শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৩

আশুরাঃ তাওহীদের বিজয় ও শুকরিয়া জ্ঞাপন দিবস


আশুরাঃ তাওহীদের বিজয় ও শুকরিয়া জ্ঞাপন দিবস !!!

12 November 2013 at 18:49
আশুরা আরবি শব্দ, যার অর্থ দশম। এ দিনটি হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখ অর্থাৎ দশম দিবস, ফলে এর নামকরণ করা হয় আশুরা। এই দিনটি হলো তাগুতের উপর রিসালাতের বিজয়ের দিবস, শির্কের উপর তাওহীদের বিজয়ের দিবস ! এই দিনেই আল্লাহ্‌ সুবহানু ওয়া তা‘আলা মুসা (আঃ) কে ফিরাউন ও তার বাহিনীর উপর বিজয় দান করেছিলেন। ফলে মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীরা এই দিবসটিতে মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলার শুকরিয়া দিবস হিসেবে রোজা পালন করে করেছেন! রাসুল (সঃ) মদিনা আসার পর মুসা (আঃ) অনুসরণে এই দিনে আল্লাহর শুকরিয়া পালন সরূপ রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন । তখন থেকেই মুসলিমগন শির্কের উপর তাওহীদের ঐতিহাসিক এই বিজয় দিবসটিকে শুকরিয়া দিবস হিসেবে রোজা রাখার মাধ্যমে পালন করে আসছে।  ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত-
রাসুল (সঃ) মদিনায় আসার পরে দেখতে পেলেন ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। নবীজি বললেন-‘এটি কি (দিবস) ?‘ তারা বলল- ‘এটি একটি ভাল দিন। এদিনে আল্লাহ্‌ বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে রক্ষা করেছেন। তাই (শুকরিয়া স্বরূপ) মুসা (আঃ) রোজা রেখেছেন ।‘ তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন- ‘মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।‘ অতঃপর তিনি (এই দিবসে) রোজা রেখেছেন এবং (সকলকে) রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। [বুখারি]

গুরুত্ব ও ফজিলতঃ
আশুরার দিবসে রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ একটি আমল। রাসুল (সঃ) এই দিনে রোজা রাখতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
‘আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে রোজা রাখার জন্য এতোটা অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যতটুকু দেখেছি এই আশুরার দিন ও রমজান মাসের রোজার প্রতি।‘ [বুখারি]

রাসুল (সঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে আশুরার রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। যারা এদিনে রোজা থাকেনি তাদেরকেও বাকি দিবস না খেয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই না, সাহাবিগণ (রাঃ) তাঁদের ছোট ছেলে-মেয়েদেরকেও এদিবসে রোজা পালনের অভ্যাস করাতেন। রুবাঈ বিনতে মুয়াওয়াজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
“রাসুলুল্লাহ (সঃ) আশুরার দিন ভোরে মদিনার নিকটবর্তী আনসারদের মহল্লায় খবর পাঠালেন যে- ‘তোমাদের মধ্যে যে এদিবসের শুরু থেকে রোজা আছে সে যেন তা পূর্ণ করে, আর যে রোজা না থেকে খাওয়া-দাওয়া করে ফেলেছে সে যেন দিনের বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকে।‘ বর্ণনাকারী বলেন- একথা শুনার পর আমরা রোজা রাখলাম এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের ছোট ছেলে-মেয়ে দেরকেও রোজা রাখালাম । আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। বাজার থেকে খেলনা কিনে দিতাম। যখন খাবার চাইতো তখন তাদের হাতে খেলনা তুলে দিতাম, যেন তারা খাবারের কথা ভুলে গিয়ে রোজাটি পূর্ণ করতে পারে। “ [মুসলিম]

তাছাড়া আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ সমূহের কাফফারা সরূপ। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন-
‘আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী একবছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন।‘ [মুসলিম] 

আশুরার রোজার বিধানঃ
আশুরার রোজা ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এটি সুন্নত। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ-
“ জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করতো এবং রাসুলুল্লাহ (সঃ)ও রোজা রাখতেন । যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখন তিনি এ রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার আদেশ দিলেন। যখন রমাজান মাসের রোজা ফরয হল তখন তিনি আশুরার রোজা সম্পর্কে বললেন- যার ইচ্ছা আশুরার রোজা রাখবে , আর যার ইচ্ছা ছেড়ে দিবে।“ [বুখারি, মুসলিম]

জমহুর আলেমগণের মতে নিম্নোক্ত নিয়মে এ রোজা পরিপালন করা যায়:-

প্রথমতঃ আশুরার আগে-পরে দুইদিন ও আশুরার দিনসহ মত তিন দিন রোজা রাখা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এটিকে উত্তম ও আশুরার রোজার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এমতের সমর্থনে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত একটি মারফু রয়েছে, যেখানে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
‘তোমরা আশুরার দিবসে রোজা রাখো এবং এক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের ব্যতিক্রম ও বিরুদ্ধাচরণ করো, তাই আশুরার আগের দিন ও পরের দিনও তোমরা রোজা রাখো।‘ [সুনান আল কুবরা]

দ্বিতীয়তঃ মুহাররমের নবম ও দশম তারিখে রোজা রাখা। রাসুল (সঃ) মুহাররমের নয় তারিখেও রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন-
‘যদি আমি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে অবশ্যই মুহাররমের নয় তারিখ রোজা রাখবো।‘ [মুসলিম]

তৃতীয়তঃ শুধু দশম দিবসে রোজা রাখা। কেননা রাসুল (সঃ) থেকে সকল বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি আশুরা উপলক্ষে শুধুমাত্র দশম দিনেই রোজা রেখেছেন। তাই কেউ শুধু দশম দিনে রোজা রাখলেও আশুরার পরিপূর্ণ বরকত ও ফযিলত পেতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ্‌ !

বিভ্রান্তির বেড়াজালে আশুরাঃ
রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর ইন্তেকালের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে হিজরি ৬১ সনে এই দিনে কারবালার ময়দানে জান্নাতি যুবকদের নেতা, রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) শাহাদাত বরন করেন। ইসলামের ইতিহাসে মুসলিম উম্মাহর জন্য যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) যে আশুরা পালন করেছেন ও যে আশুরা পালন করতে উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন, তার সাথে কারবালার এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। কারবালার এই দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হবার পর রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাহাবাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), আনাস ইবনে মালেক (রাঃ), আবু সাইদ খুদরি (রা), জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ), সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ), যায়েদ ইবনে আকরাম (রাঃ), সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) সহ আরো বহু সংখ্যক সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) জীবিত ছিলেন। তাঁরা কেউই কারবালার ঘটনার কারনে আশুরার দিবসের কোন গুরুত্ব-তাৎপর্য বর্ণনা করেননি কিংবা কোন আমলও সাব্যস্ত করেননি। অথচ কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজের একদল লোক এ দিনটিকে শোক, তাজিয়া ও মাতম দিবস হিসেবে পালন করে। তারা এই দিবসটিকে শুধুমাত্র হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এব্যাপারে তাদের ব্যাপক প্রচারণার কারনে অনেক সাধারণ মুসলিমও বিভ্রান্ত হয়ে এমন ধারনা পোষণ করে থাকে। যেমনঃ আশুরা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যেসব ফিচার লেখা হয়, সেখানে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর মৃত্যু তথা কারবালার ঘটনাকেই বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়। এসব ঘটনা পড়লে মনে হতে পারে কারবালার ঘটনার পরেই বুঝি আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সাব্যস্ত হয়েছে। যা মোটেই সঠিক নয় । 
কারবালার এই ঘটনাকে আশুরার তাৎপর্য ও ইবাদাতের সাথে সম্পৃক্ত করার কোন সুযোগ নেই । আশুরা দিবস হলো মূলতঃ শির্কের উপর তাওহীদের বিজয়ের দিবস, যা মুসা (আঃ) এর সময় থেকেই পালিত হয়ে আসছে। তাছাড়া স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সঃ) এই দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করে গেছেন এবং এ দিবসে কি করনীয় তাও সাহাবীদেরকে শিখিয়ে গেছেন। অথচ হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর মৃত্যুরও প্রায় পঞ্চাশ বছর পর। তাই হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাত তথা কারবালার ঘটনাকে আশুরা দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও আমলের সাথে সম্পৃক্ত করা সম্পূর্ণরূপে সুন্নাহ পরিপন্থী।

এই দিনে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) এর শাহাদাত স্মরণে যে তাজিয়া মিছিল, মাতম ও শোকর‍্যালি, বুক চাপড়ানো, বিলাপ করা, পোশাক ছিঁড়ে ফেলা , শরীর রক্তাক্ত করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে তার সাথে যেমন আশুরার গুরুত্ব-তাৎপর্যের কোন সম্পর্ক নেই, ঠিক তেমনিভাবে শরিয়তের কোন ইবাদাতের সাথেও এর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটি একটি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি । আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- "যে ব্যাক্তি গালের উপর চপেটাঘাত করলো, জামার বুক চিরে ফেললো, এবং জাহেলি যুগের মতো চিৎকার দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" [বুখারি, মুসলিম]

উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেন-
"রাসুলুল্লাহ (সঃ) বাইয়াত গ্রহণকালে আমাদের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছেন- আমরা যাতে মৃত ব্যাক্তির জন্য শোক প্রকাশ করতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চশব্দে কান্নাকাটি না করি।" [বুখারি, মুসলিম] 

রাসুল (সঃ) কারো জন্ম বা মৃত্যু দিবস অথবা শাহাদাত দিবস পালন করেননি। এমনকি তাঁর একান্ত নিকটস্থ প্রিয় সাহাবিদের শাহাদাতের খবর তাঁর নিকট পৌঁছার পরও তিনি কখনোই মাতম, শোক, তাজিয়া, মুরছিয়া এসব করেননি। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সাহাবায়েকেরামও (রাঃ) এ ধরনের কোন আমল করেননি। আবু হুরায়ারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত- 
রাসুল (সঃ) বলেন- "মানুষের মধ্যে দুটি বিষয় কুফুরি বলে গণ্যঃ বংশ তুলে গালি দেওয়া আর মৃত ব্যাক্তির জন্য উচ্চ শব্দে বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। [মুসলিম] 

তাছাড়া মৃত কিংবা শহীদ যে কারোর জন্যই তিনদিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়।  উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
"মৃত ব্যাক্তির জন্য আমাদেরকে তিনদিনের বেশি শোক করতে নিষেধ করা হয়েছে, শুধুমাত্র স্বামী মারা গেলে স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।"  [বুখারি]

কারবালার ময়দানে হুসসাইন ইবনে আলী (রাঃ) শাহাদাত বরন করেছেন আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে। কাজেই এতো বছর পর তাঁর জন্য শোক পালন করা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নির্দেশের সুস্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ !  অতএব,  কারবালার ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে, কোনভাবেই একে আশুরার গুরুত্ব-ফজিলত ও ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে না। 

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে প্রচলিত এমন আরও কিছু বিভ্রান্তি- “এই দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদম (আঃ) কেও এই দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। নুহ (আঃ) প্লাবন এই দিনে হয়েছিল এবং এই দিনেই ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিলো। মুসা (আঃ) এই দিনে তূর পাহাড়ে গিয়ে তাওরাত লাভ করেছিলেন। এই দিনে ইব্রাহিম (আঃ) নমরুদের আগুন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই দিনে রাসুল (সঃ) এর মিরাজ হয়েছে এবং এ দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এই দিনেই কিয়ামত হবে...“ ইত্যাদি বিভ্রান্তি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যদিও এসবের পক্ষে কোন সঠিক ও বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই।

আশুরার শিক্ষাঃ
  • হক বাতিলের চিরন্তন সংঘাতে হকের বিজয় নিশ্চিত এবং আল্লাহর সাহায্য হকপন্থিদের জন্য অবধারিত। এ বাস্তবতা আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে এবং বিশ্বাসে পরিণত করতে হবে।
  • আশুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দিবস যাতে কেবল রোজা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা ইবাদাত পালনের শরয়ী বৈধতা বা মর্যাদা নেই।
  • আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় লাভ করার পর তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। শুকরিয়া আদায় কেবল মৌখিক বিষয় নয়। শুকরিয়া আদায় করতে হবে অবনত চিত্তে, বিগলিত অন্তরে, সিজদাবনত অবস্থায়। শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম একটি উপায় হচ্ছে রোজা। মুসা (আঃ) রোজা রাখার মাধ্যমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সঃ)ও এ কাজটিকে সমর্থন করেছেন।
  • কারবালার ইতিহাস স্মরণে আশুরা পালনের নামে যে সকল মাতম, মর্সিয়া, তাজিয়া, শরীর রক্তাক্ত করা সহ যা কিছু করা হয় এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো পরিহার করে চলা ও অন্নদেরকে পরিহার করার আহবান জানানো রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সুন্নাহ বাস্তবায়নের জন্য সকল মুমিনের ঈমানী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।


মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে যাবতীয় বিদআত, কুসংস্কার ভ্রান্তও-ধারনা বর্জন করে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আশুরাকে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।



  •   ভাই, কাউকে নিশ্চিতভাবে শহীদ বলার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে অহি প্রয়োজন! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তিনি অহি প্রাপ্ত হয়ে বলে দিয়েছেন! কিন্তু এখন যেহেতু নবীজি নেই আর কারো পক্ষে অহিপ্রাপ্ত হওয়াও সম্ভব নয়, তাই কারো পক্ষেই এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে: অমুক শহীদ আর অমুক শহীদ না! তবে আল্লাহর রাস্তায় কোন মুমিন মুসলিমের মৃত্যু লক্ষণ দেখে আমরা আশা করতে পারি যে: আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন!
    "...তাদেরকে মৃত বলোনা বরং তারা জীবিত " [2:154] - এই আয়াতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন! এসংক্রান্ত সবগুলো আয়াত এবং হািদসগুলি একসাথে করলে বুঝা যাবে এখানে দুনিয়ার জীবনের কথা বলা হয়নি! কেননা দুনিয়ার জীবনে প্রত্যেককেই মৃত্যুবরণ করতে হবে! এখানে বলা হয়েছে মৃত্যু পরবর্তী বার্জাখের জীবনের ব্যাপারে, আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হয় তারা বার্জাখের জীবনে সবুজ পাখির বেশে জীবিত এবং জান্নাত থেকে নিয়মিত রিজিক প্রাপ্ত, যা আমরা বুঝতে পারিনা!
     
    'যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারোনা।'' [ সুরা বাকারাহঃ ১৫৪]
    উক্ত আয়াতের অর্থ অনুধাবনের জন্য রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর একটি হািদসঃ-
    ''শহীদদের আত্মাগুলি সবুজ রঙয়ের পাখীদের দেহের ভিতরে রয়েছে এবং তা
    রা জান্নাতের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়, অতঃপর তারা ওইসব প্রদীপের উপর এসে বসে যা আরশের নীচে ঝুলানো রয়েছে। তাদের প্রভু তাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেনঃ 'এখন তোমরা কি চাও?'
    উত্তরে তারা বলেঃ হে আমাদের প্রভু আপনি তো আমাদেরকে ওইসব জিনিস দিয়েছেন যা অন্য কাউকেই দেন নি। সুতরাং এখন আর আমাদের কোন জিনিসের প্রয়োজন হবে?
    তাদেরকে পুনরায় একই প্রশ্ন করা হয়...
    তখন তারা বলেঃ হে আমাদের প্রভু আমরা চাই যে আপনি আমাদেরকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমরা আপনার পথে আবার যুদ্ধ করে পুনরায় শাহাদাত বরন করে আপনার নিকট ফিরে আসবো। এর ফলে আমরা শাহাদাতের দ্বিগুণ মর্যাদা লাভ করবো।
    আল্লাহ তা'আলা তখন বলেনঃ এটা হতে পারে না। আমি তো এটাই লিখে দিয়েছি যে, কেউই মৃত্যুর পর আর দুনিয়ায় ফিরে যাবে না।" [ মুসলিম ]
  •  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন