রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

ভারতের একটি চলচ্চিত্র ‘মায়া’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে যখন কোন মেয়ের মাসিক শুরু হয়, তখন তার পরিবার সে উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে পাঁচ ছয়টি ব্রাহ্মণ পুরোহিতে মন্দিরে একটি বেদীর ওপর বসিয়ে পালাক্রমে সঙ্গম করে। একে কেন্দ্র করে মন্দিরচত্বরে মেয়েটির পরিবার বড় করে খাবারদাবারের আয়োজন করে এবং তার কন্যাকে গণসঙ্গমের জন্য ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

এ বিষয়টি নিয়ে ভারতের একটি চলচ্চিত্র রয়েছে ‘মায়া’ নামে। সেখানে মায়া নামক মেয়েটিকে পুরোহিতরা মন্দিরের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করছিল আর মেয়েটি চিৎকার করছিল। মেয়েটির চাচাত ভাই বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে যখন মন্দিরের দরজা ধাক্কাতে থাকে, তখন তার বাবা তাকে ধরে মার দেয়, যেহেতু সে পুরোহিতদের ‘কাজে’ ব্যাঘাত ঘটালে ‘পারিবারিক সম্মান’ নষ্ট হবে।

মেয়েটিকে ধর্ষণ করে পবিত্র করা হচ্ছিল, আর বাইরে চলছিল ভুঁড়িভোজ। ভারত অনেক আগে থেকেই ধর্ষণের দেশ, মন্দির থেকে বেশ্যালয় সেখানে ধর্ষণে ধর্ষণে একাকার। নীচে মায়া সিনেমার উক্ত অংশটির ভিডিও দেয়া হলো। ১৪ মিনিটের ভিডিও। http://www.youtube.com/watch?v=3JsRkfEjdos


 সম্প্রতি একটি খবরে প্রকাশিত হয়েছে, ভারতে চলন্ত ট্রেনে চারঘন্টা ধরে ৯৪ জন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছে ট্রেনে উপস্থিত পুঙ্গবরা।

চিন্তা করুনতো পাঠকরা, একটি নয়, দুটি নয়, ৯৪টি মেয়েকে ট্রেনে চারঘন্টা ধরে মোলেস্টেড করার পরও একটি লোকও তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে ভিড়ের মাঝে এগুলো হয়, কিন্তু তা গোপনে। প্রকাশ্যে একটি মেয়ের স্তনসহ অন্যান্য জায়গায় হাতড়ানো হবে, আর মানুষ তা চেয়ে চেয়ে দেখবে। এটা কি এদেশের কোন মুসলমান কল্পনা করতে পারে?

ইউটিউবে একটি ভিডিও রয়েছে, যেখানে ভারতে শতশত মানুষের সামনে একটি মেয়ের বুকে হাত দেয়ার পর টানাটানি করে তার পায়জামা পর্যন্ত খুলে নেয়া হয়েছে। https://www.youtube.com/watch?v=o5jYHXeb2-o

আমরা কল্পনাও করতে পারিনা, কিন্তু আমাদের হিন্দু প্রতিবেশীরা সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে সক্ষম। মন্দিরে ভিড়ের মধ্যে মেয়েদের কোন জায়গায় হাত দেয়াটা জানি হিন্দুদের একটি রেওয়াজ!

কিন্তু তারপরও এসব হিন্দুদের কাছেই আপনাকে গালি শুনতে হবে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন খবরাদি খুটিয়ে খুটিয়ে বের করবে মুসলমানদের খোঁচানোর জন্য। বিপরীতে মুসলমানরা কিছুই করতে পারবে না, যেহেতু হিন্দুরা তাদের প্রতি যে পরিমাণে বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা হিন্দুদের প্রতি তার ধারেকাছেও করেনা। ফলে হিন্দুদের মতো ঘৃণা উগড়ে দেয়াটা তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। যদিও হিন্দু কেন, তাবৎ কাফিরগোষ্ঠীকে পঁচানোর মত মালমশলার কিন্তু অভাব নেই

ভারতীয় মেয়েরা ঋতুবতী হলে মন্দিরে ধর্ষণের অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে মেয়েরা গর্ভ ভাড়া দেয় সাদা চামড়ার নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে। সেখানে ৬০কোটি লোক খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করে।

চায়নায় একসন্তান নীতির কারণে যেসব ভ্রুণের গর্ভপাত হয়, তাদের দিয়ে সুপ বানিয়ে খায় তারা। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের অধিকাংশ লোকই মানুষের গোশত খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

কিন্তু এগুলো নিয়ে মুসলমানরা কখনো আলোচনা করবেনা। আমাদের হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও কন্যাশিশু জীবন্ত কবর দেয়াটাকে ধিক্কার জানিয়েছেন, কিন্তু আমরা উনার উম্মত দাবি করে হিন্দুদের অসভ্য কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারিনা। উল্টো তারা যখন আমাদের ওপর সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপবাদ দেয়, আমরা যেন শামুকের মত খোলসের মধ্যে গুটিয়ে যাই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রণীত দ্বীন ইসলাম তথা অন্যায়ের প্রতিবাদমূলক দ্বীন ইসলাম নয়, বরঞ্চ অন্যায়কারীর বেত সহ্য করতে পিঠে ছালা বাঁধাটাই হলো বর্তমান সময়ের বাঙ্গালী মুসলমানদের কথিত ‘ইসলাম’।

পরিশিষ্ট: সম্প্রতি দক্ষিণভারতে ধর্ষণ অনুষ্ঠান নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে একজন ব্যক্তি স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে কমেন্ট করল। সে উল্লেখ করল, তাদের ভাল ব্যবহারের কারণে তাদের হিন্দু বন্ধু মুসলমান হয়েছে। সুতরাং তাদের অপকর্ম নিয়ে বলাবলি করাটা ঠিক নয়।

ব্যস, সাথে সাথে কমেন্টে লাইকের ফুলঝুরি ছুটল।

এসব লোকগুলো ভুলে যায় যে, আবু জেহেলকে কিন্তু শত মিষ্টি কথাতেও মুসলমান বানানো যায়নি। আর হিন্দুদের মধ্যে আবু জেহেলের সংখ্যাই কিন্তু বেশি। সেগুলো না দেখে একটি দুটি হিন্দুর মুসলমান হওয়ার কাহিনীকে কেন্দ্র করে বাঙ্গালী মুসলমান আবেগে আপ্লুত হয়। এবং এধরণের মানসিকতার জন্যই তারা পদে পদে মার খায়।




সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


 

SaveFrom.net

কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার বন্ধন প্রমাণ করে এমন ২০টি নিদর্শন

কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার বন্ধন প্রমাণ
করে এমন ২০টি নিদর্শন, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১.কাফিরদের উপর সন্তুষ্ট থাকা
২.কাফিরদের উপর নির্ভরতা
৩. কুফরির কোন বিষয়ে একমত পোষণ
৪. কাফিরদের সান্নিধ্য অণ্বেষণ
৫ কাফিরদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ
৬. কাফিরদের কুফরি বিশ্বাসের প্রশংসা-
প্রশস্তি
৭. কাফিরদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ
করা
৮. কাফিরদের অনুগত হওয়া
৯. কুরআন তাচ্ছিল্যকারীদের সঙ্গে একত্রে বসা
১০. মুসলিমদের উপর কাফিরদের কতৃত্ব প্রদান
১১. কাফিরদের উপর বিশ্বাস স্থাপন
১২. কাফিরদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করা
১৩. কাফিরদের কাছে টানা ও কাফিরদের
সাহচর্যে আনন্দ অনুভব করা
১৪. কাফিরদের ভ্রষ্টতার কাজে কোন কিছু
দিয়ে সহযোগিতা করা
১৫. কাফিরদের উপদেশ-পরামর্শ চাওয়া
১৬. কাফিরদের সম্মান করা
১৭. কাফিরদের সঙ্গে বসবাস করা
১৮. কাফিরদের সঙ্গে জোগসাজস করা
১৯.মুসলিমদের ঘৃণা এবং কাফিরদের ভালবাসা
২০.কাফিরদের মতাদর্শকে সমর্থন করা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ লিঙ্ক কমেন্টে : http://gurabamedia.wordpress.com/2012/04/11/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0/  

১.কাফিরদের উপর সন্তুষ্ট থাকা
কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার প্রথম ধরণটি হল কাফিরদের উপর সন্তুষ্ট থাকা বা তাদের কুফরি কর্মে রাজি-খুশি থাকা এমনকি তাদের স্বীকৃত কুফরি কর্মকে প্রত্যাখানের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া বা সন্দেহ পোষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত৷ সহজ কথায়, কাফিরদের কুফরি কর্মকান্ডের যে কোন বিষয়ের স্বীকৃতি-ই কুফরি হিসেবে গণ্য হবে৷ এটি খুবই স্পষ্ট যে, কাফিরদের যে সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাদের সঙ্গে চলাফেরা- উঠাবসা করে সে তো তাদেরই একজন৷ এ বিষয়ে আলেমদের সর্বসম্মত মত হল, যে কাফিরদের কিংবা তাদের কুফরী কর্মকান্ডকে ভালবাসে সে-ও কাফির৷ কেননা, হৃদয়ের ভালবাসা এবং ঘৃণা এমন দুটি জিনিস যা নিখাঁদ বা খাঁটি হলে স্বীয় বিশ্বাস-চিন্তা-চেতনা থেকে বিচূ্যত হয়ে এদিক সেদিক যেতে পারে না৷ এ অর্থে কাফিররা স্বভাবতঃই কুফরি ভালবাসবে এবং ঈমানদারগণ ঈমান ভালবাসবেন৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: ‘যদি তারা আল্লাহ, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস রাখত, তবে তারা কখনোই তাদেরকে (কাফিরদের) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না (রক্ষাকারী এবং সাহায্যকারী হিসেবে), কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক (বিদ্রোহী, আল্লাহর অবাধ্য)৷ (৫: ৮১)
২.কাফিরদের উপর নির্ভরতা
কোন ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার জন্য কিংবা নিরাপত্তার খাতিরে কাফিরদের উপর নির্ভর করাও কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার পরিচয় বহন করে ৷ এটি কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতার দ্বিতীয় নির্দশন৷
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই বলে এ সম্পর্কে নিষেধ করেনঃ “মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে”। (৩:২৮)
এবং “হে মুমিনগণ ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু৷ তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে৷ নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না”৷ (৫ : ৫১)
ইবনে তাইমিয়া তার বর্ণনায় হুবহু অনুরূপ বাক্যগুলির উলেখ করে অতিরিক্ত আরেকটি আয়াতের উলেখ করেছেন:”যদি তারা আল্লাহ , নবী এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ন হয়েছে তাতে বিশ্বাস রাখতো তবে তারা কখনোই তাদেরকে (কাফিরদেরকে) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না”৷ ( ৫:৮১)
৩. কুফরির কোন বিষয়ে একমত পোষণ
কুফরি কোন বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করার অর্থ হল আল্লাহর বক্তব্যের বিরূদ্ধে তাদের বক্তব্য মেনে নেয়া৷ তাদের বিশ্বাসহীনতা সম্পর্কে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন : “আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একাংশ দেয়া হয়েছিল; তারা জিব্ত ও তাগুতে বিশ্বাস করে ? এরা কাফিরদের সম্পর্কে বলে, এদের পথ মুমিনদের পথ অপেক্ষা প্রকৃষ্টতর”৷ (৪:৫১)
এবং “যখন আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের নিকট রাসূল আসল, যে তাদের নিকট যা আছে তার সমর্থক; তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবটিকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না৷ এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করত”৷ (২: ১০১-১০২)
এই আয়াতের মধ্য দিয়ে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাদের জানিয়েছেন কিভাবে ইহুদিরা আল্লাহর কিতাবকে পরিত্যাগ করে যাদুর অনুসরণ করেছিল৷ অনুরূপভাবে আজও মুসলিম উম্মাহর মধ্য থেকে যে বা যারাই কাফিরদের সঙ্গে যোগ দিবে এবং তাদের অপকর্মের সঙ্গী হবে সে-ই মুনাফিকির কারণে নিজের জন্য ডেকে আনবে দুঃসহ যন্ত্রণা ও আযাব৷ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এরপরও যারা তাদের মুসলিম মনে করে তারা তো গোলক ধাঁধায় জড়িয়ে পড়েছে৷
আজ এই উম্মাহর এতই বেহাল দশা যে, তারা আজ সত্যের লেশমাত্র কোন মতে ধরে আছে৷ আজ এই উম্মাহর সন্তানদের অবস্থা ঐ তোতাপাখিগুলির মতো যারা কিছু না বুঝেই বুলি আওড়ায়, ‘আমি কমিউনিজম কে একটি দর্শন হিসেবে বিশ্বাস করি’, কিংবা ‘আমি সোশালিজমে বিশ্বাসী’ কিংবা বলে , ‘গণতন্ত্র একটি সুন্দর রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সংবিধান সেক্যুলার হওয়া উচিত’ কাফিররা কুফরের এই মূলনীতিগুলো মুসলমানদের আবাসভূমিতে বাস্তবায়নের এজেন্ডা নিয়েছে: এবং, এই লক্ষ্যে জনগণকে এরা এ সমস্ত শয়তানি বিশ্বাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ কেননা, কাফিরদের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন এই উম্মাহর তরুণ-যুবক-তরুণীদের নিঃশর্ত আনুগত্য ,তাঁবেদারি ও সেবাদাসগিরি মনোভাব৷ যখন কোন মুসলিম আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলের সুন্নাহর দিকে লোকদের ফিরে আসার জন্য আহ্বান করে, তখন এরাই তাদেরকে গণশত্রু বা জনগণের শত্রু হিসেবে ঘোষনা দেয়৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন : “ইহুদী এবং খৃষ্টানরা কখনোই আপনার ওপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন”৷ (২:১২০)
৪. কাফিরদের সান্নিধ্য অণ্বেষণ
কাফিরদের মমতা-ভালবাসা পাওয়ার চেষ্টা করার অর্থ হল তাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কযুক্ত করা৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এ রকম কাজে নিষেধ করেন, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: ” আপনি এমন কোন সমপ্রদায়কে খুঁজে পাবেন না, যে আল্লাহ এবং শেষ দিবসের ভয় করে অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যারা বিরোধিতা করে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, হোক সে তার পিতা, পুত্র, ভ্রাতা কিংবা তাদের জ্ঞাতিগোত্র ৷” (৫৮:২২)
ইবনে তাইমিয়া বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সুস্পষ্ট জানিয়েছেন, কোন ঈমানদারই আল্লাহ ও রাসূলকে চ্যালেঞ্জকারীদের আনুকূল্য প্রত্যাশী হয় না৷ দুটি বিপরীত ধর্মী জিনিষ যেমন একে অপরকে তাড়িত করে, মুমিনের ঈমানও তদ্রুপ মুমিনকে এরুপ কাজ থেকে বিরত রাখে৷ সুতরাং, ঈমান থাকা অবস্থায় আল্লাহর শত্রুদের প্রতি অনুকুল মনোভাব পোষণ অসম্ভব৷ যদি কেউ অনুভব করেন যে তার ভিতর এই মনোভাবের ঘাটতি রয়েছে , তাহলে বুঝতে হবে যে, তার ঈমানে গলদ রয়েছে৷’ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: “হে মুমিনগণ ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি তাদের প্রতি মমতা পোষণ করছো, অথচ তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে”৷ (৬০:১)
৫ কাফিরদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ
কাফিরদের সঙ্গে কেউ একাত্মতা প্রকাশ করলে সন্দেহাতীতভাবে সে কাফিরদের মিত্রে পরিণত হয়ে যায়৷ ৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন : “যারা ভ্রষ্টতা করে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করোনা, অন্যথায় অগ্নি তোমাদের স্পর্শ করবে, এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনই রক্ষক নেই, এবং তোমরা সাহায্যও প্রাপ্ত হবে না”৷
আল কুরতুবি বলেন, ‘কোন কিছুর প্রতি একাত্মতা প্রকাশের অর্থ হল তার ওপর নির্ভর করা এবং সমর্থনের জন্য তার দারস্থ হওয়া এবং এভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরী করা যা তোমাকে তুষ্টি দেয়৷’
কাতাদাহ্ বলেন, ‘এই আয়াতের অর্থ হল, কোন মুসলিমের পক্ষেই কাফিরদের পছন্দ করা কিংবা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা সঙ্গত নয়৷’ যারা চিন্তা-ধারণায় পরিবর্তনশীলতাকে ভালবাসে এবং ধর্ম-বিদ্রোহীতায় উত্সাহী তারা দু’ধরণের ; তারা হতে পারে কাফির অথবা পুরোপুরি মুরতাদ৷ আর এর নির্ধারণ সাহচর্যের মাধ্যমেই তৈরী হয়; অর্থাত্ একজন কাফিরের বন্ধু কাফির, এবং একজন মুরতাদ বা অবাধ্যের বন্ধু আরেকজন অবাধ্য৷
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) নবীকে (সঃ) উদ্দেশ্য করে বলেন : “আমি আপনাকে অবিচলিত না রাখলে আপনি তাদের দিকে ঝুকেই পড়তেন প্রায়; আর তা হলে অবশ্যই আমি আপনাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ এবং পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম; তখন আমার বিরূদ্ধে আপনি কোন সাহায্যকারী পেতেন না”৷ (১৭:৭৪-৭৫) আমাদের এটি মনে রাখতে হবে যে, এভাবে সৃষ্টির সেরা নবীকে (সঃ) যে রকম ধমকের সুরে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এ ব্যাপারে সম্বোধন করেছেন, সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা কিরকম হতে পারে৷ (মুজমুআত তাওহীদ )
৬. কাফিরদের কুফরি বিশ্বাসের প্রশংসা- প্রশস্তি
কাফিরদের কুফরি বিশ্বাসের প্রশংসা- প্রশস্তি করার মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন: “তারা ইচ্ছা পোষণ করে যে, আপনি তাদের সঙ্গে এক ধরণের সমঝোতায় (ধর্মীয় বিষয়ে সৌজন্যতা সহকারে) আসেন, সুতরাং তারাও আপনার সঙ্গে সমঝোতা করবে”৷ (৬৮ : ৯) যখন মুসলিমরা কাফিরদের শক্তিমত্তায় অনেক বেশি শক্তিশালী দেখতে পায় তখন তারা তা দেখে বিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং এটি তাদের মনে এই ধারণার জন্ম দেয় যে, কাফিররা তাদের থেকে সর্বদিক থেকেই শ্রেষ্ঠতর : সুতরাং তারা কাফিরদের মুকাবিলায় তাদের দ্বীনের শিক্ষা পরিত্যাগ করে, এবং এভাবে তারা বিচ্যুত হয়ে পড়ে, এই ভয়ে যে, পাছে লোকে তাদের ‘ফ্যানাটিক’ বলে৷ নবী (সঃ) এরকম লোক দেখে উলেখ করেছেন, “তোমরা সেই জাতিসমূহের অনুসরণ করবে যারা তোমাদের পূর্বে ছিল, এবং অনুসরণ করবে শিরায়-শিরায়, রন্ধ্রে-রন্ধ্রে, এমনকি তারা যদি তোমাদের গোখরে সাপের গর্তেও নিয়ে যায়, তোমরা তার অনুসরণ করবে৷ আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! (আপনি কি বুঝাতে চান) ইহুদী এবং খৃষ্টানদের ? তিনি বললেন, ‘তারা ছাড়া আর কে’ ? কাফিরদের এই অতিতোষণের ফাঁদটি শয়তান সুকৌশলে পেতে রেখেছে যাতে করে শয়তান মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে, মুসলিমদের শয়তানের পক্ষ থেকে পেতে রাখা এই অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙিক্ষত ফাঁদ থেকে সর্তকতার সঙ্গে দূরে থাকতে হবে এবং তাকে আত্মসচেতন হতে হবে৷ আর তাকে এই জ্ঞান দিতে হবে যে, আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে আল্লাহর পথে অটল থাকলে সে-ই টিকে থাকবে এবং মূলতঃ সে-ই হবে শক্তিশালী৷
৭. কাফিরদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা
কাফিরদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা তাদের সাথে মৈত্রী বন্ধনের নিদর্শক৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন: “হে মুমিনগণ ! তোমাদের আপনজন ব্যতীত অন্য কাউকেও অনরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না৷ তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করবে না ; যা তোমাদের বিপন্ন করে তাই তারা কামনা করে ৷ তাদের মুখে বিদ্বেষ প্রকাশ পায় এবং তাদের হৃদয় যা গোপন রাখে তা আরো গুরুতর ৷ তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি, যদি তোমরা অনুধাবন কর ৷” (৩;১১৪) এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল মুসলিমদের সেই দল সম্পর্কে যারা মুনাফিক এবং ইয়াহুদিদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রাখত, কেননা সে সময়ে তারা (মুনাফিক ও ইয়াহুদি) তাদের (মুসলিমদের ) প্রতিবেশী ও বন্ধু ছিল ৷ আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করে মুসলিমদের কাফির-মোনাফিকদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করলেন৷ অন্তরঙ্গতা শব্দটি দ্বারা বিশ্বাস ও আস্থার নৈকট্য বুঝানো হয়৷ পৃথিবীতে বরাবরই এমন কিছু লোক থাকে যারা মানুষের কাছে অন্যদের থেকে বেশি বিশ্বস্ত হয়৷ মুসলিমরা যেন কাফিরদের অন্তরঙ্গ ও বিশ্বস্ত মনে করে প্রতারিত না হতে পারে সে লক্ষেই আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) মুসলিমদের কাফিরদের আসল রূপটি পূর্বেই উন্মোচিত করলেন৷ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন, ‘তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে কিছু মাত্র পিছপা হবে না’৷ রাসূলের সময়ে কাফিররা মুসলিমদের সম্পর্কে যা কিছু আবিষ্কার করতো তা-ই বাকি সকল কাফিরদের মাঝে রটিয়ে দিতো৷ আবু দাউদে বর্ণিত আছে, নবী (সঃ) বলেন, “একজন ব্যক্তির দ্বীন তার সহচর বন্ধুদের মতই হয়ে থাকে, সুতরাং তোমাদের যে কেউ যেন সতর্ক হয় কাকে সে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে৷”
৮. কাফিরদের অনুগত হওয়া
কাফিরদের ইচ্ছা-আকাংখার আনুগত্য তাদের সঙ্গে মৈত্রীর আরেকটি নিদর্শন৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন “আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না”। (১৮:২৮)
এবং “হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর তবে তারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরিয়ে দিবে এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে৷” (৩:১৪৯)
আল্লাহ (সুবঃ) আরও বলেনঃ “নিশ্চয়ই শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়৷ যদি তোমরা তাদের কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে৷”(৬:১২১) ইবনে কাছির এই সর্বশেষ আয়াত সম্পর্কে বলেন,যখন অন্যদের কথা মত আল্লাহ এবং তাঁর শরীয়াকে তাদের বক্তব্যের সমপর্যায়ে নিয়ে আসা হয় তখনই তা শির্ক হয়ে যায়৷ এটি এই আয়াতেও প্রতিয়মান হয়, “তারা (ইহুদী ও খৃষ্টানরা) তাদের রাব্বী ও সন্নাসীদের আল্লাহর পাশে তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে”
৯. কুরআন তাচ্ছিল্যকারীদের সঙ্গে একত্রে বসা
কাফিরদের সঙ্গে বসলে যখন তারা কোরানকে তাচ্ছিল্য করে তখন তাদেরই দলভুক্ত হতে হয়৷ আল্লাহ আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করেছেন৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন: “কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি তো অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে, আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তাকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে তখন যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হবে তোমরা তাদের সাথে বস না, অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে৷ মুনাফিক এবং কাফিরদের তো আল্লাহ জাহান্নামে একত্র করবেন৷” (৪:১৪০)
ইবনে জারীর আত তাবারী ব্যাখ্যা করেন যে, এর অর্থ হল এই যে, যদি আপনি তাদের এ কাজ করতে দেখেন এবং এ সম্পর্কে কিছুই না বলেন, তখন এটি সুস্পষ্ট হয় যে , আপনার আনুগত্য তাদের জন্য যা আপনাকে তাদের মত করে দেয়৷ তিনি আরো বলেন,এই আয়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি পরিষ্কার ভাবে কাফিরদের ধর্মদ্রোহী যাবতীয় কর্মকান্ডে বসার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷
অনুরূপভাবে নবী (সাঃ) বলেন,”যারা ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত তাদের বাড়ী যেও না, অন্যথায় তোমরা অনুরূপ দুর্ভাগ্যের জন্য ক্রন্দন করবে, নতুবা তা(দুর্ভাগ্য) তাদের কাছে যেভাবে এসেছে তোমাদের কাছেও অনুরূপভাবে আসবে৷”(বুখারী)
১০. মুসলিমদের উপর কাফিরদের কতৃত্ব প্রদান
মুসলিমদের উপর কাফিরদের কতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে মুসলিমদের কাফিরদের সঙ্গে মিত্রতায় আবদ্ধ হতে বাধ্য করা হয় ৷ কেননা কতৃত্বশীল কাফিরদের প্রতি আনুগত্যের কারনে তাদের কুফরী কর্মকান্ডের বিরোধিতা করা মুসলিমদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে৷ আর তাদের কর্তৃত্ব মেনে নেয়ার অর্থ হল তাদের পদ মর্যাদার প্রতি স্বীকৃতি জ্ঞাপন করা যা ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে কোন ক্রমেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়৷ আল্লাহ বলেনঃ “এবং কখনই মু’মিনদের বিরূদ্ধে কাফিরদের জন্য কোন পথ রাখবেন না৷” (৪:১৪১)
১১. কাফিরদের উপর বিশ্বাস স্থাপন
কাফিরদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার অর্থ হল তাদেরকে নিজেদের মিত্র বা বন্ধু মনে করা৷ অথচ, স্বয়ং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ আল্লাহ (সুবঃ) বলেন “কিতাবিদের মধ্যে এমন লোক আছে যে, বিপুল সম্পদ আমানত রাখলেও ফেরত দিবে, আবার এমন লোকও আছে যার নিকট একটি দিনারও আমানত রাখলে তার পিছনে লেগে না থাকলে সে ফেরত দিবে না, তা এ কারণে যে, তারা বলে,’ নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নেই’৷ এবং তারা জেনেশুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে৷” (৩:৭৫)
১২. কাফিরদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করা
কাফিরদের কার্যক্রমের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করা, তাদের পোষাকের অনুসরণ কিংবা তাদের লেবাস ও ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের লেবাসের ষ্টাইল পরিবর্তন করা_এই জিনিসগুলি তাদের সঙ্গে মিত্রতার বিষয়টিকে পরিষ্কার করে৷(মুজমুআত তাওহীদ)
১৩. কাফিরদের কাছে টানা ও কাফিরদের সাহচর্যে আনন্দ অনুভব করা
তাদের কাছে নিজেদের অন্তর্নিহিত অনুভূতি ব্যক্ত করা, তাদেরকে কাছে টানা এবং তাদের সম্মান করা তাদের সঙ্গে মৈত্রী বন্ধনেরই পরিচয় বহন করে৷ (মুজমুআত তাওহীদ)
১৪. কাফিরদের ভ্রষ্টতার কাজে কোন কিছু দিয়ে সহযোগিতা করা
তাদের ভ্রষ্টতায় সাহায্য করা কিংবা সাহায্য যুগিয়ে তাদের উত্সাহিত করার অর্থ হল নিজেকে তাদের মিত্রে পরিণত করা৷ কুরআন দুটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছে, একটি হল লূত (আঃ) এর স্ত্রী সংক্রান্ত এবং অপরটি নূহ্ (আঃ) এর স্ত্রী সম্পর্কিত৷ লূত (আঃ) এর স্ত্রী তার শহরের লোকদের লূত (আঃ) এর বিরূদ্ধে সমর্থন যুগিয়েছিল এবং লূত (আঃ) এর লোকদের দুর্দশায় উৎফুল্ল হয়েছিল; এমনকি লূত (আঃ) এর অতিথিদের সম্পর্কে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল৷ অনুরূপ ঘটনা নূহ্ (আঃ) এর স্ত্রীর ক্ষেত্রেও সংঘটিত হয়েছিল৷ (তাফসীর ইবনে কাছীর)
১৫. কাফিরদের উপদেশ-পরামর্শ চাওয়া
কাফিরদের উপদেশ পরামর্শ শ্রবণ করা, তাদের উচ্চ আসনে আসীন করা কিংবা তাদের বন্দনা করা (মুজমু’আত তাওহীদ) তাদের সঙ্গে মিত্রতার কতিপয় নিদর্শন যা বর্তমান সময়ে বেশি করে পরিলক্ষি হচ্ছে৷ ইতোমধ্যে আমরা প্রাচ্যবাদী দার্শনিকদের উত্থান লক্ষ করেছি৷ এরা অতি চাতুর্যের সঙ্গে অনুসন্ধিৎস ও গবেষণার এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবী করেছে৷ এই তত্ত্বের অনুসরণে এরা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতিক্রিয়াশীল, পুরনো যুগের ফসিল ও পুরাতাত্তিক নিদর্শনের লেবেল এঁটে দিয়ে তথাকথিত প্রগতি ও সভ্যতার নতুন যুগের ঘোষণা দিয়েছে৷ আর এভাবে অতি চাতুর্যের সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের এরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে৷
১৬. কাফিরদের সম্মান করা
কাফিরদের বেশি বেশি সম্মানিত করা এবং নির্বোধের মত বিশাল বিশাল টাইটেলে ভূষিত করা তাদের প্রতি মিত্রতা প্রর্দশনেরই নামান্তর৷ আমরা লক্ষ্য করি, কিছু লোক তাদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রকাশের ভঙ্গি হিসাবে তাদের সঙ্গে দেখা করার সময় তাদের সিনায় হাত রাখে; কেউবা আনুগত্যের নমুনা স্বরপ তাদের মাথার হ্যাট নামিয়ে রাখে৷ সব কাফিরদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ তো দূরের কথা তাদের হৃদয়ে এদের (কাফিরদের)সম্পর্কে ভীতির সঞ্চার হওয়া উচিত ছিল৷(হামুদ আত তাবিজরি) আল্লাহ (সুবঃ) বলেন : “যারা মু’মিনদের পরিবর্তে কাফিরদের আউলিয়া (রক্ষাকারী,সাহায্যকারী,বন্ধু)হিসাবে গ্রহণ করবে, তারা কি তাদের কাছে ইজ্জাত অন্বেষণ করে ? নিঃসন্দেহে সকল ইজ্জাত আল্লাহরই”৷ (৪:১৩৯)
প্রকৃতপক্ষে এই কাফিররা মুসলিমদের থেকে যা প্রাপ্য তা হল ভয়াবহ সমালোচনা এবং তাচ্ছিল্য৷ এটা বর্ণিত আছে যে,নবী (সাঃ) আমাদেরকে তাদের সংবর্ধিত করার উদ্যোগ নিতেও নিষেধ করেছেন৷ তিনি বলেন: “তোমরা তাদের সালাম দিয়ো না (ইহুদী ও খৃষ্টানদের) এবং যখন তোমরা তাদের সঙ্গে রাসায় সাক্ষাৎ কর, তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণ পাশ দিয়ে যেতে বাধ্য কর” ৷ (মুসলিম )
১৭. কাফিরদের সঙ্গে বসবাস করা
কাফিরদের আবাসস্থলকে বসবাসের জন্য সাব্যস্ত করা এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটানোও তাদের মিত্রে পরিণত হওয়ার শামিল৷ নবী (সঃ) বলেন, “যে-ই কাফিরদের সাথে যোগ দেয় এবং তাদের মাঝে বসবাস করে সে তাদেরই একজন৷” (আবু দাউদ) এবং “কাফিরদের সঙ্গে বসবাস করনা কিংবা তাদের সঙ্গে যোগ দিও না : যে-ই তাদের সঙ্গে বসবাস করে কিংবা তাদের মাঝে বাস করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়৷” (আল-হাকিম)
১৮. কাফিরদের সঙ্গে জোগসাজস করা
কাফিরদের সঙ্গে জোগসাজস করা, তাদেরকে বিভিন্ন স্কীমে সাহায্য করা, তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া, তাদের পক্ষ হয়ে গোয়েন্দাগিরি করা, মুসলিমদের সম্পর্কে তাদের তথ্য দেয়া কিংবা তাদের কোন পদে অধিষ্ঠিত থেকে যুদ্ধ করা এগুলো সবই তাদের মিত্রদের কাজ৷ বর্তমান মুসলিম বিশ্ব এখন সব থেকে নিকৃষ্ট যে অসুখে ভুগছে এটি সেগুলোর অন্যতম৷ এটি পুরো প্রজন্মকে নষ্ট করেছে, এবং শিক্ষা থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ সরকারের সকল পর্যায়কে কলুষিত করেছে৷
মিশরে ইংরেজ দখলদারির শেষে মুহাম্মদ কুতুব বলেছিলেন, “সাদা ইংরেজরা চলে গেছে কিন্তু বাদামী ইংরেজরা এখনো আমাদের সঙ্গে বিদ্যমান৷ মুসলমানদের পশ্চাত্যীকৃত সন্তানেরা আজ মুসলিম বিশ্বের প্লীহায় রূপ নিয়েছে৷ তারা তা-ই সম্ভব করেছে যা আল্লাহর শত্রুরা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি যে তারা সম্ভব করতে পারবে৷ কিন্তু এতে তারা সফলকাম হবে না৷”
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেন,” আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে”৷ (৩৭:১৭১-১৭৩)
১৯.মুসলিমদের ঘৃণা এবং কাফিরদের ভালবাসা
যারা ইসলামের পবিত্রভূমি থেকে কাফিরদের ভুমিতে পলায়ন করে, তাদের চিন্তাধারা-ধ্যানধারণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, তারা মূলতঃ তাদেরই বন্ধু যাদের কাছে তারা গিয়েছে৷ ( আর রিদ্দাহ বাইনা আল-আমস ওয়াল ইয়াওম)
২০.কাফিরদের মতাদর্শকে সমর্থন করা
যারা সেক্যুলার রাজনীতি, কমিউনিজম, সোশালিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি মতাদর্শের পিছে দৌড়ায় এবং এই মতাদর্শগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, তারাও মূলতঃ তাদেরই বন্ধু যাদের শরণাপন্ন তারা হয়েছে৷ (আর রিদ্দাহ বাইনা আল-আমস ওয়াল ইয়াওম)

 



শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৩

আশুরাঃ তাওহীদের বিজয় ও শুকরিয়া জ্ঞাপন দিবস


আশুরাঃ তাওহীদের বিজয় ও শুকরিয়া জ্ঞাপন দিবস !!!

12 November 2013 at 18:49
আশুরা আরবি শব্দ, যার অর্থ দশম। এ দিনটি হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখ অর্থাৎ দশম দিবস, ফলে এর নামকরণ করা হয় আশুরা। এই দিনটি হলো তাগুতের উপর রিসালাতের বিজয়ের দিবস, শির্কের উপর তাওহীদের বিজয়ের দিবস ! এই দিনেই আল্লাহ্‌ সুবহানু ওয়া তা‘আলা মুসা (আঃ) কে ফিরাউন ও তার বাহিনীর উপর বিজয় দান করেছিলেন। ফলে মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীরা এই দিবসটিতে মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলার শুকরিয়া দিবস হিসেবে রোজা পালন করে করেছেন! রাসুল (সঃ) মদিনা আসার পর মুসা (আঃ) অনুসরণে এই দিনে আল্লাহর শুকরিয়া পালন সরূপ রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন । তখন থেকেই মুসলিমগন শির্কের উপর তাওহীদের ঐতিহাসিক এই বিজয় দিবসটিকে শুকরিয়া দিবস হিসেবে রোজা রাখার মাধ্যমে পালন করে আসছে।  ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত-
রাসুল (সঃ) মদিনায় আসার পরে দেখতে পেলেন ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। নবীজি বললেন-‘এটি কি (দিবস) ?‘ তারা বলল- ‘এটি একটি ভাল দিন। এদিনে আল্লাহ্‌ বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে রক্ষা করেছেন। তাই (শুকরিয়া স্বরূপ) মুসা (আঃ) রোজা রেখেছেন ।‘ তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন- ‘মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।‘ অতঃপর তিনি (এই দিবসে) রোজা রেখেছেন এবং (সকলকে) রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। [বুখারি]

গুরুত্ব ও ফজিলতঃ
আশুরার দিবসে রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ একটি আমল। রাসুল (সঃ) এই দিনে রোজা রাখতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
‘আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে রোজা রাখার জন্য এতোটা অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যতটুকু দেখেছি এই আশুরার দিন ও রমজান মাসের রোজার প্রতি।‘ [বুখারি]

রাসুল (সঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে আশুরার রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। যারা এদিনে রোজা থাকেনি তাদেরকেও বাকি দিবস না খেয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই না, সাহাবিগণ (রাঃ) তাঁদের ছোট ছেলে-মেয়েদেরকেও এদিবসে রোজা পালনের অভ্যাস করাতেন। রুবাঈ বিনতে মুয়াওয়াজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
“রাসুলুল্লাহ (সঃ) আশুরার দিন ভোরে মদিনার নিকটবর্তী আনসারদের মহল্লায় খবর পাঠালেন যে- ‘তোমাদের মধ্যে যে এদিবসের শুরু থেকে রোজা আছে সে যেন তা পূর্ণ করে, আর যে রোজা না থেকে খাওয়া-দাওয়া করে ফেলেছে সে যেন দিনের বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকে।‘ বর্ণনাকারী বলেন- একথা শুনার পর আমরা রোজা রাখলাম এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের ছোট ছেলে-মেয়ে দেরকেও রোজা রাখালাম । আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। বাজার থেকে খেলনা কিনে দিতাম। যখন খাবার চাইতো তখন তাদের হাতে খেলনা তুলে দিতাম, যেন তারা খাবারের কথা ভুলে গিয়ে রোজাটি পূর্ণ করতে পারে। “ [মুসলিম]

তাছাড়া আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ সমূহের কাফফারা সরূপ। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন-
‘আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী একবছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন।‘ [মুসলিম] 

আশুরার রোজার বিধানঃ
আশুরার রোজা ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এটি সুন্নত। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ-
“ জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করতো এবং রাসুলুল্লাহ (সঃ)ও রোজা রাখতেন । যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখন তিনি এ রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার আদেশ দিলেন। যখন রমাজান মাসের রোজা ফরয হল তখন তিনি আশুরার রোজা সম্পর্কে বললেন- যার ইচ্ছা আশুরার রোজা রাখবে , আর যার ইচ্ছা ছেড়ে দিবে।“ [বুখারি, মুসলিম]

জমহুর আলেমগণের মতে নিম্নোক্ত নিয়মে এ রোজা পরিপালন করা যায়:-

প্রথমতঃ আশুরার আগে-পরে দুইদিন ও আশুরার দিনসহ মত তিন দিন রোজা রাখা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এটিকে উত্তম ও আশুরার রোজার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এমতের সমর্থনে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত একটি মারফু রয়েছে, যেখানে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
‘তোমরা আশুরার দিবসে রোজা রাখো এবং এক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের ব্যতিক্রম ও বিরুদ্ধাচরণ করো, তাই আশুরার আগের দিন ও পরের দিনও তোমরা রোজা রাখো।‘ [সুনান আল কুবরা]

দ্বিতীয়তঃ মুহাররমের নবম ও দশম তারিখে রোজা রাখা। রাসুল (সঃ) মুহাররমের নয় তারিখেও রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন-
‘যদি আমি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে অবশ্যই মুহাররমের নয় তারিখ রোজা রাখবো।‘ [মুসলিম]

তৃতীয়তঃ শুধু দশম দিবসে রোজা রাখা। কেননা রাসুল (সঃ) থেকে সকল বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি আশুরা উপলক্ষে শুধুমাত্র দশম দিনেই রোজা রেখেছেন। তাই কেউ শুধু দশম দিনে রোজা রাখলেও আশুরার পরিপূর্ণ বরকত ও ফযিলত পেতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ্‌ !

বিভ্রান্তির বেড়াজালে আশুরাঃ
রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর ইন্তেকালের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে হিজরি ৬১ সনে এই দিনে কারবালার ময়দানে জান্নাতি যুবকদের নেতা, রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) শাহাদাত বরন করেন। ইসলামের ইতিহাসে মুসলিম উম্মাহর জন্য যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) যে আশুরা পালন করেছেন ও যে আশুরা পালন করতে উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন, তার সাথে কারবালার এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। কারবালার এই দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হবার পর রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাহাবাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), আনাস ইবনে মালেক (রাঃ), আবু সাইদ খুদরি (রা), জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ), সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ), যায়েদ ইবনে আকরাম (রাঃ), সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) সহ আরো বহু সংখ্যক সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) জীবিত ছিলেন। তাঁরা কেউই কারবালার ঘটনার কারনে আশুরার দিবসের কোন গুরুত্ব-তাৎপর্য বর্ণনা করেননি কিংবা কোন আমলও সাব্যস্ত করেননি। অথচ কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজের একদল লোক এ দিনটিকে শোক, তাজিয়া ও মাতম দিবস হিসেবে পালন করে। তারা এই দিবসটিকে শুধুমাত্র হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এব্যাপারে তাদের ব্যাপক প্রচারণার কারনে অনেক সাধারণ মুসলিমও বিভ্রান্ত হয়ে এমন ধারনা পোষণ করে থাকে। যেমনঃ আশুরা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যেসব ফিচার লেখা হয়, সেখানে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর মৃত্যু তথা কারবালার ঘটনাকেই বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়। এসব ঘটনা পড়লে মনে হতে পারে কারবালার ঘটনার পরেই বুঝি আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সাব্যস্ত হয়েছে। যা মোটেই সঠিক নয় । 
কারবালার এই ঘটনাকে আশুরার তাৎপর্য ও ইবাদাতের সাথে সম্পৃক্ত করার কোন সুযোগ নেই । আশুরা দিবস হলো মূলতঃ শির্কের উপর তাওহীদের বিজয়ের দিবস, যা মুসা (আঃ) এর সময় থেকেই পালিত হয়ে আসছে। তাছাড়া স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সঃ) এই দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করে গেছেন এবং এ দিবসে কি করনীয় তাও সাহাবীদেরকে শিখিয়ে গেছেন। অথচ হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর মৃত্যুরও প্রায় পঞ্চাশ বছর পর। তাই হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাত তথা কারবালার ঘটনাকে আশুরা দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও আমলের সাথে সম্পৃক্ত করা সম্পূর্ণরূপে সুন্নাহ পরিপন্থী।

এই দিনে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাত স্মরণে যে তাজিয়া মিছিল, মাতম ও শোকর‍্যালি, বুক চাপড়ানো, বিলাপ করা, পোশাক ছিঁড়ে ফেলা , শরীর রক্তাক্ত করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে তার সাথে যেমন আশুরার গুরুত্ব-তাৎপর্যের কোন সম্পর্ক নেই, ঠিক তেমনিভাবে শরিয়তের কোন ইবাদাতের সাথেও এর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটি একটি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি । আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- "যে ব্যাক্তি গালের উপর চপেটাঘাত করলো, জামার বুক চিরে ফেললো, এবং জাহেলি যুগের মতো চিৎকার দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" [বুখারি, মুসলিম]

উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেন-
"রাসুলুল্লাহ (সঃ) বাইয়াত গ্রহণকালে আমাদের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছেন- আমরা যাতে মৃত ব্যাক্তির জন্য শোক প্রকাশ করতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চশব্দে কান্নাকাটি না করি।" [বুখারি, মুসলিম] 

রাসুল (সঃ) কারো জন্ম বা মৃত্যু দিবস অথবা শাহাদাত দিবস পালন করেননি। এমনকি তাঁর একান্ত নিকটস্থ প্রিয় সাহাবিদের শাহাদাতের খবর তাঁর নিকট পৌঁছার পরও তিনি কখনোই মাতম, শোক, তাজিয়া, মুরছিয়া এসব করেননি। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সাহাবায়েকেরামও (রাঃ) এ ধরনের কোন আমল করেননি। আবু হুরায়ারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত- 
রাসুল (সঃ) বলেন- "মানুষের মধ্যে দুটি বিষয় কুফুরি বলে গণ্যঃ বংশ তুলে গালি দেওয়া আর মৃত ব্যাক্তির জন্য উচ্চ শব্দে বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। [মুসলিম] 

তাছাড়া মৃত কিংবা শহীদ যে কারোর জন্যই তিনদিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়।  উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
"মৃত ব্যাক্তির জন্য আমাদেরকে তিনদিনের বেশি শোক করতে নিষেধ করা হয়েছে, শুধুমাত্র স্বামী মারা গেলে স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।"  [বুখারি]

কারবালার ময়দানে হুসসাইন ইবনে আলী (রাঃ) শাহাদাত বরন করেছেন আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে। কাজেই এতো বছর পর তাঁর জন্য শোক পালন করা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নির্দেশের সুস্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ !  অতএব,  কারবালার ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে, কোনভাবেই একে আশুরার গুরুত্ব-ফজিলত ও ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে না। 

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে প্রচলিত এমন আরও কিছু বিভ্রান্তি- “এই দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদম (আঃ) কেও এই দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। নুহ (আঃ) প্লাবন এই দিনে হয়েছিল এবং এই দিনেই ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিলো। মুসা (আঃ) এই দিনে তূর পাহাড়ে গিয়ে তাওরাত লাভ করেছিলেন। এই দিনে ইব্রাহিম (আঃ) নমরুদের আগুন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই দিনে রাসুল (সঃ) এর মিরাজ হয়েছে এবং এ দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এই দিনেই কিয়ামত হবে...“ ইত্যাদি বিভ্রান্তি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যদিও এসবের পক্ষে কোন সঠিক ও বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই।

আশুরার শিক্ষাঃ
  • হক বাতিলের চিরন্তন সংঘাতে হকের বিজয় নিশ্চিত এবং আল্লাহর সাহায্য হকপন্থিদের জন্য অবধারিত। এ বাস্তবতা আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে এবং বিশ্বাসে পরিণত করতে হবে।
  • আশুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দিবস যাতে কেবল রোজা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা ইবাদাত পালনের শরয়ী বৈধতা বা মর্যাদা নেই।
  • আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় লাভ করার পর তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। শুকরিয়া আদায় কেবল মৌখিক বিষয় নয়। শুকরিয়া আদায় করতে হবে অবনত চিত্তে, বিগলিত অন্তরে, সিজদাবনত অবস্থায়। শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম একটি উপায় হচ্ছে রোজা। মুসা (আঃ) রোজা রাখার মাধ্যমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সঃ)ও এ কাজটিকে সমর্থন করেছেন।
  • কারবালার ইতিহাস স্মরণে আশুরা পালনের নামে যে সকল মাতম, মর্সিয়া, তাজিয়া, শরীর রক্তাক্ত করা সহ যা কিছু করা হয় এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো পরিহার করে চলা ও অন্নদেরকে পরিহার করার আহবান জানানো রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সুন্নাহ বাস্তবায়নের জন্য সকল মুমিনের ঈমানী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।


মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে যাবতীয় বিদআত, কুসংস্কার ভ্রান্তও-ধারনা বর্জন করে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আশুরাকে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।



  •   ভাই, কাউকে নিশ্চিতভাবে শহীদ বলার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে অহি প্রয়োজন! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তিনি অহি প্রাপ্ত হয়ে বলে দিয়েছেন! কিন্তু এখন যেহেতু নবীজি নেই আর কারো পক্ষে অহিপ্রাপ্ত হওয়াও সম্ভব নয়, তাই কারো পক্ষেই এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে: অমুক শহীদ আর অমুক শহীদ না! তবে আল্লাহর রাস্তায় কোন মুমিন মুসলিমের মৃত্যু লক্ষণ দেখে আমরা আশা করতে পারি যে: আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন!
    "...তাদেরকে মৃত বলোনা বরং তারা জীবিত " [2:154] - এই আয়াতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন! এসংক্রান্ত সবগুলো আয়াত এবং হািদসগুলি একসাথে করলে বুঝা যাবে এখানে দুনিয়ার জীবনের কথা বলা হয়নি! কেননা দুনিয়ার জীবনে প্রত্যেককেই মৃত্যুবরণ করতে হবে! এখানে বলা হয়েছে মৃত্যু পরবর্তী বার্জাখের জীবনের ব্যাপারে, আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হয় তারা বার্জাখের জীবনে সবুজ পাখির বেশে জীবিত এবং জান্নাত থেকে নিয়মিত রিজিক প্রাপ্ত, যা আমরা বুঝতে পারিনা!
     
    'যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারোনা।'' [ সুরা বাকারাহঃ ১৫৪]
    উক্ত আয়াতের অর্থ অনুধাবনের জন্য রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর একটি হািদসঃ-
    ''শহীদদের আত্মাগুলি সবুজ রঙয়ের পাখীদের দেহের ভিতরে রয়েছে এবং তা
    রা জান্নাতের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়, অতঃপর তারা ওইসব প্রদীপের উপর এসে বসে যা আরশের নীচে ঝুলানো রয়েছে। তাদের প্রভু তাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেনঃ 'এখন তোমরা কি চাও?'
    উত্তরে তারা বলেঃ হে আমাদের প্রভু আপনি তো আমাদেরকে ওইসব জিনিস দিয়েছেন যা অন্য কাউকেই দেন নি। সুতরাং এখন আর আমাদের কোন জিনিসের প্রয়োজন হবে?
    তাদেরকে পুনরায় একই প্রশ্ন করা হয়...
    তখন তারা বলেঃ হে আমাদের প্রভু আমরা চাই যে আপনি আমাদেরকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমরা আপনার পথে আবার যুদ্ধ করে পুনরায় শাহাদাত বরন করে আপনার নিকট ফিরে আসবো। এর ফলে আমরা শাহাদাতের দ্বিগুণ মর্যাদা লাভ করবো।
    আল্লাহ তা'আলা তখন বলেনঃ এটা হতে পারে না। আমি তো এটাই লিখে দিয়েছি যে, কেউই মৃত্যুর পর আর দুনিয়ায় ফিরে যাবে না।" [ মুসলিম ]
  •  

সুদকে বর্জন কর


আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘুসনা করেছে আজ অনেক মুসলিম!!

"ও ঈমানদার মুসলিমরা সুদকে বর্জন কর""৷ আর যদিতা না কর তাহলে জেনে নাও আল্লাহ আর আল্লাহর রাসুলের সাথে যুদ্ধ গুসনার কথা"""{২:২৭৮/২৭৯}
তাফসীরে ইবন কাসীরে বলেছেন আখিরাতে ওই বেক্তিদের যারা সুদে লেনদেন করেছে ওদের জিবরাইল আ তলবারী দিয়ে বলবেন যাও আল্লাহর সাথে যুদ্ধ কর,ওই যুদ্ধ যেইটার ঘুসনা তুমি দুনিয়াতে দিয়েছিলে.. ওরা করা? ওরা আপনার আমার মত মানুষ যারা সুদে লেনদেন করেছে ৷

নবী (সা) বলেছেন যখন উনাকে জান্নাত এবং জাহান্নামের সফরে নেওয়া হয়েছিল তখন উনি দেখলেন, কিছু মানুষ যাদের পেট বিশাল ঘরের সমান এবং পিটার ভিতর বড় বড় সাপ এবং সাপ গুলু বার বার ওই বেক্তিকে ভিতর থেকে কামর দিচ্ছে..তখন রাসুলআল্লাহ জিবরাইল আ কে জিজ্ঞাস করলেন কে এই বেক্তি? উনি বললেন ওরা সুদ নিয়ে লেনদেন করেছে এবং সুদের মাল খেয়েছে ৷
(আহমেদ/ ইবন মাজা)

আর অন্য হাদিসে নবী (সা) বলেছেন আমি দেখলাম কিছু মানুষ রক্তের নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং যখনই নদী সাতরিয়ে উঠার চেষ্টা করে তখনই একজন ফিরিস্ত ওই লুকদের মখের উপর বড় পাথর দিয়ে মেরে আঘাত করেন, তখন ওই বেক্তি ডুবে আবার সমান জায়গায় চলে যায়..আমি জিবরিলকে জিজ্ঞাস করলাম ওরা কে? জিবরীল বললেন ওরা শুধে লেনদেন করত এবং শুধের মাল খেত ৷
(সহিহ বুখারী, ২.৪৬৮)

আজ মুসলিমদের অবস্তা দেখে আফসোস হয় যে দুনিয়ার কিছু লাভের জন্য আজ আমরা আমাদের আখিরাত নষ্ট করে ফেলছি, আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘুসনা করেফেলছি..
আজ অনেকেই পড়া লেখার জন্য কেও বেবসার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে সুদে পয়সা লোন আনছে আবার কেও কিস্তিতে বাড়ি বা ফ্লাট কিনার জন্য সুদের মত জঘন্য হারামে লিপ্ত হছ্চে যা বর্জন না করলে আল্লাহর থেকে ওয়াদা করা হয়েছে জাহান্নাম..

যারা যেই কোনো কারণে সুদে লিপ্ত আছেন ওদের মনে রাখা উচিত আল্লাহ চাইলে দুনিয়াতেও সাজা দিতে পারেন আখিরাতেও দিবেন..সুদে লিপ্ত হওয়ার কোনো অজুহাত নাই !!

আল্লাহ যেন আমাদের এবং আমাদের পরিবারকে সুদের মত জঘন্য হারাম থেকে হিফাজত করেন..এবং আমাদের বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করেন আমীন !!