয়ে হলেও সত্যকে তুলে ধরেছেন।

এটা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই সাহাবারা ইসলামের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি রাখতেন। তাদের জ্ঞানের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে তাদের জ্ঞান ছিল গভীর। এটা হতে পারে, তাদের পরবর্তী যমানায় এমন অনেক লোক এসেছেন যাদের জ্ঞানের পরিমাণ ছিল বেশি কিন্তু গভীরতা ছিল কম। যেমন আবু বকর (রাঃ) সর্বসাকুল্যে ১৫০-২০০ এর বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম বুখারি হয়তো লক্ষাধিক। কিন্তু আমরা জানি নবী-রাসূলদের পরে যার অবস্থান তিনি হলে আবু বকর (রাঃ), ইমাম বুখারি নন।

ইসলামকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ অবস্থায় পেয়েছেন সাহাবাগণ। এর পরে যত প্রজন্ম এসেছে, বিশুদ্ধতার পরিমাণ সেভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। রাসূল (সাঃ) তিনটি প্রজন্মের ব্যাপারে আমাদেরকে বলে গেছেন যারা জ্ঞানের দিক থেকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। এ তালিকায় সর্বপ্রথমে আছে সাহাবাগণ, তারপর আছে তাবেয়ীনগণ (সাহাবাদের পরের প্রজন্ম) এবং এরপর তাবে-তাবেয়ীন (তাবেয়ীনদের পরের প্রজন্ম)। এই তিনটি প্রজন্মের আলিমদের বলা হয় সালাফ, যাদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে খোদ রাসূল (সাঃ) লাইসেন্স দিয়ে গেছেন।

ইতিহাস থেকে আমরা দেখি, ইসলাম যখন আরবভূমি থেকে বিভিন্ন প্রান্তে ছাড়িয়ে নতুন দেশ জয় করেছে, তখন সেই নব জয়কৃত অঞ্চলের জাহিলিয়াতি কালচার এবং ত্রুটিপূর্ণ বিশ্বাস দ্বারা অনেক মুসলিম প্রভাবিত হয়ে পড়ে। কোন ক্ষেত্রে নও মুসলিমরা সঠিক শিক্ষার অভাবে জাহেলিয়াতের নাগপাশ থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারেননি, যেটা সাহাবাদের ক্ষেত্রে হয়নি, তারা রাসূল (সাঃ) এর কাছ থেকে ফার্স্ট হ্যান্ড ‘ইলম লাভ করেছিলেন, একারণে তাদের মন-মনন, চেতনা ও ইসলামের বুঝ ছিল সবচেয়ে বিশুদ্ধ।

যেমন মুসলিমরা যখ্ন গ্রীক সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত হয় তখন মুতাযিলা নামের একটি দলের উদ্ভব হয় যারা ছিলেন অতিমাত্রায় যুক্তিনির্ভর, এমনকি কুরআন এবং সুন্নাহর উপরেও তারা যুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিতেন। এই ফিতনার কারণে তারা তাক্বদীরের বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করেন। এছাড়াও তার আল্লাহর সিফাত (গুণাবলী) কেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। এটা ছাড়াও মুসলিমরা যখন পারস্য ও খ্রিষ্ট ধর্মের মূল কেন্দ্রগুলো দখল করে সেখানেও তারা কিছু ক্ষেত্রে খ্রিস্টান ও অগ্নি পূজারীদের ত্রুটিপূর্ণ আক্বীদা দ্বারা প্রভাবিত হন যার হাত ধরে পরবর্তীতে অত্যন্ত ভয়ংকর কিছু সুফী তরীক্বার জন্ম হয় যারা ছিল পরিষ্কার শিরকে লিপ্ত।

বলা বাহূল্য, আহলে সুন্নাহর স্কলাররা ইসলামের এ ধরণের আক্বীদা-বিধ্বংসী ভুল ব্যাখ্যাগুলোকে মেনে নেন নি, বরং তারা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ১৮ বছর জেলে খেটেছেন কিন্তু গ্রীক সভ্যতা প্রভাবিত মুতাজিলা আক্বীদা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে এটি সত্য ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ক্ষেত্রে, তিনিও শিয়া এবং সুফীদের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার।

আমরা দেখি যে ইসলামকে মিস-ইন্টেরপ্রেট বা রি-ইন্টারপ্রেট করার এই সমস্যাটি হয় তখনই, যখন বিজাতীয় কোন আদর্শ, বা সভ্যতার আলোকে ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করা হয়। সাহাবাদের ক্ষেত্রে সেটি একেবারেই হয় নি, কারণ তারা কুরআনের আলোয় বিশ্বকে দেখতেন এবং সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামের বিশুদ্ধ আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ মরীচা পড়তে শুরু করে।

বর্তমান যুগ ইসলামের রি-ইন্টেরপ্রিটেশনের ফিতনা থেকে মোটেও মুক্ত নয়। আজকে আমাদেরকে যে চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে হচ্ছে তা হল পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাববলয় থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামের একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ, যা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, দুঃখজনভাবে অনেক বড়মাপের ‘আলিমরাই।

আমরা দেখতে পাচ্ছি, গত ১৪০০ বছরের সুপ্রতিষ্ঠিত এবং ইজমার ব্যাখ্যার বিপরীতে আজকে নতুন নতুন ব্যাখ্যার আগমন! যেমন দারুল ইসলাম এবং দারুল কুফর এর যে বুঝ সাহাবারে রাখতেন এবং ইমাম আবু হানিফাদের সময় থেকে এই দারুল ইসলাম ও দারুল কুফরের সংজ্ঞা একটি প্রতিষ্ঠিত ফিক্বহী ধারণা, অথচ এই যুগে এসে ফট করে বলছেন, দারুল ইসলাম, দারুল কুফর এগুলা নাকি আইসোলেটেড টার্ম! ইসলামী রাষ্ট্র বলে কিছু নাকি, সবই নাকি ফ্যান্টাসি!

শরীয়াহকে বাদ দিয়ে অন্য কোন ব্যবস্থা দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করাকে যেখানে আহলে সুন্নাহর আলিমগণ কুফর বলেছেন, সেটিকে এই যুগে এসে অনেকেই নিছক মুবাহ বা অনুমোদিত এর পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন! জিহাদের কিছু ফিক্বহকে বিকৃত করার জন্য কনফারেন্সেরও আয়োজন করা হয়, অথচ গত ১৪০০ বছরে যেগুলো নিয়ে কেউ কখনো দ্বিমত করেন নি। খিলাফতের মত ওয়াজিব একটি well-established ধারণাকে review করার দাবি তুলছে আজকের কিছু “স্কলার”, অথচ সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এর দাফন করা থেকেও খলিফা নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এভাবে একটির পর একটি ধারণার বিশ্লেষণ করা আমার আওতার বাইরে, তবে আমাদেরকে কিছু মূলনীতি মনে রাখতে হবে। এক নম্বরে আছে, কুরআন বা হাদীসের সবচেয় উত্তম ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন খোদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)। এবং তার এই ব্যাখ্যাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ধারণ করতে পেরেছিলেন সাহাবাগণ, তারপর তাবেয়ীনগণ এবং এরপর তাবে-তাবেয়ীনগণ। তারা একটা ব্যাপারকে যেভাবে বুঝেছেন, সেভাবেই আমাদেরকেও বুঝতে হবে। তারা যেসকল উসুল প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেগুলোর উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। তাদের মত করে ইসলামকে বুঝতে হবে, নিজেদের মত করে নয়, কেননা আল্লাহ বলেছেন,

“… তোমার কাছেও কিতাব নাযিল করেছি, যাতে করে যে শিক্ষা মানুষদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তুমি তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে পারো, যেন তারা চিন্তাভাবনা করে।” [সূরা নাহলঃ৪৪]
[সূরা নাহলঃ৪৪]

আল্লাহ বলছেন, "লিতুবায়্যিনাহ" , অর্থাৎ আপনি তাদের কাছে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করবেন। আমরা নিজেদের মত করে এই ব্যাখ্যা করলে হবে না। এই দ্বীনকে শিখতে হবে তাদের কাছ থেকে যারা এই দ্বীনকে সবচেয়ে ভাল বুঝতেন, তারা হলেন সাহাবা ও তাবেয়ীনগণ। ১৪০০ বছর পর এসে আমি-আপনি Tom-Dick-Harry এসে কিছু একটা বললেই সেটা হয়ে যাবে না।

আজ থেকে ১২০০ বছর আগে কিছু মুসলিম যেমন গ্রীক লিটারেচার এ মুগ্ধ হয়েছিল, তেমনি আজকে মুসলিমরা পশ্চিমা সভ্যতায় মুগ্ধ হয়ে ইসলামের westernized ভার্সন বের করছে, ইসলামের গণতন্ত্রায়ণ এবং সেকুলারাইজেশন করছে। অথচ এগুলোর কোনটির সাথে ইসলামের বিন্দুমাত্র সাদৃশ্য নেই। এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে আমাদের মূল সোর্স অর্থাৎ কুরআন এবং সুন্নাতে ফিরে যেতে হবে এবং সাহাবাদের মত করে মূল সোর্সকে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে হবে। ইসলামকে রি-ইন্টারপ্রেট করার কোন দরকার নেই, ইসলামের মূলনীতিগুলো পূর্বেকাল আলিমরা তৈরি করে গেছেন, আর ইজতিহাদ করা ইসলামের রি-ইন্টারপ্রিটেশন নয়। যারা ইসলামের রি-ইন্টারপ্রিটেশনের ডাক দিচ্ছে তারা কেবল ফিক্বহ নয় বরং ইসলামের আদর্শকেও রি-ইন্টারপ্রেট করছে যেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই দ্বীন ভেজিটেবল স্যুপ নয় যে, যেভাবে খুশি সেটাকে রাঁধা যাবে! আল্লাহ আমাদেরকে এই ফিতনা থেকে রক্ষা করুন যেভাবে তিনি পূর্বেও করেছেন।


পোস্টা অনেক বড় , কারন এখানে অন্য একজনের পোস্ট সম্পূর্ণ ভাবে তুলে ধরে সেটার ভুল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে -- আশাকরি সময় নিয়ে পড়বেন ।
[[[ - ]]] - এই চিনহের মধ্যের লিখা গুলো জনাব Shamim Reja সাহেবের । যেটাকে "জামায়াত ইসলাম" সঠিক ইসলামিক দল বলে যুক্তি হিসেবে আমাদের কাছে তুলে ধরছে জনাব sayem nufa সাহেব । আসুন ওনাদের যুক্তির নমিনা দেখি --

[[[ জামায়াত এবং অনৈসলামিক গণতন্ত্র --- একটা সময় ছিলো যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিলো পেশিতন্ত্রের অধীনে। রাজাদের বিশাল এক সেনাবাহিনী থাকতো তাদের সাহায্যে পরিচালিত হতো রাষ্ট্র, এবং জনগনের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকায় চলতো হরদম মৌজ-মাস্তি।
তখনকার দিনে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তনের পদ্ধতিটাও ছিলো ভয়াবহ! হঠাৎ দেখা যেতো সেনাপতি অথবা রাজার কোনো নিকটাত্মীয় রাজাকে হত্যা করে নিজেই নিজেকে রাজা দাবী করে বসেছে। অথবা দেশের কোনো এক প্রান্তে নতুন কোনো নেতার উদ্ভব হয়েছে, যিনি রাজার আনুগত্য পরিহার করে নিজেই একটা বাহিনী তৈরী করে নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব করেছেন। রাজ্য পরিচালনায় জনগনের ভূমিকা ছিলো অতি নগন্য।
ইচ্ছেমতো জোর জুলুম, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে রাজার বানানো আইন মানতে জনগনকে বাধ্য করা হতো। ]]]

-- মরা ছেলে নিয়ে কান্না করার মত কথা । যাক সে হয়তো আমাদের বুঝাবার জন্য কিছু অতিতি ইতিহাস তুলে ধরছে । দেখি নিচে কি আছে এরই উদাহরনের বিষয়ে ।

[[[ রাষ্ট্রক্ষমতায় কে থাকবে ইসলাম সেক্ষেত্রে সুন্দর একটা সমাধান দিয়েছে, পেশিতন্ত্র সেখানে অনুপস্থিত। সমাজের সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী এবং ধার্মিক ব্যাক্তিরা ভোটের মাধ্যমে একজন নেতাকে নির্বাচিত করবেন, যিনি আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূলদের(সঃ) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত করবেন। রাজার ব্যাক্তিগত খায়েস মিটানোর কোনো সুযোগ এই পদ্ধতিতে অনুপস্থিত! এটা হচ্ছে ইসলামীক গণতন্ত্র]]]

পয়েন্ট (১) -- লক্ষ্য করেন , এখানে "রাষ্ট্র" কিভাবে চলবে সেটার ছোট ব্যাখা উনি দিছে , যেটা সঠিক । কিন্তু উনি পেশিতন্ত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে সেটা আমার বোধগম্য নয় । যদি উনি উপরে উল্লেখিত তৎকালীন রাজাদের দিকে ইঙ্গিত করে তবে মেনে নিলাম , কিন্তু উনি যদি পেশিতন্ত্র বলতে জ্বিহাদ করা বুঝায় , তবে আমার এখানে কথা আছে । রাসুল (সাঃ) যখন বাহিরের দেশের কোন কাফের রাজার কাছে ইসলামের দাওয়াত হিসেবে চিঠি পাঠাতেন তখন সেখানে ৩ টা শর্ত দিতো - (১) ইসলাম গ্রহন করুন । (২) নয়তো জিযিয়া প্রদান করুন । (৩) নয়তো মুসলিমদের সাথে লড়াই করুন । এখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে মুসলিমদের পক্ষ থেকে জ্বিহাদের হুমকি । -- কিন্তু উনি ওনার পোস্টে পেশিতন্ত্র অনুস্থিত কিভাবে আর কোন দলীলের বলে বলে দিলেন সেটাই বুঝতেছি না । এর মানে উনি পরোক্ষ ভাবে জ্বিহাদকে না বলে দিলেন ।

[[[ পরিবর্তিত সময়ে অনৈসলামিক একটা পদ্ধতির উদ্ভব হলো, যে পদ্ধতিতে সমাজের জ্ঞানী এবং ধার্মিক ব্যাক্তিদের পাশাপাশি চোর,ডাকাত,খুনি,ধর্ষক,লম্পট সকলকেই ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হলো।
এই পদ্ধতির সবচাইতে বড় ত্রুটি হচ্ছে, এইসব পাপী ব্যাক্তিরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে যাকে নির্বাচিত করা হলে অবাধে এইসব অপকর্ম সম্পন্ন করতে পারবে। এটা হচ্ছে প্রচলিত গণতন্ত্র। ]]]

-- পয়েন্ট (২) -- লক্ষ্য করেন - উনি বর্তমান প্রচলিত গণতন্ত্রকে অনৈসলামিক বলতেছে । আর প্রচলিত গণতন্ত্রের ব্যাখা গুলো দেখেন , কারা কারা নেতা নির্বাচন করে । ভালো মানুষের পাশাপাশি খারাপ মানুষও তাদের ক্ষমতার বলে নেতা নির্বাচন করে , যেটা বর্তমানে হচ্ছে , আর আমাদের সমাজে এখন খারাপ মানুষ রাস্তায় পইরা পাওয়া যায় । এবং উনি এই প্রচলিত গণতন্ত্রের বিরোধিতা করছে এখানে । মাশাআল্লাহ্‌ । ওনার এই কথার উপরে একটা কথাই বলতে হয় - কুকুরের গর্ভে কুকুরই জন্ম নিবে , এটাই স্বাভাবিক । চোর বাটপার দিয়ে নেতা নির্বাচন করলে চোর বাটপারই শাসক হবে , সেটাও স্বাভাবিক ।

[[[ আমরা যদি মাদানী যুগের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো, পেশিতন্ত্র সেখানে অনুপস্থিত ছিলো। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইসলাম রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়নাই।
মদিনা রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে প্রথম শ্রেণীর সকল সাহাবীরা(সঃ) সহ আনসার এবং মুহাজির সবাই একবাক্যে রাসূল(সঃ) কে মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। এমনকি তখন পর্যন্ত যারা ইসলাম গ্রহণ করেনাই তারাও মুসলমানদের দ্বারা মনোনীত নেতাকে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে।
এক্ষেত্রে মদীনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপধান হিসেবে মুসলমানরা সর্বসম্মতিক্রমে রাসূল(সঃ) কে নির্বাচিত করে সাধারণ জনগনের কাছে উপস্থাপন করেছে, এবং জনগন এই বিশ্ব নেতাকে(সঃ) মেনে নেয়ায় মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান হলেন রাসূল(সঃ)।
এখানে জোর জুলুম কিংবা তরবারীর দ্বারা কারো উপর নতুন শাসক চাপিয়ে দেয়া হয়নাই। ]]]

-- উনি হয়তো মদিনা সনদের কথা ভুলে গেছেন । যেই সনদের আওয়তায় সবাই রাসুল (সাঃ) কে নেতা হিসেবে মেনে নিছে , এমন হয় নায় যে রাসুল (সাঃ) মদিনায় যাবার সাথে সাথে রাসুল (সাঃ) কে নেতা ঘোষণা করা হইছে । আর মদিনা সনদে মুসলিমের পক্ষের ধারা বেশী ছিল বা এইভাবে বলা যায় ' ইসলামের পক্ষের ধারা বেশী ছিল । -- এখানে গুরুত্ব পূর্ণ কথা যেটা - বর্তমান জামায়াত ইসলাম গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম করতে চায় , অথচ মদিনার নেতা হবার জন্য সম্পূর্ণ কোরআন না আসার আগেই রাসুল (সাঃ) নেতা হিসেবে মনোনীত হলেন , আর এর কারন কোরআনের শিক্ষা । অথচ আমাদের জামায়াত ইসলাম আজ কোরআন ছেড়ে ডঃ কামালের সংবিধান নিয়েই নেতা হতে চাচ্ছে । হায়রে ইসলামিক দল !!! - রাসুল (সাঃ) জীবনী থেকেও কিছু শিখলো না ।

[[[ আমরা যদি খলিফা নির্বাচনের দিকে তাকাই তাহলেও একই পদ্ধতি দেখবো। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবীরা হজরত আবু বকরের (রাঃ) হাতে বাইয়াত নিলেন, এবং সাধারণ মুসলমানরাও সেইসব প্রথমশ্রেণীর সাহাবীদের (রাঃ) সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করায় ইসলামের প্রথম নির্বাচিত খলিফা হলেন হজরত আবু বকর (রাঃ) ]]]

-- তো এরা মুখে কি বলছে আর কর্মে কি করছে ? এরা এমন একটা দল যাদের সাথে অন্য সব ইসলামী দলের দন্দ লেগে আছে , এদের এক দলের সাথে আরেক দলের না নীতিগত ভাবে মিল আছে , না আকিদাগত ভাবে । তবে কিভাবে এরা সর্ব সম্মত ভাবে নেতা নির্বাচন করবে ? অথচ তুলনা দেখায় সাহাবীদের । আর খলিফা নির্বাচননের অধ্যায়তো অনেক পরে , আগে খেলাফত আনার পদ্ধতির কথা বলেন ।

[[[ প্রচলিত গণতন্ত্র এবং ইসলামী গণতন্ত্রের মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য হলো, পদ প্রার্থী হওয়া।
ইসলামী গণতন্ত্রে কেউ নিজেকে পদ প্রার্থী দাবী করতে পারবেনা। যেমন, “আমাকে চেয়ারম্যান,এম্পি নির্বাচিত করুন”। ]]]

-- ভুতের মুখে রাম না - আপনারা কিন্তু ভোটে দাড়িয়ে জনগনের কাছে সি ভিক্ষাটাই করেন । আমাকে এমপি করার জন্য ভোট দেন , আমাকে মাপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাবার জন্য ভোট দেন । অথচ এখানে এর ঘোর বিরোধিতা করলেন ।

[[[ আবার প্রচলিত গণতন্ত্রের কথা হচ্ছে জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক, এদিকে ইসলামী গণতন্ত্রে বলা হয় আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক।
প্রচলিত অনৈসলামিক গণতন্ত্র অনুযায়ী যেহেতু জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক, সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি বলে মদ,যেনা বৈধ, তাহলে মদ বৈধ হয়ে যাবে। আর ইসলামীক গণতন্ত্রে যেহেতু আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক, সেহেতু দেশের সকল জনগণ যদি বলে, মদ বৈধ, তবে মদ বৈধ হবেনা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মদ হারাম হারামই থেকে যাবে। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যেখানে ইসলামের সমাধান নেই সেখানে সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের ভোট নেবা হবে। ]]]

-- ভাই সাহেব ... যেখানে ইসলামের সমাধান নাই সেখানে না হয় ধর্মীয় নেতাদের মতামত নেয়া যাবে । কিন্তু এই যে গণতন্ত্র মানে হারামকে হালাল করে দেয়া , এইটা যে স্বীকার করলেন , তবে কেন সেইটা মানতে নারাজ বাস্তবে ? বাস্তবে তো এই গণতন্ত্র দিয়েই দেশ চালানোর জন্য লড়াই করছেন এখন , যেমন দেশ চালাইছেন ২০০১-২০০৭ পর্যন্ত ? এখানে কি আপনাদের দ্বিমুখী নীতি প্রকাশ পায় না ?

[[[ কেউ কেউ প্রশ্ন করে থাকেন, জামায়াতে ইসলামীতো প্রচলিত অনৈসলামিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল, তাহলে এটা কিভাবে ইসলামী দল হলো। কারণ জামায়াতের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়, নিজের সমর্থনে ভোট চায়, এটাতো ইসলামী গণতান্ত্রিক সিস্টেম নয়।
মূলত জামায়াত সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনেই মানুষ এই ধরনের প্রশ্ন করে থাকে, জামায়াতের কোনো নেতা কর্মী, কোনো নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী দাবী করতে পারেনা, যদি কেউ এই ধরনের দাবী করেন তবে সে ওই নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যখন কোথাও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক ডাকা হয় এবং সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, দল সেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে কিনা। যদি অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়, তখন দলের প্রতিনিধিদের পরামর্শের ভিত্তিতে একজনকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ]]]

-- ভাই , শুরু করলেন ' জামায়াত কেন এই গণতন্ত্র পন্থি নির্বাচনে যায় সেই কথা দিয়া , আর শেষ করলেন আপনার দল থেক কিভাবে মনোয়ন দেয়া হয় সেইটা দিয়া । এইটা কিছু হইল ? আপনার দলে কিভাবে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয় সেটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় না ভাই , আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় , এই মানুষের তৈরি আইনের আওয়াতায় নির্বাচন নিয়ে । এইটার কোন সমাধান আছে আপনার আকছে ? নিজেই যেই গণতন্ত্র কে বার বার কুফরি বলতেছেন , আবার নিজেই বলেন কোন পদ্ধতিতে একজন জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে যায় । , ইহা কি আপনা জ্ঞ্যানের অভাব নাকি আপনি নিজেই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ?

[[[ ব্যাপারটাকে আমরা এইভাবে ব্যাক্ষা করতে পারি, প্রভাবশালী সাহাবীরা হজরত আবুবকরকে খলিফা নির্বাচন করে তাঁকে জনগনের নিকট হাজির করে বলা হলো, আবুবকরের (রাঃ) হাতে আমরা বাইয়াত করেছি, তোমরাও তাঁর হাতে বাইয়াতবদ্ধ হও।
এখানে আবু বকর (রাঃ) কিন্তু নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননাই, বরং সাহাবীরাই তাঁকে নির্বাচিত করে এর স্বপক্ষে জনগনের নিকট সমর্থন চেয়েছে। ]]]

-- ভাই আপনি রাসুল (সাঃ) এর সময়কার কাফেরদের কুফরি ব্যবস্থাপনা থেকে এক লাফে খেলাফতে চলে গেলন । এর মাঝে এইটা ব্যাখা করলেন না , কিভাবে এই খেলাফত আসলো । গণতন্ত্র দিয়ে , নাকি জ্বিহাদ করে , এই গুলো এড়িয়ে গেলেন কেন ? নাকি এই গুলো বললে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই ? সমস্যা নাই , আপনি না বললেও আমরা বুঝে গেছি , আমরা কাউকে এইটা বলবো না

[[[ জামায়াতের সিস্টেমটাও একই রকম, আব্দুর রহিম কিংবা আব্দুল করিমকে জামায়াতের পক্ষ হতে চেয়ারম্যান,এম্পি হিসেবে মনোনীত করে জনগনের কাছে আহ্বান জানানো হয়, আমরা অমুককে মনোনীত করেছি এবার তোমরাও তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করো।
এখানে পার্থীর ব্যাক্তিগত খায়েশের কোনো স্থান নেই। এমনও দেখা গেছে যেই ব্যাক্তিকে জামায়াতের পক্ষ হতে মনোনীত করা হয়েছে তাঁর পকেটে নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত টাকাও নেই, দলীয় ফান্ড হতে তাঁর নির্বাচনের খরচ বহন করা হয়েছে। ]]]

-- প্রাথির ব্যাক্তিগত খায়েশ থাকবে কিভাবে ? গণতন্ত্রের দলে ব্যাক্তিগত খায়েশ বলতে কিছু আছে ? সব না ঐ ২ মহিলার হাতে আর এটাই জামায়াতের সিস্টেম মানে কি ? কোন সিস্টেমের কথা বলতেছেন ? কুফরি থেকে এক লাফে খেলাফতে চলে আসা ?আর মাঝের সব ভুলে যাওয়া ? নইলে আপনি এমন কোন সিস্টেম দেখান নাই যেটা দেখে বুঝবো ' হ্যাঁ এইভাবে খেলাফত আসবে । তবে হ্যাঁ , একটা বিষয় দেখাইছেন , প্রার্থী আপনারা দলের মধ্যে অনেক চিন্তা ভাবনা করে , দেখে শুনে খেলাফতি জামানার পদ্ধতিতে বাছাই করে ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়ে দেন ঐ গণতন্ত্রের নির্বাচন করতে , এই আপনার সিস্টেম ? এই সিস্টেমে রাসুল (সাঃ) কিছু করছে বলে কোন প্রমান আছে আপনার কাছে ?

[[[প্রচলিত অনৈসলামিক গণতন্ত্রে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস মনে করা হয়, কিন্তু জামায়াতের দলীয় সংবিধানে আল্লাহকেই সকল ক্ষমতার উৎস হিসেবেই মেনে নেয়া হয়েছে, যার কারনে আমরা দেখেছি ইসলাম বিরোধী শক্তি নির্বাচন কমিশন হতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করেছে। আল্লাহকে সকল ক্ষমতার উৎস মানাও অপরাধ!! ]]]

-- পুরান কথা বলতে হয় - চোরের নাম মুমিন হলে সে কি সৎ মানুষ হয়ে যাবে ? আমার ঘরে আগর বাত্তি জ্বালাইলে যে পুরা দুনিয়া আলোকিত হবে এইটা কোন কথা ভাই ? আপনার গঠনতন্ত্রে আছে "আল্লাহ্‌ সকল ক্ষমতার মালিক" , আর আপনি এখন রাজনীতি করছেন " জনগন সকল ক্ষমতার মালিক " - এখানে আমরা কি ধরে নেব ? ঘরে পর্দা করে বাহিরে পতিতা বৃত্তি করা ?

[[[ সুতরাং, যারা বলছেন জামায়াত কুফরী গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল, তাঁর মূলত বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন, হয়তো তারা অজ্ঞতার কারনে এমন প্রচারনা চালাচ্ছেন অথবা ইচ্ছেকৃতভাবে জামায়াতের প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ে এমনটি করছেন।
এরপরেও যেহেতু আমরা অনৈসলামীক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, সেহেতু পুরোপুরি ইসলামীক সিস্টেম মেনে নিয়ে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করা অসম্ভবই বলা যায়। যেসব ইসলাম বিরোধী নীতিমালা আমরা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি, রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে সেসব বাদ দিয়ে একটি সুখি সমৃদ্ধ ইসলামীক খিলাফত আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ্‌। ]]]

-- আপনার মত বিজ্ঞ এই সমাজে থাকলে আমাদেরতো অজ্ঞ মনে হবেই রাসুল (সাঃ) মেনে নিয়েছিল কুফরি ? নাকি জ্বিহাদ করে কুফরি দূর করছে ? ভাই বলেনতো কোরআন হাদিস পড়ছেন ? নাকি মুখস্ত বয়ান দিলেন এতক্ষন ? এখানে কোন পয়েন্টে আপনি জামায়াত ইসলামকে ইসলামিক দল প্রমান করলেন ? এমনকি শেষ দিকে এসেও আসল রূপ তুলে ধরে বলছেন - অনৈসলামিক সিস্টেম বলেই আপনারা পুরো পুরি ইসলামিক সিস্টেমে রাজনীতি করতে পারছেন না । -- আপনারা রাজনীতিই করছেন এই কুফরি দূর করে ইসলামিক সিস্টেম আনার জন্য ,আর সেই আপনারাই যদি বলেন আমরা পারছি না ' তবে রাজনীতি করতেছেন কেন ? আমাদের কাতারে এসে দাঁড়ান না কেন ? আর নইলে দলের পিছন থেকে ইসলাম নাম সরিয়ে ফেলেন , ইসলামের নাম দিয়ে কুফরি মেনে নেয়া আর সেইটা দিয়ে আমাদের ভ্রান্ত করার অধিকার আপনাদের নেই ।

--- জিনিয়াস পাপী



"আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।
মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।" [সুরা বাকারাঃ ১১-১২]



রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

ভারতের একটি চলচ্চিত্র ‘মায়া’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে যখন কোন মেয়ের মাসিক শুরু হয়, তখন তার পরিবার সে উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে পাঁচ ছয়টি ব্রাহ্মণ পুরোহিতে মন্দিরে একটি বেদীর ওপর বসিয়ে পালাক্রমে সঙ্গম করে। একে কেন্দ্র করে মন্দিরচত্বরে মেয়েটির পরিবার বড় করে খাবারদাবারের আয়োজন করে এবং তার কন্যাকে গণসঙ্গমের জন্য ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

এ বিষয়টি নিয়ে ভারতের একটি চলচ্চিত্র রয়েছে ‘মায়া’ নামে। সেখানে মায়া নামক মেয়েটিকে পুরোহিতরা মন্দিরের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করছিল আর মেয়েটি চিৎকার করছিল। মেয়েটির চাচাত ভাই বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে যখন মন্দিরের দরজা ধাক্কাতে থাকে, তখন তার বাবা তাকে ধরে মার দেয়, যেহেতু সে পুরোহিতদের ‘কাজে’ ব্যাঘাত ঘটালে ‘পারিবারিক সম্মান’ নষ্ট হবে।

মেয়েটিকে ধর্ষণ করে পবিত্র করা হচ্ছিল, আর বাইরে চলছিল ভুঁড়িভোজ। ভারত অনেক আগে থেকেই ধর্ষণের দেশ, মন্দির থেকে বেশ্যালয় সেখানে ধর্ষণে ধর্ষণে একাকার। নীচে মায়া সিনেমার উক্ত অংশটির ভিডিও দেয়া হলো। ১৪ মিনিটের ভিডিও। http://www.youtube.com/watch?v=3JsRkfEjdos


 সম্প্রতি একটি খবরে প্রকাশিত হয়েছে, ভারতে চলন্ত ট্রেনে চারঘন্টা ধরে ৯৪ জন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছে ট্রেনে উপস্থিত পুঙ্গবরা।

চিন্তা করুনতো পাঠকরা, একটি নয়, দুটি নয়, ৯৪টি মেয়েকে ট্রেনে চারঘন্টা ধরে মোলেস্টেড করার পরও একটি লোকও তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে ভিড়ের মাঝে এগুলো হয়, কিন্তু তা গোপনে। প্রকাশ্যে একটি মেয়ের স্তনসহ অন্যান্য জায়গায় হাতড়ানো হবে, আর মানুষ তা চেয়ে চেয়ে দেখবে। এটা কি এদেশের কোন মুসলমান কল্পনা করতে পারে?

ইউটিউবে একটি ভিডিও রয়েছে, যেখানে ভারতে শতশত মানুষের সামনে একটি মেয়ের বুকে হাত দেয়ার পর টানাটানি করে তার পায়জামা পর্যন্ত খুলে নেয়া হয়েছে। https://www.youtube.com/watch?v=o5jYHXeb2-o

আমরা কল্পনাও করতে পারিনা, কিন্তু আমাদের হিন্দু প্রতিবেশীরা সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে সক্ষম। মন্দিরে ভিড়ের মধ্যে মেয়েদের কোন জায়গায় হাত দেয়াটা জানি হিন্দুদের একটি রেওয়াজ!

কিন্তু তারপরও এসব হিন্দুদের কাছেই আপনাকে গালি শুনতে হবে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন খবরাদি খুটিয়ে খুটিয়ে বের করবে মুসলমানদের খোঁচানোর জন্য। বিপরীতে মুসলমানরা কিছুই করতে পারবে না, যেহেতু হিন্দুরা তাদের প্রতি যে পরিমাণে বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা হিন্দুদের প্রতি তার ধারেকাছেও করেনা। ফলে হিন্দুদের মতো ঘৃণা উগড়ে দেয়াটা তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। যদিও হিন্দু কেন, তাবৎ কাফিরগোষ্ঠীকে পঁচানোর মত মালমশলার কিন্তু অভাব নেই

ভারতীয় মেয়েরা ঋতুবতী হলে মন্দিরে ধর্ষণের অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে মেয়েরা গর্ভ ভাড়া দেয় সাদা চামড়ার নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে। সেখানে ৬০কোটি লোক খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করে।

চায়নায় একসন্তান নীতির কারণে যেসব ভ্রুণের গর্ভপাত হয়, তাদের দিয়ে সুপ বানিয়ে খায় তারা। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের অধিকাংশ লোকই মানুষের গোশত খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

কিন্তু এগুলো নিয়ে মুসলমানরা কখনো আলোচনা করবেনা। আমাদের হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও কন্যাশিশু জীবন্ত কবর দেয়াটাকে ধিক্কার জানিয়েছেন, কিন্তু আমরা উনার উম্মত দাবি করে হিন্দুদের অসভ্য কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারিনা। উল্টো তারা যখন আমাদের ওপর সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপবাদ দেয়, আমরা যেন শামুকের মত খোলসের মধ্যে গুটিয়ে যাই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রণীত দ্বীন ইসলাম তথা অন্যায়ের প্রতিবাদমূলক দ্বীন ইসলাম নয়, বরঞ্চ অন্যায়কারীর বেত সহ্য করতে পিঠে ছালা বাঁধাটাই হলো বর্তমান সময়ের বাঙ্গালী মুসলমানদের কথিত ‘ইসলাম’।

পরিশিষ্ট: সম্প্রতি দক্ষিণভারতে ধর্ষণ অনুষ্ঠান নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে একজন ব্যক্তি স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে কমেন্ট করল। সে উল্লেখ করল, তাদের ভাল ব্যবহারের কারণে তাদের হিন্দু বন্ধু মুসলমান হয়েছে। সুতরাং তাদের অপকর্ম নিয়ে বলাবলি করাটা ঠিক নয়।

ব্যস, সাথে সাথে কমেন্টে লাইকের ফুলঝুরি ছুটল।

এসব লোকগুলো ভুলে যায় যে, আবু জেহেলকে কিন্তু শত মিষ্টি কথাতেও মুসলমান বানানো যায়নি। আর হিন্দুদের মধ্যে আবু জেহেলের সংখ্যাই কিন্তু বেশি। সেগুলো না দেখে একটি দুটি হিন্দুর মুসলমান হওয়ার কাহিনীকে কেন্দ্র করে বাঙ্গালী মুসলমান আবেগে আপ্লুত হয়। এবং এধরণের মানসিকতার জন্যই তারা পদে পদে মার খায়।




সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


 

SaveFrom.net

কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার বন্ধন প্রমাণ করে এমন ২০টি নিদর্শন

কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার বন্ধন প্রমাণ
করে এমন ২০টি নিদর্শন, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১.কাফিরদের উপর সন্তুষ্ট থাকা
২.কাফিরদের উপর নির্ভরতা
৩. কুফরির কোন বিষয়ে একমত পোষণ
৪. কাফিরদের সান্নিধ্য অণ্বেষণ
৫ কাফিরদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ
৬. কাফিরদের কুফরি বিশ্বাসের প্রশংসা-
প্রশস্তি
৭. কাফিরদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ
করা
৮. কাফিরদের অনুগত হওয়া
৯. কুরআন তাচ্ছিল্যকারীদের সঙ্গে একত্রে বসা
১০. মুসলিমদের উপর কাফিরদের কতৃত্ব প্রদান
১১. কাফিরদের উপর বিশ্বাস স্থাপন
১২. কাফিরদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করা
১৩. কাফিরদের কাছে টানা ও কাফিরদের
সাহচর্যে আনন্দ অনুভব করা
১৪. কাফিরদের ভ্রষ্টতার কাজে কোন কিছু
দিয়ে সহযোগিতা করা
১৫. কাফিরদের উপদেশ-পরামর্শ চাওয়া
১৬. কাফিরদের সম্মান করা
১৭. কাফিরদের সঙ্গে বসবাস করা
১৮. কাফিরদের সঙ্গে জোগসাজস করা
১৯.মুসলিমদের ঘৃণা এবং কাফিরদের ভালবাসা
২০.কাফিরদের মতাদর্শকে সমর্থন করা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ লিঙ্ক কমেন্টে : http://gurabamedia.wordpress.com/2012/04/11/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0/  

১.কাফিরদের উপর সন্তুষ্ট থাকা
কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার প্রথম ধরণটি হল কাফিরদের উপর সন্তুষ্ট থাকা বা তাদের কুফরি কর্মে রাজি-খুশি থাকা এমনকি তাদের স্বীকৃত কুফরি কর্মকে প্রত্যাখানের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া বা সন্দেহ পোষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত৷ সহজ কথায়, কাফিরদের কুফরি কর্মকান্ডের যে কোন বিষয়ের স্বীকৃতি-ই কুফরি হিসেবে গণ্য হবে৷ এটি খুবই স্পষ্ট যে, কাফিরদের যে সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাদের সঙ্গে চলাফেরা- উঠাবসা করে সে তো তাদেরই একজন৷ এ বিষয়ে আলেমদের সর্বসম্মত মত হল, যে কাফিরদের কিংবা তাদের কুফরী কর্মকান্ডকে ভালবাসে সে-ও কাফির৷ কেননা, হৃদয়ের ভালবাসা এবং ঘৃণা এমন দুটি জিনিস যা নিখাঁদ বা খাঁটি হলে স্বীয় বিশ্বাস-চিন্তা-চেতনা থেকে বিচূ্যত হয়ে এদিক সেদিক যেতে পারে না৷ এ অর্থে কাফিররা স্বভাবতঃই কুফরি ভালবাসবে এবং ঈমানদারগণ ঈমান ভালবাসবেন৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: ‘যদি তারা আল্লাহ, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস রাখত, তবে তারা কখনোই তাদেরকে (কাফিরদের) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না (রক্ষাকারী এবং সাহায্যকারী হিসেবে), কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক (বিদ্রোহী, আল্লাহর অবাধ্য)৷ (৫: ৮১)
২.কাফিরদের উপর নির্ভরতা
কোন ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার জন্য কিংবা নিরাপত্তার খাতিরে কাফিরদের উপর নির্ভর করাও কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার পরিচয় বহন করে ৷ এটি কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার দ্বিতীয় নির্দশন৷
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই বলে এ সম্পর্কে নিষেধ করেনঃ “মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে”। (৩:২৮)
এবং “হে মুমিনগণ ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু৷ তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে৷ নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না”৷ (৫ : ৫১)
ইবনে তাইমিয়া তার বর্ণনায় হুবহু অনুরূপ বাক্যগুলির উলেখ করে অতিরিক্ত আরেকটি আয়াতের উলেখ করেছেন:”যদি তারা আল্লাহ , নবী এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ন হয়েছে তাতে বিশ্বাস রাখতো তবে তারা কখনোই তাদেরকে (কাফিরদেরকে) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না”৷ ( ৫:৮১)
৩. কুফরির কোন বিষয়ে একমত পোষণ
কুফরি কোন বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করার অর্থ হল আল্লাহর বক্তব্যের বিরূদ্ধে তাদের বক্তব্য মেনে নেয়া৷ তাদের বিশ্বাসহীনতা সম্পর্কে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন : “আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একাংশ দেয়া হয়েছিল; তারা জিব্ত ও তাগুতে বিশ্বাস করে ? এরা কাফিরদের সম্পর্কে বলে, এদের পথ মুমিনদের পথ অপেক্ষা প্রকৃষ্টতর”৷ (৪:৫১)
এবং “যখন আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের নিকট রাসূল আসল, যে তাদের নিকট যা আছে তার সমর্থক; তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবটিকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না৷ এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করত”৷ (২: ১০১-১০২)
এই আয়াতের মধ্য দিয়ে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাদের জানিয়েছেন কিভাবে ইহুদিরা আল্লাহর কিতাবকে পরিত্যাগ করে যাদুর অনুসরণ করেছিল৷ অনুরূপভাবে আজও মুসলিম উম্মাহর মধ্য থেকে যে বা যারাই কাফিরদের সঙ্গে যোগ দিবে এবং তাদের অপকর্মের সঙ্গী হবে সে-ই মুনাফিকির কারণে নিজের জন্য ডেকে আনবে দুঃসহ যন্ত্রণা ও আযাব৷ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এরপরও যারা তাদের মুসলিম মনে করে তারা তো গোলক ধাঁধায় জড়িয়ে পড়েছে৷
আজ এই উম্মাহর এতই বেহাল দশা যে, তারা আজ সত্যের লেশমাত্র কোন মতে ধরে আছে৷ আজ এই উম্মাহর সন্তানদের অবস্থা ঐ তোতাপাখিগুলির মতো যারা কিছু না বুঝেই বুলি আওড়ায়, ‘আমি কমিউনিজম কে একটি দর্শন হিসেবে বিশ্বাস করি’, কিংবা ‘আমি সোশালিজমে বিশ্বাসী’ কিংবা বলে , ‘গণতন্ত্র একটি সুন্দর রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সংবিধান সেক্যুলার হওয়া উচিত’ কাফিররা কুফরের এই মূলনীতিগুলো মুসলমানদের আবাসভূমিতে বাস্তবায়নের এজেন্ডা নিয়েছে: এবং, এই লক্ষ্যে জনগণকে এরা এ সমস্ত শয়তানি বিশ্বাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ কেননা, কাফিরদের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন এই উম্মাহর তরুণ-যুবক-তরুণীদের নিঃশর্ত আনুগত্য ,তাঁবেদারি ও সেবাদাসগিরি মনোভাব৷ যখন কোন মুসলিম আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলের সুন্নাহর দিকে লোকদের ফিরে আসার জন্য আহ্বান করে, তখন এরাই তাদেরকে গণশত্রু বা জনগণের শত্রু হিসেবে ঘোষনা দেয়৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন : “ইহুদী এবং খৃষ্টানরা কখনোই আপনার ওপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন”৷ (২:১২০)
৪. কাফিরদের সান্নিধ্য অণ্বেষণ
কাফিরদের মমতা-ভালবাসা পাওয়ার চেষ্টা করার অর্থ হল তাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কযুক্ত করা৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এ রকম কাজে নিষেধ করেন, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: ” আপনি এমন কোন সমপ্রদায়কে খুঁজে পাবেন না, যে আল্লাহ এবং শেষ দিবসের ভয় করে অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যারা বিরোধিতা করে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, হোক সে তার পিতা, পুত্র, ভ্রাতা কিংবা তাদের জ্ঞাতিগোত্র ৷” (৫৮:২২)
ইবনে তাইমিয়া বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সুস্পষ্ট জানিয়েছেন, কোন ঈমানদারই আল্লাহ ও রাসূলকে চ্যালেঞ্জকারীদের আনুকূল্য প্রত্যাশী হয় না৷ দুটি বিপরীত ধর্মী জিনিষ যেমন একে অপরকে তাড়িত করে, মুমিনের ঈমানও তদ্রুপ মুমিনকে এরুপ কাজ থেকে বিরত রাখে৷ সুতরাং, ঈমান থাকা অবস্থায় আল্লাহর শত্রুদের প্রতি অনুকুল মনোভাব পোষণ অসম্ভব৷ যদি কেউ অনুভব করেন যে তার ভিতর এই মনোভাবের ঘাটতি রয়েছে , তাহলে বুঝতে হবে যে, তার ঈমানে গলদ রয়েছে৷’ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: “হে মুমিনগণ ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি তাদের প্রতি মমতা পোষণ করছো, অথচ তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে”৷ (৬০:১)
৫ কাফিরদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ
কাফিরদের সঙ্গে কেউ একাত্মতা প্রকাশ করলে সন্দেহাতীতভাবে সে কাফিরদের মিত্রে পরিণত হয়ে যায়৷ ৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন : “যারা ভ্রষ্টতা করে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করোনা, অন্যথায় অগ্নি তোমাদের স্পর্শ করবে, এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনই রক্ষক নেই, এবং তোমরা সাহায্যও প্রাপ্ত হবে না”৷
আল কুরতুবি বলেন, ‘কোন কিছুর প্রতি একাত্মতা প্রকাশের অর্থ হল তার ওপর নির্ভর করা এবং সমর্থনের জন্য তার দারস্থ হওয়া এবং এভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরী করা যা তোমাকে তুষ্টি দেয়৷’
কাতাদাহ্ বলেন, ‘এই আয়াতের অর্থ হল, কোন মুসলিমের পক্ষেই কাফিরদের পছন্দ করা কিংবা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা সঙ্গত নয়৷’ যারা চিন্তা-ধারণায় পরিবর্তনশীলতাকে ভালবাসে এবং ধর্ম-বিদ্রোহীতায় উত্সাহী তারা দু’ধরণের ; তারা হতে পারে কাফির অথবা পুরোপুরি মুরতাদ৷ আর এর নির্ধারণ সাহচর্যের মাধ্যমেই তৈরী হয়; অর্থাত্ একজন কাফিরের বন্ধু কাফির, এবং একজন মুরতাদ বা অবাধ্যের বন্ধু আরেকজন অবাধ্য৷
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) নবীকে (সঃ) উদ্দেশ্য করে বলেন : “আমি আপনাকে অবিচলিত না রাখলে আপনি তাদের দিকে ঝুকেই পড়তেন প্রায়; আর তা হলে অবশ্যই আমি আপনাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ এবং পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম; তখন আমার বিরূদ্ধে আপনি কোন সাহায্যকারী পেতেন না”৷ (১৭:৭৪-৭৫) আমাদের এটি মনে রাখতে হবে যে, এভাবে সৃষ্টির সেরা নবীকে (সঃ) যে রকম ধমকের সুরে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এ ব্যাপারে সম্বোধন করেছেন, সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা কিরকম হতে পারে৷ (মুজমুআত তাওহীদ )
৬. কাফিরদের কুফরি বিশ্বাসের প্রশংসা- প্রশস্তি
কাফিরদের কুফরি বিশ্বাসের প্রশংসা- প্রশস্তি করার মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: “তারা ইচ্ছা পোষণ করে যে, আপনি তাদের সঙ্গে এক ধরণের সমঝোতায় (ধর্মীয় বিষয়ে সৌজন্যতা সহকারে) আসেন, সুতরাং তারাও আপনার সঙ্গে সমঝোতা করবে”৷ (৬৮ : ৯) যখন মুসলিমরা কাফিরদের শক্তিমত্তায় অনেক বেশি শক্তিশালী দেখতে পায় তখন তারা তা দেখে বিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং এটি তাদের মনে এই ধারণার জন্ম দেয় যে, কাফিররা তাদের থেকে সর্বদিক থেকেই শ্রেষ্ঠতর : সুতরাং তারা কাফিরদের মুকাবিলায় তাদের দ্বীনের শিক্ষা পরিত্যাগ করে, এবং এভাবে তারা বিচ্যুত হয়ে পড়ে, এই ভয়ে যে, পাছে লোকে তাদের ‘ফ্যানাটিক’ বলে৷ নবী (সঃ) এরকম লোক দেখে উলেখ করেছেন, “তোমরা সেই জাতিসমূহের অনুসরণ করবে যারা তোমাদের পূর্বে ছিল, এবং অনুসরণ করবে শিরায়-শিরায়, রন্ধ্রে-রন্ধ্রে, এমনকি তারা যদি তোমাদের গোখরে সাপের গর্তেও নিয়ে যায়, তোমরা তার অনুসরণ করবে৷ আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! (আপনি কি বুঝাতে চান) ইহুদী এবং খৃষ্টানদের ? তিনি বললেন, ‘তারা ছাড়া আর কে’ ? কাফিরদের এই অতিতোষণের ফাঁদটি শয়তান সুকৌশলে পেতে রেখেছে যাতে করে শয়তান মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে, মুসলিমদের শয়তানের পক্ষ থেকে পেতে রাখা এই অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙিক্ষত ফাঁদ থেকে সর্তকতার সঙ্গে দূরে থাকতে হবে এবং তাকে আত্মসচেতন হতে হবে৷ আর তাকে এই জ্ঞান দিতে হবে যে, আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে আল্লাহর পথে অটল থাকলে সে-ই টিকে থাকবে এবং মূলতঃ সে-ই হবে শক্তিশালী৷
৭. কাফিরদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা
কাফিরদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা তাদের সাথে মৈত্রী বন্ধনের নিদর্শক৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন: “হে মুমিনগণ ! তোমাদের আপনজন ব্যতীত অন্য কাউকেও অনরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না৷ তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করবে না ; যা তোমাদের বিপন্ন করে তাই তারা কামনা করে ৷ তাদের মুখে বিদ্বেষ প্রকাশ পায় এবং তাদের হৃদয় যা গোপন রাখে তা আরো গুরুতর ৷ তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি, যদি তোমরা অনুধাবন কর ৷” (৩;১১৪) এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল মুসলিমদের সেই দল সম্পর্কে যারা মুনাফিক এবং ইয়াহুদিদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রাখত, কেননা সে সময়ে তারা (মুনাফিক ও ইয়াহুদি) তাদের (মুসলিমদের ) প্রতিবেশী ও বন্ধু ছিল ৷ আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করে মুসলিমদের কাফির-মোনাফিকদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করলেন৷ অন্তরঙ্গতা শব্দটি দ্বারা বিশ্বাস ও আস্থার নৈকট্য বুঝানো হয়৷ পৃথিবীতে বরাবরই এমন কিছু লোক থাকে যারা মানুষের কাছে অন্যদের থেকে বেশি বিশ্বস্ত হয়৷ মুসলিমরা যেন কাফিরদের অন্তরঙ্গ ও বিশ্বস্ত মনে করে প্রতারিত না হতে পারে সে লক্ষেই আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) মুসলিমদের কাফিরদের আসল রূপটি পূর্বেই উন্মোচিত করলেন৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন, ‘তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে কিছু মাত্র পিছপা হবে না’৷ রাসূলের সময়ে কাফিররা মুসলিমদের সম্পর্কে যা কিছু আবিষ্কার করতো তা-ই বাকি সকল কাফিরদের মাঝে রটিয়ে দিতো৷ আবু দাউদে বর্ণিত আছে, নবী (সঃ) বলেন, “একজন ব্যক্তির দ্বীন তার সহচর বন্ধুদের মতই হয়ে থাকে, সুতরাং তোমাদের যে কেউ যেন সতর্ক হয় কাকে সে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে৷”
৮. কাফিরদের অনুগত হওয়া
কাফিরদের ইচ্ছা-আকাংখার আনুগত্য তাদের সঙ্গে মৈত্রীর আরেকটি নিদর্শন৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন “আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না”। (১৮:২৮)
এবং “হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর তবে তারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরিয়ে দিবে এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে৷” (৩:১৪৯)
আল্লাহ (সুবঃ) আরও বলেনঃ “নিশ্চয়ই শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়৷ যদি তোমরা তাদের কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে৷”(৬:১২১) ইবনে কাছির এই সর্বশেষ আয়াত সম্পর্কে বলেন,যখন অন্যদের কথা মত আল্লাহ এবং তাঁর শরীয়াকে তাদের বক্তব্যের সমপর্যায়ে নিয়ে আসা হয় তখনই তা শির্ক হয়ে যায়৷ এটি এই আয়াতেও প্রতিয়মান হয়, “তারা (ইহুদী ও খৃষ্টানরা) তাদের রাব্বী ও সন্নাসীদের আল্লাহর পাশে তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে”
৯. কুরআন তাচ্ছিল্যকারীদের সঙ্গে একত্রে বসা
কাফিরদের সঙ্গে বসলে যখন তারা কোরানকে তাচ্ছিল্য করে তখন তাদেরই দলভুক্ত হতে হয়৷ আল্লাহ আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করেছেন৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন: “কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি তো অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে, আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তাকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে তখন যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হবে তোমরা তাদের সাথে বস না, অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে৷ মুনাফিক এবং কাফিরদের তো আল্লাহ জাহান্নামে একত্র করবেন৷” (৪:১৪০)
ইবনে জারীর আত তাবারী ব্যাখ্যা করেন যে, এর অর্থ হল এই যে, যদি আপনি তাদের এ কাজ করতে দেখেন এবং এ সম্পর্কে কিছুই না বলেন, তখন এটি সুস্পষ্ট হয় যে , আপনার আনুগত্য তাদের জন্য যা আপনাকে তাদের মত করে দেয়৷ তিনি আরো বলেন,এই আয়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি পরিষ্কার ভাবে কাফিরদের ধর্মদ্রোহী যাবতীয় কর্মকান্ডে বসার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷
অনুরূপভাবে নবী (সাঃ) বলেন,”যারা ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত তাদের বাড়ী যেও না, অন্যথায় তোমরা অনুরূপ দুর্ভাগ্যের জন্য ক্রন্দন করবে, নতুবা তা(দুর্ভাগ্য) তাদের কাছে যেভাবে এসেছে তোমাদের কাছেও অনুরূপভাবে আসবে৷”(বুখারী)
১০. মুসলিমদের উপর কাফিরদের কতৃত্ব প্রদান
মুসলিমদের উপর কাফিরদের কতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে মুসলিমদের কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতায় আবদ্ধ হতে বাধ্য করা হয় ৷ কেননা কতৃত্বশীল কাফিরদের প্রতি আনুগত্যের কারনে তাদের কুফরী কর্মকান্ডের বিরোধিতা করা মুসলিমদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে৷ আর তাদের কর্তৃত্ব মেনে নেয়ার অর্থ হল তাদের পদ মর্যাদার প্রতি স্বীকৃতি জ্ঞাপন করা যা ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে কোন ক্রমেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়৷ আল্লাহ বলেনঃ “এবং কখনই মু’মিনদের বিরূদ্ধে কাফিরদের জন্য কোন পথ রাখবেন না৷” (৪:১৪১)
১১. কাফিরদের উপর বিশ্বাস স্থাপন
কাফিরদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার অর্থ হল তাদেরকে নিজেদের মিত্র বা বন্ধু মনে করা৷ অথচ, স্বয়ং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন “কিতাবিদের মধ্যে এমন লোক আছে যে, বিপুল সম্পদ আমানত রাখলেও ফেরত দিবে, আবার এমন লোকও আছে যার নিকট একটি দিনারও আমানত রাখলে তার পিছনে লেগে না থাকলে সে ফেরত দিবে না, তা এ কারণে যে, তারা বলে,’ নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নেই’৷ এবং তারা জেনেশুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে৷” (৩:৭৫)
১২. কাফিরদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করা
কাফিরদের কার্যক্রমের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করা, তাদের পোষাকের অনুসরণ কিংবা তাদের লেবাস ও ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের লেবাসের ষ্টাইল পরিবর্তন করা_এই জিনিসগুলি তাদের সঙ্গে মিত্রতার বিষয়টিকে পরিষ্কার করে৷(মুজমুআত তাওহীদ)
১৩. কাফিরদের কাছে টানা ও কাফিরদের সাহচর্যে আনন্দ অনুভব করা
তাদের কাছে নিজেদের অন্তর্নিহিত অনুভূতি ব্যক্ত করা, তাদেরকে কাছে টানা এবং তাদের সম্মান করা তাদের সঙ্গে মৈত্রী বন্ধনেরই পরিচয় বহন করে৷ (মুজমুআত তাওহীদ)
১৪. কাফিরদের ভ্রষ্টতার কাজে কোন কিছু দিয়ে সহযোগিতা করা
তাদের ভ্রষ্টতায় সাহায্য করা কিংবা সাহায্য যুগিয়ে তাদের উত্সাহিত করার অর্থ হল নিজেকে তাদের মিত্রে পরিণত করা৷ কুরআন দুটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছে, একটি হল লূত (আঃ) এর স্ত্রী সংক্রান্ত এবং অপরটি নূহ্ (আঃ) এর স্ত্রী সম্পর্কিত৷ লূত (আঃ) এর স্ত্রী তার শহরের লোকদের লূত (আঃ) এর বিরূদ্ধে সমর্থন যুগিয়েছিল এবং লূত (আঃ) এর লোকদের দুর্দশায় উৎফুল্ল হয়েছিল; এমনকি লূত (আঃ) এর অতিথিদের সম্পর্কে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল৷ অনুরূপ ঘটনা নূহ্ (আঃ) এর স্ত্রীর ক্ষেত্রেও সংঘটিত হয়েছিল৷ (তাফসীর ইবনে কাছীর)
১৫. কাফিরদের উপদেশ-পরামর্শ চাওয়া
কাফিরদের উপদেশ পরামর্শ শ্রবণ করা, তাদের উচ্চ আসনে আসীন করা কিংবা তাদের বন্দনা করা (মুজমু’আত তাওহীদ) তাদের সঙ্গে মিত্রতার কতিপয় নিদর্শন যা বর্তমান সময়ে বেশি করে পরিলক্ষি হচ্ছে৷ ইতোমধ্যে আমরা প্রাচ্যবাদী দার্শনিকদের উত্থান লক্ষ করেছি৷ এরা অতি চাতুর্যের সঙ্গে অনুসন্ধিৎস ও গবেষণার এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবী করেছে৷ এই তত্ত্বের অনুসরণে এরা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতিক্রিয়াশীল, পুরনো যুগের ফসিল ও পুরাতাত্তিক নিদর্শনের লেবেল এঁটে দিয়ে তথাকথিত প্রগতি ও সভ্যতার নতুন যুগের ঘোষণা দিয়েছে৷ আর এভাবে অতি চাতুর্যের সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের এরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে৷
১৬. কাফিরদের সম্মান করা
কাফিরদের বেশি বেশি সম্মানিত করা এবং নির্বোধের মত বিশাল বিশাল টাইটেলে ভূষিত করা তাদের প্রতি মিত্রতা প্রর্দশনেরই নামান্তর৷ আমরা লক্ষ্য করি, কিছু লোক তাদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রকাশের ভঙ্গি হিসাবে তাদের সঙ্গে দেখা করার সময় তাদের সিনায় হাত রাখে; কেউবা আনুগত্যের নমুনা স্বরপ তাদের মাথার হ্যাট নামিয়ে রাখে৷ সব কাফিরদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ তো দূরের কথা তাদের হৃদয়ে এদের (কাফিরদের)সম্পর্কে ভীতির সঞ্চার হওয়া উচিত ছিল৷(হামুদ আত তাবিজরি) আল্লাহ (সুবঃ) বলেন : “যারা মু’মিনদের পরিবর্তে কাফিরদের আউলিয়া (রক্ষাকারী,সাহায্যকারী,বন্ধু)হিসাবে গ্রহণ করবে, তারা কি তাদের কাছে ইজ্জাত অন্বেষণ করে ? নিঃসন্দেহে সকল ইজ্জাত আল্লাহরই”৷ (৪:১৩৯)
প্রকৃতপক্ষে এই কাফিররা মুসলিমদের থেকে যা প্রাপ্য তা হল ভয়াবহ সমালোচনা এবং তাচ্ছিল্য৷ এটা বর্ণিত আছে যে,নবী (সাঃ) আমাদেরকে তাদের সংবর্ধিত করার উদ্যোগ নিতেও নিষেধ করেছেন৷ তিনি বলেন: “তোমরা তাদের সালাম দিয়ো না (ইহুদী ও খৃষ্টানদের) এবং যখন তোমরা তাদের সঙ্গে রাসায় সাক্ষাৎ কর, তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণ পাশ দিয়ে যেতে বাধ্য কর” ৷ (মুসলিম )
১৭. কাফিরদের সঙ্গে বসবাস করা
কাফিরদের আবাসস্থলকে বসবাসের জন্য সাব্যস্ত করা এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটানোও তাদের মিত্রে পরিণত হওয়ার শামিল৷ নবী (সঃ) বলেন, “যে-ই কাফিরদের সাথে যোগ দেয় এবং তাদের মাঝে বসবাস করে সে তাদেরই একজন৷” (আবু দাউদ) এবং “কাফিরদের সঙ্গে বসবাস করনা কিংবা তাদের সঙ্গে যোগ দিও না : যে-ই তাদের সঙ্গে বসবাস করে কিংবা তাদের মাঝে বাস করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়৷” (আল-হাকিম)
১৮. কাফিরদের সঙ্গে জোগসাজস করা
কাফিরদের সঙ্গে জোগসাজস করা, তাদেরকে বিভিন্ন স্কীমে সাহায্য করা, তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া, তাদের পক্ষ হয়ে গোয়েন্দাগিরি করা, মুসলিমদের সম্পর্কে তাদের তথ্য দেয়া কিংবা তাদের কোন পদে অধিষ্ঠিত থেকে যুদ্ধ করা এগুলো সবই তাদের মিত্রদের কাজ৷ বর্তমান মুসলিম বিশ্ব এখন সব থেকে নিকৃষ্ট যে অসুখে ভুগছে এটি সেগুলোর অন্যতম৷ এটি পুরো প্রজন্মকে নষ্ট করেছে, এবং শিক্ষা থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ সরকারের সকল পর্যায়কে কলুষিত করেছে৷
মিশরে ইংরেজ দখলদারির শেষে মুহাম্মদ কুতুব বলেছিলেন, “সাদা ইংরেজরা চলে গেছে কিন্তু বাদামী ইংরেজরা এখনো আমাদের সঙ্গে বিদ্যমান৷ মুসলমানদের পশ্চাত্যীকৃত সন্তানেরা আজ মুসলিম বিশ্বের প্লীহায় রূপ নিয়েছে৷ তারা তা-ই সম্ভব করেছে যা আল্লাহর শত্রুরা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি যে তারা সম্ভব করতে পারবে৷ কিন্তু এতে তারা সফলকাম হবে না৷”
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন,” আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে”৷ (৩৭:১৭১-১৭৩)
১৯.মুসলিমদের ঘৃণা এবং কাফিরদের ভালবাসা
যারা ইসলামের পবিত্রভূমি থেকে কাফিরদের ভুমিতে পলায়ন করে, তাদের চিন্তাধারা-ধ্যানধারণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, তারা মূলতঃ তাদেরই বন্ধু যাদের কাছে তারা গিয়েছে৷ ( আর রিদ্দাহ বাইনা আল-আমস ওয়াল ইয়াওম)
২০.কাফিরদের মতাদর্শকে সমর্থন করা
যারা সেক্যুলার রাজনীতি, কমিউনিজম, সোশালিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি মতাদর্শের পিছে দৌড়ায় এবং এই মতাদর্শগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, তারাও মূলতঃ তাদেরই বন্ধু যাদের শরণাপন্ন তারা হয়েছে৷ (আর রিদ্দাহ বাইনা আল-আমস ওয়াল ইয়াওম)

 



শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৩

আশুরাঃ তাওহীদের বিজয় ও শুকরিয়া জ্ঞাপন দিবস


আশুরাঃ তাওহীদের বিজয় ও শুকরিয়া জ্ঞাপন দিবস !!!

12 November 2013 at 18:49
আশুরা আরবি শব্দ, যার অর্থ দশম। এ দিনটি হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখ অর্থাৎ দশম দিবস, ফলে এর নামকরণ করা হয় আশুরা। এই দিনটি হলো তাগুতের উপর রিসালাতের বিজয়ের দিবস, শির্কের উপর তাওহীদের বিজয়ের দিবস ! এই দিনেই আল্লাহ্‌ সুবহানু ওয়া তা‘আলা মুসা (আঃ) কে ফিরাউন ও তার বাহিনীর উপর বিজয় দান করেছিলেন। ফলে মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীরা এই দিবসটিতে মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলার শুকরিয়া দিবস হিসেবে রোজা পালন করে করেছেন! রাসুল (সঃ) মদিনা আসার পর মুসা (আঃ) অনুসরণে এই দিনে আল্লাহর শুকরিয়া পালন সরূপ রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন । তখন থেকেই মুসলিমগন শির্কের উপর তাওহীদের ঐতিহাসিক এই বিজয় দিবসটিকে শুকরিয়া দিবস হিসেবে রোজা রাখার মাধ্যমে পালন করে আসছে।  ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত-
রাসুল (সঃ) মদিনায় আসার পরে দেখতে পেলেন ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। নবীজি বললেন-‘এটি কি (দিবস) ?‘ তারা বলল- ‘এটি একটি ভাল দিন। এদিনে আল্লাহ্‌ বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে রক্ষা করেছেন। তাই (শুকরিয়া স্বরূপ) মুসা (আঃ) রোজা রেখেছেন ।‘ তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন- ‘মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।‘ অতঃপর তিনি (এই দিবসে) রোজা রেখেছেন এবং (সকলকে) রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। [বুখারি]

গুরুত্ব ও ফজিলতঃ
আশুরার দিবসে রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ একটি আমল। রাসুল (সঃ) এই দিনে রোজা রাখতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
‘আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে রোজা রাখার জন্য এতোটা অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যতটুকু দেখেছি এই আশুরার দিন ও রমজান মাসের রোজার প্রতি।‘ [বুখারি]

রাসুল (সঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে আশুরার রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। যারা এদিনে রোজা থাকেনি তাদেরকেও বাকি দিবস না খেয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই না, সাহাবিগণ (রাঃ) তাঁদের ছোট ছেলে-মেয়েদেরকেও এদিবসে রোজা পালনের অভ্যাস করাতেন। রুবাঈ বিনতে মুয়াওয়াজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
“রাসুলুল্লাহ (সঃ) আশুরার দিন ভোরে মদিনার নিকটবর্তী আনসারদের মহল্লায় খবর পাঠালেন যে- ‘তোমাদের মধ্যে যে এদিবসের শুরু থেকে রোজা আছে সে যেন তা পূর্ণ করে, আর যে রোজা না থেকে খাওয়া-দাওয়া করে ফেলেছে সে যেন দিনের বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকে।‘ বর্ণনাকারী বলেন- একথা শুনার পর আমরা রোজা রাখলাম এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের ছোট ছেলে-মেয়ে দেরকেও রোজা রাখালাম । আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। বাজার থেকে খেলনা কিনে দিতাম। যখন খাবার চাইতো তখন তাদের হাতে খেলনা তুলে দিতাম, যেন তারা খাবারের কথা ভুলে গিয়ে রোজাটি পূর্ণ করতে পারে। “ [মুসলিম]

তাছাড়া আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ সমূহের কাফফারা সরূপ। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন-
‘আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী একবছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন।‘ [মুসলিম] 

আশুরার রোজার বিধানঃ
আশুরার রোজা ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এটি সুন্নত। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ-
“ জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করতো এবং রাসুলুল্লাহ (সঃ)ও রোজা রাখতেন । যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখন তিনি এ রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার আদেশ দিলেন। যখন রমাজান মাসের রোজা ফরয হল তখন তিনি আশুরার রোজা সম্পর্কে বললেন- যার ইচ্ছা আশুরার রোজা রাখবে , আর যার ইচ্ছা ছেড়ে দিবে।“ [বুখারি, মুসলিম]

জমহুর আলেমগণের মতে নিম্নোক্ত নিয়মে এ রোজা পরিপালন করা যায়:-

প্রথমতঃ আশুরার আগে-পরে দুইদিন ও আশুরার দিনসহ মত তিন দিন রোজা রাখা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এটিকে উত্তম ও আশুরার রোজার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এমতের সমর্থনে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত একটি মারফু রয়েছে, যেখানে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
‘তোমরা আশুরার দিবসে রোজা রাখো এবং এক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের ব্যতিক্রম ও বিরুদ্ধাচরণ করো, তাই আশুরার আগের দিন ও পরের দিনও তোমরা রোজা রাখো।‘ [সুনান আল কুবরা]

দ্বিতীয়তঃ মুহাররমের নবম ও দশম তারিখে রোজা রাখা। রাসুল (সঃ) মুহাররমের নয় তারিখেও রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন-
‘যদি আমি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে অবশ্যই মুহাররমের নয় তারিখ রোজা রাখবো।‘ [মুসলিম]

তৃতীয়তঃ শুধু দশম দিবসে রোজা রাখা। কেননা রাসুল (সঃ) থেকে সকল বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি আশুরা উপলক্ষে শুধুমাত্র দশম দিনেই রোজা রেখেছেন। তাই কেউ শুধু দশম দিনে রোজা রাখলেও আশুরার পরিপূর্ণ বরকত ও ফযিলত পেতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ্‌ !

বিভ্রান্তির বেড়াজালে আশুরাঃ
রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর ইন্তেকালের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে হিজরি ৬১ সনে এই দিনে কারবালার ময়দানে জান্নাতি যুবকদের নেতা, রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) শাহাদাত বরন করেন। ইসলামের ইতিহাসে মুসলিম উম্মাহর জন্য যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) যে আশুরা পালন করেছেন ও যে আশুরা পালন করতে উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন, তার সাথে কারবালার এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। কারবালার এই দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হবার পর রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাহাবাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), আনাস ইবনে মালেক (রাঃ), আবু সাইদ খুদরি (রা), জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ), সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ), যায়েদ ইবনে আকরাম (রাঃ), সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) সহ আরো বহু সংখ্যক সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) জীবিত ছিলেন। তাঁরা কেউই কারবালার ঘটনার কারনে আশুরার দিবসের কোন গুরুত্ব-তাৎপর্য বর্ণনা করেননি কিংবা কোন আমলও সাব্যস্ত করেননি। অথচ কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজের একদল লোক এ দিনটিকে শোক, তাজিয়া ও মাতম দিবস হিসেবে পালন করে। তারা এই দিবসটিকে শুধুমাত্র হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এব্যাপারে তাদের ব্যাপক প্রচারণার কারনে অনেক সাধারণ মুসলিমও বিভ্রান্ত হয়ে এমন ধারনা পোষণ করে থাকে। যেমনঃ আশুরা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যেসব ফিচার লেখা হয়, সেখানে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর মৃত্যু তথা কারবালার ঘটনাকেই বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়। এসব ঘটনা পড়লে মনে হতে পারে কারবালার ঘটনার পরেই বুঝি আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সাব্যস্ত হয়েছে। যা মোটেই সঠিক নয় । 
কারবালার এই ঘটনাকে আশুরার তাৎপর্য ও ইবাদাতের সাথে সম্পৃক্ত করার কোন সুযোগ নেই । আশুরা দিবস হলো মূলতঃ শির্কের উপর তাওহীদের বিজয়ের দিবস, যা মুসা (আঃ) এর সময় থেকেই পালিত হয়ে আসছে। তাছাড়া স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সঃ) এই দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করে গেছেন এবং এ দিবসে কি করনীয় তাও সাহাবীদেরকে শিখিয়ে গেছেন। অথচ হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর মৃত্যুরও প্রায় পঞ্চাশ বছর পর। তাই হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাত তথা কারবালার ঘটনাকে আশুরা দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও আমলের সাথে সম্পৃক্ত করা সম্পূর্ণরূপে সুন্নাহ পরিপন্থী।

এই দিনে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাত স্মরণে যে তাজিয়া মিছিল, মাতম ও শোকর‍্যালি, বুক চাপড়ানো, বিলাপ করা, পোশাক ছিঁড়ে ফেলা , শরীর রক্তাক্ত করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে তার সাথে যেমন আশুরার গুরুত্ব-তাৎপর্যের কোন সম্পর্ক নেই, ঠিক তেমনিভাবে শরিয়তের কোন ইবাদাতের সাথেও এর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটি একটি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি । আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- "যে ব্যাক্তি গালের উপর চপেটাঘাত করলো, জামার বুক চিরে ফেললো, এবং জাহেলি যুগের মতো চিৎকার দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" [বুখারি, মুসলিম]

উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেন-
"রাসুলুল্লাহ (সঃ) বাইয়াত গ্রহণকালে আমাদের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছেন- আমরা যাতে মৃত ব্যাক্তির জন্য শোক প্রকাশ করতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চশব্দে কান্নাকাটি না করি।" [বুখারি, মুসলিম] 

রাসুল (সঃ) কারো জন্ম বা মৃত্যু দিবস অথবা শাহাদাত দিবস পালন করেননি। এমনকি তাঁর একান্ত নিকটস্থ প্রিয় সাহাবিদের শাহাদাতের খবর তাঁর নিকট পৌঁছার পরও তিনি কখনোই মাতম, শোক, তাজিয়া, মুরছিয়া এসব করেননি। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সাহাবায়েকেরামও (রাঃ) এ ধরনের কোন আমল করেননি। আবু হুরায়ারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত- 
রাসুল (সঃ) বলেন- "মানুষের মধ্যে দুটি বিষয় কুফুরি বলে গণ্যঃ বংশ তুলে গালি দেওয়া আর মৃত ব্যাক্তির জন্য উচ্চ শব্দে বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। [মুসলিম] 

তাছাড়া মৃত কিংবা শহীদ যে কারোর জন্যই তিনদিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়।  উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
"মৃত ব্যাক্তির জন্য আমাদেরকে তিনদিনের বেশি শোক করতে নিষেধ করা হয়েছে, শুধুমাত্র স্বামী মারা গেলে স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।"  [বুখারি]

কারবালার ময়দানে হুসসাইন ইবনে আলী (রাঃ) শাহাদাত বরন করেছেন আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে। কাজেই এতো বছর পর তাঁর জন্য শোক পালন করা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নির্দেশের সুস্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ !  অতএব,  কারবালার ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে, কোনভাবেই একে আশুরার গুরুত্ব-ফজিলত ও ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে না। 

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে প্রচলিত এমন আরও কিছু বিভ্রান্তি- “এই দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদম (আঃ) কেও এই দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। নুহ (আঃ) প্লাবন এই দিনে হয়েছিল এবং এই দিনেই ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিলো। মুসা (আঃ) এই দিনে তূর পাহাড়ে গিয়ে তাওরাত লাভ করেছিলেন। এই দিনে ইব্রাহিম (আঃ) নমরুদের আগুন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই দিনে রাসুল (সঃ) এর মিরাজ হয়েছে এবং এ দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এই দিনেই কিয়ামত হবে...“ ইত্যাদি বিভ্রান্তি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যদিও এসবের পক্ষে কোন সঠিক ও বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই।

আশুরার শিক্ষাঃ
  • হক বাতিলের চিরন্তন সংঘাতে হকের বিজয় নিশ্চিত এবং আল্লাহর সাহায্য হকপন্থিদের জন্য অবধারিত। এ বাস্তবতা আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে এবং বিশ্বাসে পরিণত করতে হবে।
  • আশুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দিবস যাতে কেবল রোজা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা ইবাদাত পালনের শরয়ী বৈধতা বা মর্যাদা নেই।
  • আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় লাভ করার পর তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। শুকরিয়া আদায় কেবল মৌখিক বিষয় নয়। শুকরিয়া আদায় করতে হবে অবনত চিত্তে, বিগলিত অন্তরে, সিজদাবনত অবস্থায়। শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম একটি উপায় হচ্ছে রোজা। মুসা (আঃ) রোজা রাখার মাধ্যমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সঃ)ও এ কাজটিকে সমর্থন করেছেন।
  • কারবালার ইতিহাস স্মরণে আশুরা পালনের নামে যে সকল মাতম, মর্সিয়া, তাজিয়া, শরীর রক্তাক্ত করা সহ যা কিছু করা হয় এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো পরিহার করে চলা ও অন্নদেরকে পরিহার করার আহবান জানানো রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সুন্নাহ বাস্তবায়নের জন্য সকল মুমিনের ঈমানী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।


মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে যাবতীয় বিদআত, কুসংস্কার ভ্রান্তও-ধারনা বর্জন করে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আশুরাকে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।



  •   ভাই, কাউকে নিশ্চিতভাবে শহীদ বলার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে অহি প্রয়োজন! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তিনি অহি প্রাপ্ত হয়ে বলে দিয়েছেন! কিন্তু এখন যেহেতু নবীজি নেই আর কারো পক্ষে অহিপ্রাপ্ত হওয়াও সম্ভব নয়, তাই কারো পক্ষেই এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে: অমুক শহীদ আর অমুক শহীদ না! তবে আল্লাহর রাস্তায় কোন মুমিন মুসলিমের মৃত্যু লক্ষণ দেখে আমরা আশা করতে পারি যে: আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন!
    "...তাদেরকে মৃত বলোনা বরং তারা জীবিত " [2:154] - এই আয়াতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন! এসংক্রান্ত সবগুলো আয়াত এবং হািদসগুলি একসাথে করলে বুঝা যাবে এখানে দুনিয়ার জীবনের কথা বলা হয়নি! কেননা দুনিয়ার জীবনে প্রত্যেককেই মৃত্যুবরণ করতে হবে! এখানে বলা হয়েছে মৃত্যু পরবর্তী বার্জাখের জীবনের ব্যাপারে, আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হয় তারা বার্জাখের জীবনে সবুজ পাখির বেশে জীবিত এবং জান্নাত থেকে নিয়মিত রিজিক প্রাপ্ত, যা আমরা বুঝতে পারিনা!
     
    'যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারোনা।'' [ সুরা বাকারাহঃ ১৫৪]
    উক্ত আয়াতের অর্থ অনুধাবনের জন্য রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর একটি হািদসঃ-
    ''শহীদদের আত্মাগুলি সবুজ রঙয়ের পাখীদের দেহের ভিতরে রয়েছে এবং তা
    রা জান্নাতের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়, অতঃপর তারা ওইসব প্রদীপের উপর এসে বসে যা আরশের নীচে ঝুলানো রয়েছে। তাদের প্রভু তাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেনঃ 'এখন তোমরা কি চাও?'
    উত্তরে তারা বলেঃ হে আমাদের প্রভু আপনি তো আমাদেরকে ওইসব জিনিস দিয়েছেন যা অন্য কাউকেই দেন নি। সুতরাং এখন আর আমাদের কোন জিনিসের প্রয়োজন হবে?
    তাদেরকে পুনরায় একই প্রশ্ন করা হয়...
    তখন তারা বলেঃ হে আমাদের প্রভু আমরা চাই যে আপনি আমাদেরকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমরা আপনার পথে আবার যুদ্ধ করে পুনরায় শাহাদাত বরন করে আপনার নিকট ফিরে আসবো। এর ফলে আমরা শাহাদাতের দ্বিগুণ মর্যাদা লাভ করবো।
    আল্লাহ তা'আলা তখন বলেনঃ এটা হতে পারে না। আমি তো এটাই লিখে দিয়েছি যে, কেউই মৃত্যুর পর আর দুনিয়ায় ফিরে যাবে না।" [ মুসলিম ]
  •  

সুদকে বর্জন কর


আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘুসনা করেছে আজ অনেক মুসলিম!!

"ও ঈমানদার মুসলিমরা সুদকে বর্জন কর""৷ আর যদিতা না কর তাহলে জেনে নাও আল্লাহ আর আল্লাহর রাসুলের সাথে যুদ্ধ গুসনার কথা"""{২:২৭৮/২৭৯}
তাফসীরে ইবন কাসীরে বলেছেন আখিরাতে ওই বেক্তিদের যারা সুদে লেনদেন করেছে ওদের জিবরাইল আ তলবারী দিয়ে বলবেন যাও আল্লাহর সাথে যুদ্ধ কর,ওই যুদ্ধ যেইটার ঘুসনা তুমি দুনিয়াতে দিয়েছিলে.. ওরা করা? ওরা আপনার আমার মত মানুষ যারা সুদে লেনদেন করেছে ৷

নবী (সা) বলেছেন যখন উনাকে জান্নাত এবং জাহান্নামের সফরে নেওয়া হয়েছিল তখন উনি দেখলেন, কিছু মানুষ যাদের পেট বিশাল ঘরের সমান এবং পিটার ভিতর বড় বড় সাপ এবং সাপ গুলু বার বার ওই বেক্তিকে ভিতর থেকে কামর দিচ্ছে..তখন রাসুলআল্লাহ জিবরাইল আ কে জিজ্ঞাস করলেন কে এই বেক্তি? উনি বললেন ওরা সুদ নিয়ে লেনদেন করেছে এবং সুদের মাল খেয়েছে ৷
(আহমেদ/ ইবন মাজা)

আর অন্য হাদিসে নবী (সা) বলেছেন আমি দেখলাম কিছু মানুষ রক্তের নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং যখনই নদী সাতরিয়ে উঠার চেষ্টা করে তখনই একজন ফিরিস্ত ওই লুকদের মখের উপর বড় পাথর দিয়ে মেরে আঘাত করেন, তখন ওই বেক্তি ডুবে আবার সমান জায়গায় চলে যায়..আমি জিবরিলকে জিজ্ঞাস করলাম ওরা কে? জিবরীল বললেন ওরা শুধে লেনদেন করত এবং শুধের মাল খেত ৷
(সহিহ বুখারী, ২.৪৬৮)

আজ মুসলিমদের অবস্তা দেখে আফসোস হয় যে দুনিয়ার কিছু লাভের জন্য আজ আমরা আমাদের আখিরাত নষ্ট করে ফেলছি, আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘুসনা করেফেলছি..
আজ অনেকেই পড়া লেখার জন্য কেও বেবসার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে সুদে পয়সা লোন আনছে আবার কেও কিস্তিতে বাড়ি বা ফ্লাট কিনার জন্য সুদের মত জঘন্য হারামে লিপ্ত হছ্চে যা বর্জন না করলে আল্লাহর থেকে ওয়াদা করা হয়েছে জাহান্নাম..

যারা যেই কোনো কারণে সুদে লিপ্ত আছেন ওদের মনে রাখা উচিত আল্লাহ চাইলে দুনিয়াতেও সাজা দিতে পারেন আখিরাতেও দিবেন..সুদে লিপ্ত হওয়ার কোনো অজুহাত নাই !!

আল্লাহ যেন আমাদের এবং আমাদের পরিবারকে সুদের মত জঘন্য হারাম থেকে হিফাজত করেন..এবং আমাদের বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করেন আমীন !! 




বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৩

ভারতের দেওবন্দ নিয়ে দস্তার রাজদরবারের



ভারতের দেওবন্দ নিয়ে দস্তার রাজদরবারের ঐতিহাসিক স্ট্যাটাস এবং আমার প্রথম নোট

23 October 2013 at 19:40
দস্তার রাজদরবারের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় আনুমানিক ৫ বছর আগে বুয়েটের সেন্ট্রাল মসজিদে, সেখানে তার সাথে আমার প্রথম পরিচয়। বেশি জটিল কথা বলা দস্তারকে প্রথমে আঁতেল ভাবলেও পরে টের পেয়েছিলাম কি ধরনের ট্যালেন্ট সে। সে তার ছোট্ট বক্তব্য দিয়ে আমাকে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল ভারতে মুসলমানরা কিভাবে হিন্দুদের দ্বারা নিপীড়িত হচ্ছে এবং হিন্দুরা কতটুকু জঘণ্য চরিত্রের অধিকারী।

গত পরশুদিন রাতে সেই দস্তার রাজদরবারের একটি স্ট্যাটাস (https://www.facebook.com/rajdarbaar/posts/648405118538220) আমার নজরে আসে। হিন্দুদের সর্বদা বাশদাতা দস্তার এ স্ট্যাটাসটিতে অতিপরিচিত একটি মুসলিম জনগোষ্টীকে তথা দেওবন্দীদেরকে হিন্দু বলে দাবি করেছে। দস্তার রাজদরবারের সেই ঐতিহাসিক স্ট্যাটাসটির বিষয় নিয়েই আমি আজ আমার প্রথম নোট লিখব। আর আমার লেখা প্রথম নোট হিসেবে এটা আমার কাছে অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ভারতের মুসলমানদের ইতিহাস বীরত্ব গাথা। শিহাবুদ্দিন ঘোরী কিংবা মুহম্মদ বিন ক্বাসিম রহমতুল্লাহির ইতিহাস তা সত্য বলে প্রমাণ করে। সামান্য সৈন্যবাহিনী নিয়ে কিভাবে উনারা এ উপমহাদেশে কর্তৃত্ব লাভ করেছেন তা আজও আমরা গর্বের সাথে স্মরণ করি। অনুরূপ দেখা যায় দস্যু ব্রিটিশদের আমলেও। সেই সময় প্রায় সবগুলো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল মুসলমানদের মাধ্যমে। সিপাহি বিপ্লব,  মহিশুরের শাসক হযরত টিপু সুলতান রহমতুল্লাহির যুদ্ধ, বালাকোটে ইংরেজসহযোগী শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, বাশেরকেল্লায় হযরত মীর শহীদ তীতুমীর রহমতুল্লাহির যুদ্ধ এরকম আরো বহু ইতিহাস পাওয়া যাবে সেই সময়কার বীর মুসলমানদের কীর্তি থেকে।

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, দেশভাগ হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে। জনসংখ্যার দিক থেকে যদিও এখন মুসলমানরা এখানে হয়েছে সংখ্যাগুরু (ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও আফগানিস্তান মিলে) হয়েছে কিন্তু তারপরও অবধারিতভাবে মার খেয়ে যাচ্ছে তারা।

দেখুন!! যেখানে স্পেনে একটা খ্রিস্টান মেয়ে ধর্ষিত হয়েছিল বলে তার প্রতিশোধ তুলতে তারিক বিন যিয়াদ রহমতুল্লাহির নেতৃত্বে  সেখানে গিয়েছিল মুসলমানরা। কিন্তু সেই মুসলমানরাই আজ ভারতে নিজের মেয়ে ধর্ষিত হলেও তা চোখ-মুখ মুজে সহ্য করে।
যেখানে শিবাজীর প্রার্থনায় তার পিতাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল বাদশাহ শাহজাহান সেখানে আজ গুজরাট, কাশ্মীর, অযোধ্যা, মুজাফফরনগর আর হায়দ্রাবাদে মুসলমানদের কচুকাটা করলেও মুসলমানরাই তার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে একত্র হতে পারে না।

আমার ইতিহাসের বহর দেখে আপনার বিরক্ত হতে পারেন, কিন্ত আমি আজ আপনাদের সামনে সত্যি কথাটাই তুলে ধরব কি কারণে মুসলমানরা আজ এ উপমহাদেশে নির্যাতিত, নিপীড়ত এবং দুর্বল হয়ে রয়েছে। কেন ভারতে একটি বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী  থাকার পরও তারা জেগে উঠতে পারছে না। (২০১০ সালে ভারতের ১১৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে সরকারি হিসেবে মুসলমান সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ কোটি, কিন্তু বেসরকারি হিসেবে শুধু উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আসামে অর্থ্যাৎ মাত্র ৪ প্রদেশে মুসলমান সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি, তাহলে বাকি ২৪টি প্রদেশে কত মুসলমান রয়েছে? এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকার মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে কতবড় লুকোচুরি করছে)

সময়ে সময়ে মুসলমানদের বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল মুসলমান ভেকধারী মুনাফিকরা। উহুদ যুদ্ধে উবাই বিন সুলুল তার অধিনস্ত সেনাবাহিনী নিয়ে সটকে পড়েছিল, যার কারণে মুসলমানরা সাময়িক বিপর্যয়ে পড়ে যায়।
পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফর সটকে পড়ায় হেরে যায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার। বাংলা চলে যায় ব্রিটিশ করায়ত্ত্বে।
ঠিক তেমনি বর্তমানেও ভারতের মুসলমানদের মধ্যে রয়ে গেছে সেই মুনাফিক গোষ্ঠী, যাদের কারণেই এ অঞ্চলে বিশাল জনগোষ্ঠীর মুসলমানরা শত নিপীড়ন সত্ত্বেও জাগতে পারে না, পারে না জিহাদ করে মুক্ত হতে।

হা আপনারা ঠিক ধরেছেন মুসলমানদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই মুনাফিক হচ্ছে দেওবন্দ গোষ্ঠী বা দারুল উলুম দেওবন্দ তথা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নামক দলটি। জানি আপনারা এ বক্তব্য শুনে অনেকে আমার উপর ক্ষেপে যাবেন, কিন্তু মনে রাখবেন, সত্য কথা তিতা হয়, এবং সত্য মেনে নেয়াই মুসলমানের ধর্ম।

১) দারুল উলুম দেওবন্দ গোষ্ঠী সর্বদাই অখণ্ড ভারতে বিশ্বাসী। তারা মন থেকে মেনে নেয়নি মুসলিম ভূমি পাকিস্তানের সৃষ্টি। হুসাইন আহমদ মাদানি দেশভাগের সময় ঘুড়ে ঘুড়ে বাসায় বাসায় গিয়ে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে মিথ্যা একাত্বতার কথা বলেছিল। এই দারুল উলুমের প্রচেষ্টার কারণে ভারত নামক হিন্দু রাষ্ট্রের মধ্যে একটি বিশাল মুসলিম জনগোষ্টী আটকা পড়ে যায়। সোভিযেত ইউনিয়ন যেমনি ভাগ হয়ে ৬টি আলাদা মুসলিম রাষ্ট্রের  জন্ম দিয়েছিল, ঠিক তেমনি ভারত বিভক্তের সময় বেশি কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্রের (যেমন কাশ্মীর, আসাম, হায়দারাবাদ) জন্ম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ গোষ্ঠীটির বিরোধীতা এবং ইসলামের নামে ফতওয়ার কারণে তা হতে পারেনি। যার ফল এখন ভোগ করছে ভারতের মুসলমানরা। তাদের প্রতিদিন প্রতিনিয়ত কষ্ট পেতে হচ্ছে হিন্দুদের কাছ থেকে।

২) কংগ্রেসের সাথে গাট বাধে তারা। ইসলামে তো নারী নেতৃত্ব জায়িজ নেই সেখানে তারা ইসলামের নাম দিয়ে নারী নেতৃত্ব গ্রহণ করলো, তাও  আবার  এক হিন্দু মহিলার (ইন্দিরা গান্ধী)!!! এটা তারা জায়িজ পেলো কোথায়।
আর পবিত্র কুরআনের সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা যেখানে নিজেই বলেছেন: “নিশ্চয়ই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী, অত:পর মুশরিক।” সেখানে যারা সারা বছর মাদ্রাসায় পড়ে এবং পড়ায় তারা কিভাবে ইসলামের নাম দিয়ে হিন্দুদের সাথে তারা বন্ধুত্ব করতে পারে??


৩) জোর করে কাশ্মীরকে আটকে রেখেছে হিন্দুত্ববাদী ভারত। মুসলমানদের মেরে কেটে একাকার করছে তারা। সারা বিশ্ব এই নিপীড়নের নিন্দা করলে, এর পক্ষে উল্টো সাফাই গেয়েছে বিবেকহীন দেওবন্দীরা। তারা বলেছে এই কাশ্মীর নাকি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।  (http://www.indianexpress.com/news/kashmir-an-integral-part-of-india-deoband-clerics/695747/)। শুধু তাই না ভারতে মুসলমানরা এত নির্যাতিত হওয়ার পরও তারও তারা বলেছে ভারতে মুসলমানদের জিহাদ করার কোন দরকার নেই। তারা উগ্রহিন্দুত্ববাদী বিশ্বহিন্দুপরিষদের অনুরোধে ভারতকে দারুল আমান বলে ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে জিহাদের কোন প্রয়োজন নেই। ((http://www.hindustantimes.com/India-news/No-jihad-in-India-says-Darul-Uloom-Deoband/Article1-382288.aspx)। তাদের এ ভুল ফতওয়ার কারণে কাশ্মীরসহ বিভিন্ন প্রদেশে মুসলমানরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে অনুৎসাহিত হয়ে পড়ে।

৪) মুসলমানদের মসজিদ বাবরী মসজিদ, এই মসজিদকে অন্যায়ভাবে ভাঙল হিন্দু সন্ত্রাসীরা। সাথে সারা ভারত জুড়ে মারলো লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে। হিন্দুদের দাবি: তাদের কল্পকাহিনী রামায়নের মতে বাবরী মসজিদ নাকি রামের জন্মস্থান। এলাহাবাদের সাম্প্রদায়িক হাইকোর্টও রায় দিলো: বাবরি মসজিদের যায়গার তিন ভাগের মাত্র একভাগ পাবে মুসলমানরা, দুই ভাগ পাবে অন্যরা। বলাবাহুল্য এ রায়ের পর মুসলমানদের প্রতিবাদ করা ফরজ হয়ে পড়ে। কিন্তু দেওবন্দরা তখন উল্টো বললো: “মুসলমানদের এই রায় শ্রদ্ধার সাথে মেনে নেয়া উচিত। ”
(http://www.indianexpress.com/news/respect-ayodhya-verdict-darul-uloom-deoband/682444)


৫) মহান আল্লাহ তায়ালা হিন্দুদের কাফিরা বললেও দেওবন্দরা তাদের কাফির বলতে নারাজ। এই ফতওয়া কিন্তু তারা কোন কুরআন হাদীস ঘেটে দেয়নি, দিয়েছে হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সন্ত্রাসী অশোক সিংহোলের অনুরোধে। (http://timesofindia.indiatimes.com/india/Hindus-cant-be-dubbed-kafir-says-Jamiat/articleshow/4179187.cms?intenttarget=no)

৬) ভারতে গরু কুরবানী আইন-২০০৪ অনুসারে একজন মুসলমান গরু কুরবানী করলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড হতে পারে, একই সাথে ১০ হাজার রুপি জরিমানা হবে। এটা অবশ্যই মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং মুসলমাদের উপর ভারত হিন্দু সরকারের জুলুম। কিন্তু এখানে দেওবন্দরা এর প্রতিবাদ করতে পারত, কিংবা সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে তারা চুপ থাকত। কারণ হাদীস শরীফ অনুসারে ঈমানের স্তর তিনটি: ১) অন্যায় দেখলে হাতে বাধা দেয়া, দুই মুখে বাধা দেয়া, তিন খারাপ জেনে সরে আসা। এরপর ঈমানের আর কোন স্তর নেই। কিন্তু দেখা গেলো তারা হিন্দুদের সাথে একত্বতা প্রকাশ করে ফতওয়া দিলো: “গরু কুরবানী করা নাজায়িজ”।
(http://timesofindia.indiatimes.com/india/Eating-beef-is-un-Islamic-if-there-is-ban/articleshow/2986846.cms?intenttarget=no), তারা আরো বলল: হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে আপনারা গরু কুরবানী করবেন না। (http://www.thehindu.com/news/national/article2603964.ece)
বলাবাহুল্য হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি সংরক্ষণের দায়িত্ব হিন্দুদের এবং মুসলমানদেরটা সংরক্ষণের দায়িত্ব মুসলমানের।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই গান্ধীর আমল থেকে হিন্দু গান্ধীর অনুরোধে দেওবন্দরা গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে আসছে। (http://khabar.ibnlive.in.com/news/109892/13) তাহলে তারা কি হিন্দুর অনুরোধে মুসলমানিত্ব বাদ দিয়ে হিন্দু হয়ে গেছে??
উল্লেখ্য ২০১১, ২০১০, ২০০৮, ২০০৭, ২০০৪ সালে তারা সরাসরি গরু কুরবানী করতে বিরোধীতা তার প্রমাণও মিডিয়াতে আছে। (https://www.facebook.com/rajdarbaar/posts/648405118538220)


৭) দারুল উলুম দেওবন্দের ২৯ তম বার্ষিক সভার প্রধান অতিধি হয় মুসলিম বিদ্বেষী রবি শঙ্কর (http://www.youtube.com/watch?v=cYm4sUmvmtw), ৩০ তম সভার প্রধান অতিধি হয় ঠাকুর রামদেব (http://www.youtube.com/watch?v=rCjhoCN3bRA)| )।
কুরআন পাকে আছে ‘মুশরিকরা নাপাক’। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, যারা কুরআনের দোহায় দিয়ে চলে তারাই হিন্দুদের প্রধান অতিথি বানায়, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে।
মনে রাখবেন প্রত্যেকে সমগোত্রীয়দের সাথে চলে, কুকুর চলে কুকুরের সাথে, ছাগল চলে ছাগলের সাথে। কুকুরকে কখন ছাগলের সাথে আর ছাগলকে কখন কুকুরের সাথে ঘুরতে দেখবেন না। তেমননি দেওবন্দের এই খাসলতের কারণ হচ্ছে তারা মুশরিকদের সমগোত্রীয় হয়ে গেছে। বলাবাহুল্য এ্টা যদি কোন সাধারণ শার্ট-প্যান্ট-দাড়িচাছা মুসলমান করতো তবে তাও মেনে নেয়া যেত, কিন্তু দেওবন্দীরা তো মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দাবি করছে, তাই তাদের এ অপকর্ম কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।                                                                                                    

৮) রাশিয়ায় গীতাকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিলে এর প্রতিবাদ করে উঠলো দেওবন্দীরা। (http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2011-12-22/india/30546086_1_darul-uloom-deoband-hindus-muslims) কিন্তু রাশিয়া যখন পবিত্র কুরআন নিষিদ্ধ করলো (http://www.theguardian.com/books/booksblog/2013/oct/08/russian-court-bans-quran-translation) তখন এর প্রতিবাদ স্বরূপ টু শব্দ পর্যন্ত করলো না তারা।

৯) নরখাদক নরেন্দ্র মোদির পক্ষ নিয়েছিল এ দেওবন্দীরা। তারা গুজরাটে মুসলমানদের উপর হিন্দুদের নৃশংস আচরণকে ভুলে যেতে বলে ভারতীয় মুসলমানদের। (http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2011-01-19/india/28371112_1_gujarat-riots-riot-victims-maulana-ghulam-mohammed-vastanvi)। এ বক্তব্যের পর মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে দেওবন্দে ভিসিকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।


১০) ২০০৭ সালের কথা, তসলিমার বিতর্কিত বই ‘দিখণ্ডিত’ নিয়ে যখন কলকাতার মুসলমানরা সরব, তাকে যেন কলকাতায় স্থান না দেওয়া হয় যে জন্য চলছে তুমুল আন্দোলন। ঠিক তখন এই দেওবন্দ মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো। তসলিমার পক্ষে ফতওয়া দিল। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নেতা মৌলানা মেহমুদ মাদানি বলেছিল, "পবিত্র ইসলামেই আছে, কোন ব্যক্তি ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়াই উচিত। তসলিমা যখন ক্ষমা চেয়েছেন, তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়াই ঠিক কাজ হবে। তিনি যেখানে থাকতে চান, সেখানেই তাকে থাকতে দেওয়া হোক।"
সত্যি অবাক বিষয় । তসলিমা ক্ষমা চাইল কবে!!!! সে তো এখন ইসলামের বিরুদ্ধে বলছে। আর নবীজি সম্পর্কে কটূক্তি করায় সে সময় মুরতাদ তসলিমাকে হত্যার ঘোষণা দিয়েছিল এক আলেম (মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড)। কিন্তু সেই আলেম এর বিরুদ্ধে উল্টো ফতওয়া দিলেছিল দেওবন্দী জালেমরা। সে সময় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুখপাত্র কাকি সফিউদ্দিন বলেছিল, “কারও মুন্ডু চাওয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া ইসলামবিরোধী। যদি কেউ এমন দাবি করে থাকেন, প্রমাণ পেলে তাদের বহিস্কার করা হবে।” মুরতাদ তসলিমার পক্ষে সাফাই গাওয়ার অধিকার দেওবন্দীদের কে দিল??? (http://ns.bdnews24.com/bangla/details.php?id=69508&cid=21)


মনে রাখবেন হাড়ির ভাত কিন্তু সব টিপতে হয় না , যদি আজমীরী শরীফের ১২০ মনের হাড়িও হয় তবেও। তাই উপরের আলোচনার পুরোটা দেখার দরকার নাই, সামান্য কিছু দেখলেই যথেষ্ট দেওবন্দীরা কিভাবে হিন্দুদের পক্ষে কাজ করছে।
প্রকৃতপক্ষে দেওবন্দীগোষ্ঠীর কাজ মুসলমানদের হিন্দুদের পক্ষে নিয়ে যাওয়া, মুসলমানদের চোখে হিন্দুদের দোষ ত্রুটি গোপন রাখা, মুসলমানদের হিন্দুভক্ত করে ঈমানীভাবে দুর্বল ও সংখ্যাগত বিভক্ত করা, যাতে তারা হিন্দুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে না পারে।

আজ আমরা যারা মুজাফফরনগরে মুসলিম নারীদের নির্যাতন দেখে চোখের পানি ফেলি, যারা ভারতে হিন্দু যুলুমবাজদের নিপীড়ন দেখে প্রতিবাদ করি, যারা ভারতে হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখি, তাদেরকে বলছি: যতদিন মুসলমান নামধারী মুনাফিকদের চিহ্নিত করে তাদের সমূলে উৎপাটন না করতে পারবেন, ততদিন ভারতের মুসলমানরা এক হবে না, স্বাধীনতাও পাবে না, সময়ের স্রোতে হিন্দুদের দ্বারা অত্যাচারিত হতেই থাকবে। তাই সময় এসেছে এ দেওবন্দ মুনাফিকদের চিহনত করা এবং তাদের প্রতিহত করা। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। (আমীন)

(বি:দ্র: দয়া করে অন্ধ দেওবন্দ ভক্তরা আমার নোটে তালগাছবাদী কমেন্ট করবেন না, নূনতম জ্ঞান নিয়ে বা পড়ালেখা করে এখানে কমেন্ট করার আহ্বান জানাচ্ছি)




রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৩

সউদী রাজ পরিবারের প্রকৃত পূর্বপুরুষ



এই সউদী রাজ পরিবারের প্রকৃত পূর্বপুরুষ কে?

৮৫১ হিজরী সনের কথা। আল-মাসালিক সম্প্রদায়ের একদল লোক একটি কাফিলা তৈরি করে ইরাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আল-মাসালিক ছিল আনজা গোত্রের শাখা। এই কাফিলার উদ্দেশ্য ছিল ইরাক থেকে খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করে এনে নজদে সরবরাহ করা। সেই কাফিলার প্রধান ছিল শামী-বিন-হাতলুল। কাফিলা যখন বসরায় পৌঁছে, তখন খাদ্যশস্যের এক ইহুদী বড় ব্যবসায়ীর সাথে দলের লোকজন সাক্ষাৎ করে। সেই ইহুদী ব্যক্তিটি ছিল মোরদাখাই বিন ইব্রাহীম বিন মোসেহ। কোন কোন প্রাচীন ইতিহাসে ইহুদী মোরদাখাইকে মানি বিন রাবিয়া আল মুরাইদি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোরদাখাই-এর বংশধরেরা ম্রুদা গোত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেই ইহুদী ব্যবসায়ীর সাথে দর কষাকষির সময় ইহুদী ব্যক্তিটি প্রশ্ন করে “আপনারা কোথা থেকে এসেছেন?” উত্তরে তারা বলেন, আমরা আনজা গোত্রের এবং আল-মাসালিক সম্প্রদায়ভুক্ত। আল মাসালিক সম্প্রদায়ের কথা শুনেই সেই ইহুদী ব্যবসায়ী আল-মাসালিক সম্প্রদায়ের উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত হয়ে মুয়ানাকা করতে শুরু করে এবং বলে সেও মূলত আল-মাসালিক সম্প্রদায়ের তবে সে বসরায় এসে বসবাস করছে। তার পিতার সঙ্গে আনজা গোত্রের কয়েকজন সদস্যের ঝগড়া বিবাদের ফলে সে এখন বসরায়।

এই বানানো গল্প বলার পর পর সে-ই ইহুদী ব্যবসায়ী তার ভৃত্যকে সমস্ত গম, খেজুর, অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যসমূহের বস্তা উটের পিঠে চড়াতে বললো। সেই সুদূর ইরাকে আনজা গোত্রের এবং আল-মাসালিক সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সম্প্রদায়ের একজন এত উদার ব্যক্তি পেয়ে বেশ গর্ব অনুভব করলো। তারা সেই ইহুদীর সকল কথাই বিশ্বাস করলো। যদিও সে মাসালিক সম্প্রদায়ের ছদ্মবেশে ছিল একজন ইহুদী। কিন্তু খাদ্যশস্যের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হওয়াতে সে সহজেই সবার কাছে বিশ্বস্ত হতে পেরেছিল।

যখন সেই কাফিলা খাদ্যশস্য বোঝাই করে নজদের (বর্তমান রিয়াদ) উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে সে সময় সেই ইহুদী ব্যবসায়ী তাদের কাফিলার সঙ্গী হতে চাইলো। সে তার মাতৃভূমিতে ফিরে যাবার জন্যে আকুল ইচ্ছা প্রকাশ করলো। তার এই অভিপ্রায়ের কথা শুনে কাফিলার সবাই তাকে চরম উৎসাহে অভিনন্দন জানালো। সেই ছদ্মবেশী ইহুদী, কাফিলার সাথে নজদে এসে উপস্থিত হল।
নজদে এসে শুরু হয় তার ভিন্ন রকমের কার্যকলাপ। সে তার নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে নিজের সম্পর্কে অনেক প্রোপাগান্ডা শুরু করে এবং ধর্মীয় অনেক বিষয়ে নিজের মনমত ফতওয়াও দিতে থাকে। সেই সুবাদে কিছু ভক্তও জুটিয়ে ফেলে। কিন্তু সে সময় আল-কাসিমে বসবাসরত একজন বড় আলিম ও বুযূর্গ ব্যক্তি হযরত শায়খ সালেহ সালমান আব্দুল্লাহ আল তামিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক সেই ইহুদী বাধাগ্রস্ত হয়। মুসলমানের ছদ্মবেশে সেই ইহুদীর প্রচারিত বহু ফতওয়ার বিরুদ্ধে তিনি চরম প্রতিবাদ করেন। হযরত শায়খ সালেহ সালমান আব্দুল্লাহ আল তামিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি নজদ, ইয়েমেন এবং হিজাজেও তালিম দান করতেন। উনার প্রচেষ্টায় সেই ইহুদীকে (বর্তমান সউদী রাজ পরিবারের পূর্ব পুরুষ) আল-কাসিম থেকে আল-ইহসাতে বিতাড়িত করেন। নতুন এলাকায় এসে এই ইহুদী (মোরদাখাই) তার নাম পরিবর্তন করে হয় মারক্বান বিন দিরিয়া এবং আল-কাতিফের নিকট বসবাস শুরু করে। সেখানে এসে, সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঢাল সংক্রান্ত একটা মিথ্যা গল্প প্রচার করা শুরু করে।

গল্পটা এ রকম- “মক্কার কাফিরদের সাথে মুসলমানদের যখন উহুদ পাহাড় প্রান্তে যুদ্ধ হয়, সেই উহুদের যুদ্ধে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি ঢাল মুবারক এক কাফিরের হস্তগত হয়। পরবর্তিতে সেই কাফির ব্যক্তি সেই ঢাল মুবারক বিক্রি করে দেয় ইহুদীদের বনু-কুনাইকা গোত্রের কাছে যা তারা পবিত্র সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে আসছে। এভাবে সে ইসলাম ধর্মের প্রতি ইহুদীদের ধর্মীয় সহানুভূতির কথা বোঝাতে চাইতো। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবেও সে নিজের অবস্থান বেদুইনদের মধ্যে শক্ত করে নেয়। সে মুসলমানের ছদ্মবেশে ইহুদীদের পক্ষে কাজ করতে থাকলো। ইহুদী মোরদাখাই বা মারক্বান বিন দিরিয়া আল-কাতিফের নিকট দিরিয়া শহরে বসবাস শুরু করে। সে মনে মনে আরব ভূখণ্ডে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উচ্চাশা পোষণ করতো। তার আশা পূরণের লক্ষ্যে, মূল পরিকল্পনা গোপন করে আরব বেদুইনদের তার পক্ষ সমর্থনের জন্য আবেদন নিবেদন করতে থাকে এবং নিজেই সেখানকার স্ব-ঘোষিত রাজা বলে দাবি করে। তার এই অপচেষ্টাকালে, আরবের আজামান গোত্র এবং বনু খালিদ গোত্র একত্রে এই ইহুদীর আসল পরিচয় পেয়ে তার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা দিরিয়া আক্রমণ করে দখল করে নেয়। কিন্তু সেই সুচতুর ইহুদী সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

বর্তমান সউদী রাজপরিবারের পূর্বপুরুষ এই ইহুদী মোরদাখাই বা মারক্বান বিন দিরিয়া আল-আরিদের নিকট আল মালিবিদ-গুশাইবা নামক একটি খামারে আশ্রয় গ্রহণ করে। বর্তমানে একে বলা হয় আল-রিয়াদ। এই ইহুদী সেই খামারের মালিকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। সেই খামারের মালিক ছিল অত্যন্ত দয়ালু একজন মানুষ, সে তখনই তাকে আশ্রয় দান করেন। কিন্তু এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই সেই কুচক্রী দুষ্ট ইহুদী, খামারের মালিকসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করে। কিন্তু সে প্রচার করে তারা লুটেরা কর্তৃক নিহত হয়েছে এবং সে খামার দখল করে নেয়। সে দিরিয়া নামক যে স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছিল সেই নাম অনুসারে এই স্থানেরও নাম আল-দিরিয়া রাখে। (কিছু সত্য গোপন করে কোন কোন ইতিহাসে লেখা আছে- ৮৭৩ হিজরী (কাছাকাছি) অর্থাৎ ১৪৪৬ সালের দিকে ইহুদী মোরদাখাইয়ের ম্রুদা গোত্র দিরিয়া নামক স্থানে বসবাস করতে থাকে। আসলে মোরদাখাই পরিবারই ম্রুদা গোত্র নামে পরিচিত। ইহুদী মোরদাখাই সেখানে তার আত্মীয় ইবনে দির কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে আল-রিয়াদে বসবাস শুরু করে বলেও কথিত আছে। ইবনে দির ছিল সেখানকার শাসক এবং বহু ক্ষেত-খামারের অধিকারী। বলা হয়, ইবনে দির তাকে আল মুলাইবিদ এবং গুশাইবা নামে দুটি খামার দান করে; যা সে পরবর্তিতে আল-দিরিয়া নামে নামকরণ করে।)

বর্তমান সউদী রাজপরিবারের পূর্বপুরুষ সেই ইহুদী মোরদাখাই সেখানে “মাদাফ্ফা” নামে একটি অতিথিশালা খুলে এবং তার চারপার্শ্বে কিছু মুনাফিক জড়ো করে। সেই মুনাফিকরা প্রচার করতো এই ইহুদী হচ্ছে একজন বড় আরব বণিক। সেখান থেকে সে তার মূল শত্রু হযরত শায়খ সালেহ সালমান আব্দুল্লাহ আল তামিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং আল-যালাফি নামক শহরের একটি মসজিদে উনাকে শহীদ করে। হযরত আব্দুল্লাহ আল তামিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর শাহাদাতের পর মোরদাখাই নিজেকে যথেষ্ট মুক্ত ও নিরাপদ মনে করে সেই দিরিয়া গ্রামে বসবাস করতে থাকে। ইহুদী মোরদাখাই সেখানে অনেক বিয়ে করে এবং তার সকল সন্তানের সে আরবীয় নাম রাখে। তার বংশধররা সেখানে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং পরবর্তিতে সউদী সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত হতে থাকে। তার বংশধররাও আরবজাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে থাকে। তারা অনেক কৃষিক্ষেত্র অবৈধভাবে দখল করে নেয় এবং যারাই তাদের দুষ্ট পরিকল্পনার বিরোধিতা করতো তাদের তারা হত্যা করতো। তারা তাদের সাফল্যে পৌঁছবার লক্ষ্যে গোপনে বিভিন্ন প্রকার দুরভিসন্ধি প্রয়োগ করেছিল। যারা এই ইহুদী পরিবারের সঠিক ইতিহাস বলতে বা লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলো তাদেরকেই ঘুষ প্রদান করা হয়েছিল। বিশেষত সেই এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নারী ও অর্থের মাধ্যমে প্রলোভিত করে দমিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রচুর অর্থের বিনিময়ে তাদের কলঙ্কিত ইতিহাস মুছে ফেলে তাদের বংশানুক্রম বিখ্যাত আরব গোত্র রাবিয়া, আনজা এবং আল-মাসালিকের সাথে সম্পৃক্ত প্রমাণ করে তাদের ইতিহাসকে বিশুদ্ধ করতে চেয়েছিল।

সউদি পরিবারের পূর্বপুরুষ যে ম্রুদা গোত্রের এ ব্যাপারে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। প্রচলিত আছে যে, তারা প্রাচীন রাবিয়া গোত্রের বিশেষত ‘ওয়াইল’-এর শাখা। কিন্তু যে বিষয়ে সব ইতিহাসে বিতর্ক আছে তা হচ্ছে সউদীরা ওয়াইলের কোন শাখার? বহু ঐতিহাসিক এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নজদের অধিবাসীরা বনু হানিফা গোত্রের যারা নজদ (বর্তমান রিয়াদ) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে জোর দিয়ে বলতে চায় তারা হচ্ছে আনজা নামক বড় বেদুইন গোত্রের। নজদে বসবাসরত অন্যান্য আনজা গোত্রের পরিবারের মত তথাকথিত ম্রুদা গোত্রের কোন লিখিত বা মৌখিক তথ্যও নেই যে ম্রুদা আনজা গোত্র থেকে মাইগ্রেশন করে নজদে আসে।

বর্তমান সময়ের একজন চরম পর্যায়ের মুনাফিক হচ্ছে আমিন আল তামিমি, যে সউদী আরবের জাতীয় লাইব্রেরীর ডাইরেক্টর। সে সউদী আরবের এই ইহুদী শাসকগোষ্ঠীর বংশ তালিকা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বংশের সাথে সম্পৃক্ত করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। তার এই মিথ্যা জালিয়াতি কর্মের জন্য ১৯৪৩ সালে মিশরে নিযুক্ত সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত ইব্রাহীম আল-ফাদেলের কাছ থেকে আমিন আল তামিমি ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) হাজার মিশরীয় পাউন্ডে পুরস্কৃত হয়।

সউদী রাজ পরিবারের পূর্বপুরুষ ইহুদী মোরদাখাই বহু আরবী মহিলাকে বিয়ে করে এবং তাদের ঘরে বহু সন্তানের জন্ম হয়। সেই একই ধারাবাহিকতা বর্তমান সউদী রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও প্রচলিত আছে। (সউদী আরবের বাদশাহ আব্দুল আজিজের চুয়াল্লিশ জন ছেলে এবং অগণিত কন্যা সন্তান। বাদশাহ সউদের ছিল বায়ান্ন জন পুত্র এবং চুয়ান্ন জন কন্যা) ইহুদী মোরদাখাই-এর এক পুত্রের নাম ছিল আল-মারাক্বান কারো মতে আল মুক্বরিন। মূলত তার নাম আরবীকরণ করা হয়েছিল ইহুদী নাম মেকরেন থেকে। সেই মেক-রেন বা আল মারাক্বান বা আল মুক্বরিন এর এক পুত্র ছিল মুহম্মদ (মুহম্মদ বিন মুক্বরিন) এবং তার এক পুত্রের নাম ছিল সউদ (সউদ বিন মুহম্মদ)। সেই সউদ থেকে হয়েছে সউদী রাজবংশের নাম। সউদের বংশধরগণ বিশেষত সউদের পুত্র মুহম্মদ বিন সউদ আরবের বিভিন্ন গোত্র প্রধানদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা প্রচার করতো যে, সকল আরব ধর্মীয় নেতারা মুরতাদ হয়ে গেছে এবং তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরে গেছে। বিভিন্ন গোত্রের নেতারা ধর্মের নামে শিরকে মশগুল- এই অজুহাতে অনেক মুসলমানকে শহীদ করা হয়।

সউদী রাজ পরিবারের নিজস্ব ইতিহাসবিদ দিয়ে রচিত The history book of Saudi familyi ৯৮ থেকে ১০১ পৃষ্ঠার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে যে, সউদী বংশের সবাই নজদের সকল অধিবাসীদের মুরতাদ, কাফির মনে করতো। ফলে তাদের হত্যা করা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, তাদের মহিলাদের দাসীতে পরিণত করাকে জরুরী বলে মনে করতো। মূলত সে সময় নজদের প্রধান মুহম্মদ বিন সউদ ছিল ওহাবী আক্বীদা দ্বারা বিভ্রান্ত।

সউদী বাদশাহ ফয়সাল (শাসনকাল ১৯৬৪-৭৫) ওয়াশিংটন পোস্টের সাথে (১৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯) এক সাক্ষাতকারে বলেছে, “আমরা সউদ পরিবার হচ্ছি ইহুদীদের চাচাতো ভাই। আর তাই আমরা যে কোন আরব বা মুসলিম শাসকদের সাথে সম্পূর্ণরূপে ভিন্নমত পোষন করব ইহুদীদের সাথে কোনরূপ শত্রুতার ব্যাপারে। আমরা চাই তাদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে।

আরও তথ্যের জন্য এই ফাইলটি ডাউনলোড করুন
http://www.mediafire.com/?4fcap8fodzfrn7u

সূত্র: তুর্কি ভাষায় রচিত উসমানীয় খিলাফতের বীর সৈনিক হযরত মুহম্মদ আইয়ূব সাবরী পাশা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর “মিরাত আল হারামাইন” কিতাব থেকে বেশীরভাগ তথ্য নেয়া।
1. http://islamic-intelligence.blogspot.com/2009/10/are-saudi-royal-family-jewish.html
2. http://aangirfan.blogspot.com/2011/11/jewish-control-of-saudi-arabia.html
3. http://www.terrorism-illuminati.com/blog/2002-iraqi-intel-reported-wahhabis-are-jewish-origin

In Picture: Haim Weizman (left) and Prince Feisal, 1918
.