খুবই সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখা, জাযাকাল্লাহ। SPOT ON.
আমি এজন্য প্রায় বলি আরবি ভাষা শেখার পাশাপাশি "উসুল আল ফিকহ" নিয়ে পড়াশোনা করাটা খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বর্তমান যুগের বড় উলামারা (!!) ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিভাবে এবং কোন উসুলি পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করছেন সেটা যদি না বুঝি, শুধু আরবি ভাষা জানার কারনে এই সব উলামাদের ভারী কথাগুলো (যেসবের ভুল উসুল আল ফিকহ এর প্রাথমিক পর্যায়ের একজন ছাত্র ও বুঝে) দ্বারা এফেক্টেড হয়ে যেতে পারে।
ইসলামকে রি-ইন্টারপ্রেট করার ধারণাটি একটি বিপজ্জনক ধারণা। ১৪০০ বছর ধরে ইসলাম আমাদের মাঝে আজো টিকে থাকার কারণ শুধু এটা নয় কুরআনকে আল্লাহ অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করেছেন, বরং এর আরো একটি কারণ হল আল্লাহ একটি হক্বপন্থী দলকে সবসময় বাঁচিয়ে রেখেছেন, কাজেই যখনই ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এই ‘আলিমগণ উঠে দাঁড়িয়েছেন এবং জেল-জরিমানা ও জানের মূল্য দিয়ে হলেও সত্যকে তুলে ধরেছেন।
এটা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই সাহাবারা ইসলামের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি রাখতেন। তাদের জ্ঞানের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে তাদের জ্ঞান ছিল গভীর। এটা হতে পারে, তাদের পরবর্তী যমানায় এমন অনেক লোক এসেছেন যাদের জ্ঞানের পরিমাণ ছিল বেশি কিন্তু গভীরতা ছিল কম। যেমন আবু বকর (রাঃ) সর্বসাকুল্যে ১৫০-২০০ এর বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম বুখারি হয়তো লক্ষাধিক। কিন্তু আমরা জানি নবী-রাসূলদের পরে যার অবস্থান তিনি হলে আবু বকর (রাঃ), ইমাম বুখারি নন।
ইসলামকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ অবস্থায় পেয়েছেন সাহাবাগণ। এর পরে যত প্রজন্ম এসেছে, বিশুদ্ধতার পরিমাণ সেভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। রাসূল (সাঃ) তিনটি প্রজন্মের ব্যাপারে আমাদেরকে বলে গেছেন যারা জ্ঞানের দিক থেকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। এ তালিকায় সর্বপ্রথমে আছে সাহাবাগণ, তারপর আছে তাবেয়ীনগণ (সাহাবাদের পরের প্রজন্ম) এবং এরপর তাবে-তাবেয়ীন (তাবেয়ীনদের পরের প্রজন্ম)। এই তিনটি প্রজন্মের আলিমদের বলা হয় সালাফ, যাদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে খোদ রাসূল (সাঃ) লাইসেন্স দিয়ে গেছেন।
ইতিহাস থেকে আমরা দেখি, ইসলাম যখন আরবভূমি থেকে বিভিন্ন প্রান্তে ছাড়িয়ে নতুন দেশ জয় করেছে, তখন সেই নব জয়কৃত অঞ্চলের জাহিলিয়াতি কালচার এবং ত্রুটিপূর্ণ বিশ্বাস দ্বারা অনেক মুসলিম প্রভাবিত হয়ে পড়ে। কোন ক্ষেত্রে নও মুসলিমরা সঠিক শিক্ষার অভাবে জাহেলিয়াতের নাগপাশ থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারেননি, যেটা সাহাবাদের ক্ষেত্রে হয়নি, তারা রাসূল (সাঃ) এর কাছ থেকে ফার্স্ট হ্যান্ড ‘ইলম লাভ করেছিলেন, একারণে তাদের মন-মনন, চেতনা ও ইসলামের বুঝ ছিল সবচেয়ে বিশুদ্ধ।
যেমন মুসলিমরা যখ্ন গ্রীক সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত হয় তখন মুতাযিলা নামের একটি দলের উদ্ভব হয় যারা ছিলেন অতিমাত্রায় যুক্তিনির্ভর, এমনকি কুরআন এবং সুন্নাহর উপরেও তারা যুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিতেন। এই ফিতনার কারণে তারা তাক্বদীরের বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করেন। এছাড়াও তার আল্লাহর সিফাত (গুণাবলী) কেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। এটা ছাড়াও মুসলিমরা যখন পারস্য ও খ্রিষ্ট ধর্মের মূল কেন্দ্রগুলো দখল করে সেখানেও তারা কিছু ক্ষেত্রে খ্রিস্টান ও অগ্নি পূজারীদের ত্রুটিপূর্ণ আক্বীদা দ্বারা প্রভাবিত হন যার হাত ধরে পরবর্তীতে অত্যন্ত ভয়ংকর কিছু সুফী তরীক্বার জন্ম হয় যারা ছিল পরিষ্কার শিরকে লিপ্ত।
বলা বাহূল্য, আহলে সুন্নাহর স্কলাররা ইসলামের এ ধরণের আক্বীদা-বিধ্বংসী ভুল ব্যাখ্যাগুলোকে মেনে নেন নি, বরং তারা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ১৮ বছর জেলে খেটেছেন কিন্তু গ্রীক সভ্যতা প্রভাবিত মুতাজিলা আক্বীদা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে এটি সত্য ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ক্ষেত্রে, তিনিও শিয়া এবং সুফীদের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার।
আমরা দেখি যে ইসলামকে মিস-ইন্টেরপ্রেট বা রি-ইন্টারপ্রেট করার এই সমস্যাটি হয় তখনই, যখন বিজাতীয় কোন আদর্শ, বা সভ্যতার আলোকে ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করা হয়। সাহাবাদের ক্ষেত্রে সেটি একেবারেই হয় নি, কারণ তারা কুরআনের আলোয় বিশ্বকে দেখতেন এবং সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামের বিশুদ্ধ আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ মরীচা পড়তে শুরু করে।
বর্তমান যুগ ইসলামের রি-ইন্টেরপ্রিটেশনের ফিতনা থেকে মোটেও মুক্ত নয়। আজকে আমাদেরকে যে চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে হচ্ছে তা হল পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাববলয় থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামের একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ, যা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, দুঃখজনভাবে অনেক বড়মাপের ‘আলিমরাই।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, গত ১৪০০ বছরের সুপ্রতিষ্ঠিত এবং ইজমার ব্যাখ্যার বিপরীতে আজকে নতুন নতুন ব্যাখ্যার আগমন! যেমন দারুল ইসলাম এবং দারুল কুফর এর যে বুঝ সাহাবারে রাখতেন এবং ইমাম আবু হানিফাদের সময় থেকে এই দারুল ইসলাম ও দারুল কুফরের সংজ্ঞা একটি প্রতিষ্ঠিত ফিক্বহী ধারণা, অথচ এই যুগে এসে ফট করে বলছেন, দারুল ইসলাম, দারুল কুফর এগুলা নাকি আইসোলেটেড টার্ম! ইসলামী রাষ্ট্র বলে কিছু নাকি, সবই নাকি ফ্যান্টাসি!
শরীয়াহকে বাদ দিয়ে অন্য কোন ব্যবস্থা দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করাকে যেখানে আহলে সুন্নাহর আলিমগণ কুফর বলেছেন, সেটিকে এই যুগে এসে অনেকেই নিছক মুবাহ বা অনুমোদিত এর পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন! জিহাদের কিছু ফিক্বহকে বিকৃত করার জন্য কনফারেন্সেরও আয়োজন করা হয়, অথচ গত ১৪০০ বছরে যেগুলো নিয়ে কেউ কখনো দ্বিমত করেন নি। খিলাফতের মত ওয়াজিব একটি well-established ধারণাকে review করার দাবি তুলছে আজকের কিছু “স্কলার”, অথচ সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এর দাফন করা থেকেও খলিফা নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এভাবে একটির পর একটি ধারণার বিশ্লেষণ করা আমার আওতার বাইরে, তবে আমাদেরকে কিছু মূলনীতি মনে রাখতে হবে। এক নম্বরে আছে, কুরআন বা হাদীসের সবচেয় উত্তম ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন খোদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)। এবং তার এই ব্যাখ্যাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ধারণ করতে পেরেছিলেন সাহাবাগণ, তারপর তাবেয়ীনগণ এবং এরপর তাবে-তাবেয়ীনগণ। তারা একটা ব্যাপারকে যেভাবে বুঝেছেন, সেভাবেই আমাদেরকেও বুঝতে হবে। তারা যেসকল উসুল প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেগুলোর উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। তাদের মত করে ইসলামকে বুঝতে হবে, নিজেদের মত করে নয়, কেননা আল্লাহ বলেছেন,
“… তোমার কাছেও কিতাব নাযিল করেছি, যাতে করে যে শিক্ষা মানুষদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তুমি তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে পারো, যেন তারা চিন্তাভাবনা করে।” [সূরা নাহলঃ৪৪]
[সূরা নাহলঃ৪৪]
আল্লাহ বলছেন, "লিতুবায়্যিনাহ" , অর্থাৎ আপনি তাদের কাছে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করবেন। আমরা নিজেদের মত করে এই ব্যাখ্যা করলে হবে না। এই দ্বীনকে শিখতে হবে তাদের কাছ থেকে যারা এই দ্বীনকে সবচেয়ে ভাল বুঝতেন, তারা হলেন সাহাবা ও তাবেয়ীনগণ। ১৪০০ বছর পর এসে আমি-আপনি Tom-Dick-Harry এসে কিছু একটা বললেই সেটা হয়ে যাবে না।
আজ থেকে ১২০০ বছর আগে কিছু মুসলিম যেমন গ্রীক লিটারেচার এ মুগ্ধ হয়েছিল, তেমনি আজকে মুসলিমরা পশ্চিমা সভ্যতায় মুগ্ধ হয়ে ইসলামের westernized ভার্সন বের করছে, ইসলামের গণতন্ত্রায়ণ এবং সেকুলারাইজেশন করছে। অথচ এগুলোর কোনটির সাথে ইসলামের বিন্দুমাত্র সাদৃশ্য নেই। এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে আমাদের মূল সোর্স অর্থাৎ কুরআন এবং সুন্নাতে ফিরে যেতে হবে এবং সাহাবাদের মত করে মূল সোর্সকে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে হবে। ইসলামকে রি-ইন্টারপ্রেট করার কোন দরকার নেই, ইসলামের মূলনীতিগুলো পূর্বেকাল আলিমরা তৈরি করে গেছেন, আর ইজতিহাদ করা ইসলামের রি-ইন্টারপ্রিটেশন নয়। যারা ইসলামের রি-ইন্টারপ্রিটেশনের ডাক দিচ্ছে তারা কেবল ফিক্বহ নয় বরং ইসলামের আদর্শকেও রি-ইন্টারপ্রেট করছে যেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই দ্বীন ভেজিটেবল স্যুপ নয় যে, যেভাবে খুশি সেটাকে রাঁধা যাবে! আল্লাহ আমাদেরকে এই ফিতনা থেকে রক্ষা করুন যেভাবে তিনি পূর্বেও করেছেন।
পোস্টা অনেক বড় , কারন এখানে অন্য একজনের পোস্ট সম্পূর্ণ ভাবে তুলে ধরে সেটার ভুল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে -- আশাকরি সময় নিয়ে পড়বেন ।
[[[ - ]]] - এই চিনহের মধ্যের লিখা গুলো জনাব Shamim Reja সাহেবের । যেটাকে "জামায়াত ইসলাম" সঠিক ইসলামিক দল বলে যুক্তি হিসেবে আমাদের কাছে তুলে ধরছে জনাব sayem nufa সাহেব । আসুন ওনাদের যুক্তির নমিনা দেখি --
[[[ জামায়াত এবং অনৈসলামিক গণতন্ত্র --- একটা সময় ছিলো যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিলো পেশিতন্ত্রের অধীনে। রাজাদের বিশাল এক সেনাবাহিনী থাকতো তাদের সাহায্যে পরিচালিত হতো রাষ্ট্র, এবং জনগনের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকায় চলতো হরদম মৌজ-মাস্তি।
তখনকার দিনে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তনের পদ্ধতিটাও ছিলো ভয়াবহ! হঠাৎ দেখা যেতো সেনাপতি অথবা রাজার কোনো নিকটাত্মীয় রাজাকে হত্যা করে নিজেই নিজেকে রাজা দাবী করে বসেছে। অথবা দেশের কোনো এক প্রান্তে নতুন কোনো নেতার উদ্ভব হয়েছে, যিনি রাজার আনুগত্য পরিহার করে নিজেই একটা বাহিনী তৈরী করে নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব করেছেন। রাজ্য পরিচালনায় জনগনের ভূমিকা ছিলো অতি নগন্য।
ইচ্ছেমতো জোর জুলুম, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে রাজার বানানো আইন মানতে জনগনকে বাধ্য করা হতো। ]]]
-- মরা ছেলে নিয়ে কান্না করার মত কথা । যাক সে হয়তো আমাদের বুঝাবার জন্য কিছু অতিতি ইতিহাস তুলে ধরছে । দেখি নিচে কি আছে এরই উদাহরনের বিষয়ে ।
[[[ রাষ্ট্রক্ষমতায় কে থাকবে ইসলাম সেক্ষেত্রে সুন্দর একটা সমাধান দিয়েছে, পেশিতন্ত্র সেখানে অনুপস্থিত। সমাজের সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী এবং ধার্মিক ব্যাক্তিরা ভোটের মাধ্যমে একজন নেতাকে নির্বাচিত করবেন, যিনি আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূলদের(সঃ) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত করবেন। রাজার ব্যাক্তিগত খায়েস মিটানোর কোনো সুযোগ এই পদ্ধতিতে অনুপস্থিত! এটা হচ্ছে ইসলামীক গণতন্ত্র]]]
পয়েন্ট (১) -- লক্ষ্য করেন , এখানে "রাষ্ট্র" কিভাবে চলবে সেটার ছোট ব্যাখা উনি দিছে , যেটা সঠিক । কিন্তু উনি পেশিতন্ত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে সেটা আমার বোধগম্য নয় । যদি উনি উপরে উল্লেখিত তৎকালীন রাজাদের দিকে ইঙ্গিত করে তবে মেনে নিলাম , কিন্তু উনি যদি পেশিতন্ত্র বলতে জ্বিহাদ করা বুঝায় , তবে আমার এখানে কথা আছে । রাসুল (সাঃ) যখন বাহিরের দেশের কোন কাফের রাজার কাছে ইসলামের দাওয়াত হিসেবে চিঠি পাঠাতেন তখন সেখানে ৩ টা শর্ত দিতো - (১) ইসলাম গ্রহন করুন । (২) নয়তো জিযিয়া প্রদান করুন । (৩) নয়তো মুসলিমদের সাথে লড়াই করুন । এখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে মুসলিমদের পক্ষ থেকে জ্বিহাদের হুমকি । -- কিন্তু উনি ওনার পোস্টে পেশিতন্ত্র অনুস্থিত কিভাবে আর কোন দলীলের বলে বলে দিলেন সেটাই বুঝতেছি না । এর মানে উনি পরোক্ষ ভাবে জ্বিহাদকে না বলে দিলেন ।
[[[ পরিবর্তিত সময়ে অনৈসলামিক একটা পদ্ধতির উদ্ভব হলো, যে পদ্ধতিতে সমাজের জ্ঞানী এবং ধার্মিক ব্যাক্তিদের পাশাপাশি চোর,ডাকাত,খুনি,ধর্ষক,লম্পট সকলকেই ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হলো।
এই পদ্ধতির সবচাইতে বড় ত্রুটি হচ্ছে, এইসব পাপী ব্যাক্তিরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে যাকে নির্বাচিত করা হলে অবাধে এইসব অপকর্ম সম্পন্ন করতে পারবে। এটা হচ্ছে প্রচলিত গণতন্ত্র। ]]]
-- পয়েন্ট (২) -- লক্ষ্য করেন - উনি বর্তমান প্রচলিত গণতন্ত্রকে অনৈসলামিক বলতেছে । আর প্রচলিত গণতন্ত্রের ব্যাখা গুলো দেখেন , কারা কারা নেতা নির্বাচন করে । ভালো মানুষের পাশাপাশি খারাপ মানুষও তাদের ক্ষমতার বলে নেতা নির্বাচন করে , যেটা বর্তমানে হচ্ছে , আর আমাদের সমাজে এখন খারাপ মানুষ রাস্তায় পইরা পাওয়া যায় । এবং উনি এই প্রচলিত গণতন্ত্রের বিরোধিতা করছে এখানে । মাশাআল্লাহ্ । ওনার এই কথার উপরে একটা কথাই বলতে হয় - কুকুরের গর্ভে কুকুরই জন্ম নিবে , এটাই স্বাভাবিক । চোর বাটপার দিয়ে নেতা নির্বাচন করলে চোর বাটপারই শাসক হবে , সেটাও স্বাভাবিক ।
[[[ আমরা যদি মাদানী যুগের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো, পেশিতন্ত্র সেখানে অনুপস্থিত ছিলো। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইসলাম রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়নাই।
মদিনা রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে প্রথম শ্রেণীর সকল সাহাবীরা(সঃ) সহ আনসার এবং মুহাজির সবাই একবাক্যে রাসূল(সঃ) কে মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। এমনকি তখন পর্যন্ত যারা ইসলাম গ্রহণ করেনাই তারাও মুসলমানদের দ্বারা মনোনীত নেতাকে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে।
এক্ষেত্রে মদীনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপধান হিসেবে মুসলমানরা সর্বসম্মতিক্রমে রাসূল(সঃ) কে নির্বাচিত করে সাধারণ জনগনের কাছে উপস্থাপন করেছে, এবং জনগন এই বিশ্ব নেতাকে(সঃ) মেনে নেয়ায় মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান হলেন রাসূল(সঃ)।
এখানে জোর জুলুম কিংবা তরবারীর দ্বারা কারো উপর নতুন শাসক চাপিয়ে দেয়া হয়নাই। ]]]
-- উনি হয়তো মদিনা সনদের কথা ভুলে গেছেন । যেই সনদের আওয়তায় সবাই রাসুল (সাঃ) কে নেতা হিসেবে মেনে নিছে , এমন হয় নায় যে রাসুল (সাঃ) মদিনায় যাবার সাথে সাথে রাসুল (সাঃ) কে নেতা ঘোষণা করা হইছে । আর মদিনা সনদে মুসলিমের পক্ষের ধারা বেশী ছিল বা এইভাবে বলা যায় ' ইসলামের পক্ষের ধারা বেশী ছিল । -- এখানে গুরুত্ব পূর্ণ কথা যেটা - বর্তমান জামায়াত ইসলাম গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম করতে চায় , অথচ মদিনার নেতা হবার জন্য সম্পূর্ণ কোরআন না আসার আগেই রাসুল (সাঃ) নেতা হিসেবে মনোনীত হলেন , আর এর কারন কোরআনের শিক্ষা । অথচ আমাদের জামায়াত ইসলাম আজ কোরআন ছেড়ে ডঃ কামালের সংবিধান নিয়েই নেতা হতে চাচ্ছে । হায়রে ইসলামিক দল !!! - রাসুল (সাঃ) জীবনী থেকেও কিছু শিখলো না ।
[[[ আমরা যদি খলিফা নির্বাচনের দিকে তাকাই তাহলেও একই পদ্ধতি দেখবো। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবীরা হজরত আবু বকরের (রাঃ) হাতে বাইয়াত নিলেন, এবং সাধারণ মুসলমানরাও সেইসব প্রথমশ্রেণীর সাহাবীদের (রাঃ) সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করায় ইসলামের প্রথম নির্বাচিত খলিফা হলেন হজরত আবু বকর (রাঃ) ]]]
-- তো এরা মুখে কি বলছে আর কর্মে কি করছে ? এরা এমন একটা দল যাদের সাথে অন্য সব ইসলামী দলের দন্দ লেগে আছে , এদের এক দলের সাথে আরেক দলের না নীতিগত ভাবে মিল আছে , না আকিদাগত ভাবে । তবে কিভাবে এরা সর্ব সম্মত ভাবে নেতা নির্বাচন করবে ? অথচ তুলনা দেখায় সাহাবীদের । আর খলিফা নির্বাচননের অধ্যায়তো অনেক পরে , আগে খেলাফত আনার পদ্ধতির কথা বলেন ।
[[[ প্রচলিত গণতন্ত্র এবং ইসলামী গণতন্ত্রের মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য হলো, পদ প্রার্থী হওয়া।
ইসলামী গণতন্ত্রে কেউ নিজেকে পদ প্রার্থী দাবী করতে পারবেনা। যেমন, “আমাকে চেয়ারম্যান,এম্পি নির্বাচিত করুন”। ]]]
-- ভুতের মুখে রাম না - আপনারা কিন্তু ভোটে দাড়িয়ে জনগনের কাছে সি ভিক্ষাটাই করেন । আমাকে এমপি করার জন্য ভোট দেন , আমাকে মাপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাবার জন্য ভোট দেন । অথচ এখানে এর ঘোর বিরোধিতা করলেন ।
[[[ আবার প্রচলিত গণতন্ত্রের কথা হচ্ছে জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক, এদিকে ইসলামী গণতন্ত্রে বলা হয় আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক।
প্রচলিত অনৈসলামিক গণতন্ত্র অনুযায়ী যেহেতু জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক, সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি বলে মদ,যেনা বৈধ, তাহলে মদ বৈধ হয়ে যাবে। আর ইসলামীক গণতন্ত্রে যেহেতু আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক, সেহেতু দেশের সকল জনগণ যদি বলে, মদ বৈধ, তবে মদ বৈধ হবেনা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মদ হারাম হারামই থেকে যাবে। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যেখানে ইসলামের সমাধান নেই সেখানে সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের ভোট নেবা হবে। ]]]
-- ভাই সাহেব ... যেখানে ইসলামের সমাধান নাই সেখানে না হয় ধর্মীয় নেতাদের মতামত নেয়া যাবে । কিন্তু এই যে গণতন্ত্র মানে হারামকে হালাল করে দেয়া , এইটা যে স্বীকার করলেন , তবে কেন সেইটা মানতে নারাজ বাস্তবে ? বাস্তবে তো এই গণতন্ত্র দিয়েই দেশ চালানোর জন্য লড়াই করছেন এখন , যেমন দেশ চালাইছেন ২০০১-২০০৭ পর্যন্ত ? এখানে কি আপনাদের দ্বিমুখী নীতি প্রকাশ পায় না ?
[[[ কেউ কেউ প্রশ্ন করে থাকেন, জামায়াতে ইসলামীতো প্রচলিত অনৈসলামিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল, তাহলে এটা কিভাবে ইসলামী দল হলো। কারণ জামায়াতের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়, নিজের সমর্থনে ভোট চায়, এটাতো ইসলামী গণতান্ত্রিক সিস্টেম নয়।
মূলত জামায়াত সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনেই মানুষ এই ধরনের প্রশ্ন করে থাকে, জামায়াতের কোনো নেতা কর্মী, কোনো নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী দাবী করতে পারেনা, যদি কেউ এই ধরনের দাবী করেন তবে সে ওই নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যখন কোথাও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক ডাকা হয় এবং সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, দল সেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে কিনা। যদি অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়, তখন দলের প্রতিনিধিদের পরামর্শের ভিত্তিতে একজনকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ]]]
-- ভাই , শুরু করলেন ' জামায়াত কেন এই গণতন্ত্র পন্থি নির্বাচনে যায় সেই কথা দিয়া , আর শেষ করলেন আপনার দল থেক কিভাবে মনোয়ন দেয়া হয় সেইটা দিয়া । এইটা কিছু হইল ? আপনার দলে কিভাবে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয় সেটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় না ভাই , আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় , এই মানুষের তৈরি আইনের আওয়াতায় নির্বাচন নিয়ে । এইটার কোন সমাধান আছে আপনার আকছে ? নিজেই যেই গণতন্ত্র কে বার বার কুফরি বলতেছেন , আবার নিজেই বলেন কোন পদ্ধতিতে একজন জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে যায় । , ইহা কি আপনা জ্ঞ্যানের অভাব নাকি আপনি নিজেই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ?
[[[ ব্যাপারটাকে আমরা এইভাবে ব্যাক্ষা করতে পারি, প্রভাবশালী সাহাবীরা হজরত আবুবকরকে খলিফা নির্বাচন করে তাঁকে জনগনের নিকট হাজির করে বলা হলো, আবুবকরের (রাঃ) হাতে আমরা বাইয়াত করেছি, তোমরাও তাঁর হাতে বাইয়াতবদ্ধ হও।
এখানে আবু বকর (রাঃ) কিন্তু নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননাই, বরং সাহাবীরাই তাঁকে নির্বাচিত করে এর স্বপক্ষে জনগনের নিকট সমর্থন চেয়েছে। ]]]
-- ভাই আপনি রাসুল (সাঃ) এর সময়কার কাফেরদের কুফরি ব্যবস্থাপনা থেকে এক লাফে খেলাফতে চলে গেলন । এর মাঝে এইটা ব্যাখা করলেন না , কিভাবে এই খেলাফত আসলো । গণতন্ত্র দিয়ে , নাকি জ্বিহাদ করে , এই গুলো এড়িয়ে গেলেন কেন ? নাকি এই গুলো বললে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই ? সমস্যা নাই , আপনি না বললেও আমরা বুঝে গেছি , আমরা কাউকে এইটা বলবো না
[[[ জামায়াতের সিস্টেমটাও একই রকম, আব্দুর রহিম কিংবা আব্দুল করিমকে জামায়াতের পক্ষ হতে চেয়ারম্যান,এম্পি হিসেবে মনোনীত করে জনগনের কাছে আহ্বান জানানো হয়, আমরা অমুককে মনোনীত করেছি এবার তোমরাও তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করো।
এখানে পার্থীর ব্যাক্তিগত খায়েশের কোনো স্থান নেই। এমনও দেখা গেছে যেই ব্যাক্তিকে জামায়াতের পক্ষ হতে মনোনীত করা হয়েছে তাঁর পকেটে নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত টাকাও নেই, দলীয় ফান্ড হতে তাঁর নির্বাচনের খরচ বহন করা হয়েছে। ]]]
-- প্রাথির ব্যাক্তিগত খায়েশ থাকবে কিভাবে ? গণতন্ত্রের দলে ব্যাক্তিগত খায়েশ বলতে কিছু আছে ? সব না ঐ ২ মহিলার হাতে আর এটাই জামায়াতের সিস্টেম মানে কি ? কোন সিস্টেমের কথা বলতেছেন ? কুফরি থেকে এক লাফে খেলাফতে চলে আসা ?আর মাঝের সব ভুলে যাওয়া ? নইলে আপনি এমন কোন সিস্টেম দেখান নাই যেটা দেখে বুঝবো ' হ্যাঁ এইভাবে খেলাফত আসবে । তবে হ্যাঁ , একটা বিষয় দেখাইছেন , প্রার্থী আপনারা দলের মধ্যে অনেক চিন্তা ভাবনা করে , দেখে শুনে খেলাফতি জামানার পদ্ধতিতে বাছাই করে ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়ে দেন ঐ গণতন্ত্রের নির্বাচন করতে , এই আপনার সিস্টেম ? এই সিস্টেমে রাসুল (সাঃ) কিছু করছে বলে কোন প্রমান আছে আপনার কাছে ?
[[[প্রচলিত অনৈসলামিক গণতন্ত্রে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস মনে করা হয়, কিন্তু জামায়াতের দলীয় সংবিধানে আল্লাহকেই সকল ক্ষমতার উৎস হিসেবেই মেনে নেয়া হয়েছে, যার কারনে আমরা দেখেছি ইসলাম বিরোধী শক্তি নির্বাচন কমিশন হতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করেছে। আল্লাহকে সকল ক্ষমতার উৎস মানাও অপরাধ!! ]]]
-- পুরান কথা বলতে হয় - চোরের নাম মুমিন হলে সে কি সৎ মানুষ হয়ে যাবে ? আমার ঘরে আগর বাত্তি জ্বালাইলে যে পুরা দুনিয়া আলোকিত হবে এইটা কোন কথা ভাই ? আপনার গঠনতন্ত্রে আছে "আল্লাহ্ সকল ক্ষমতার মালিক" , আর আপনি এখন রাজনীতি করছেন " জনগন সকল ক্ষমতার মালিক " - এখানে আমরা কি ধরে নেব ? ঘরে পর্দা করে বাহিরে পতিতা বৃত্তি করা ?
[[[ সুতরাং, যারা বলছেন জামায়াত কুফরী গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল, তাঁর মূলত বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন, হয়তো তারা অজ্ঞতার কারনে এমন প্রচারনা চালাচ্ছেন অথবা ইচ্ছেকৃতভাবে জামায়াতের প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ে এমনটি করছেন।
এরপরেও যেহেতু আমরা অনৈসলামীক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, সেহেতু পুরোপুরি ইসলামীক সিস্টেম মেনে নিয়ে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করা অসম্ভবই বলা যায়। যেসব ইসলাম বিরোধী নীতিমালা আমরা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি, রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে সেসব বাদ দিয়ে একটি সুখি সমৃদ্ধ ইসলামীক খিলাফত আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ্। ]]]
-- আপনার মত বিজ্ঞ এই সমাজে থাকলে আমাদেরতো অজ্ঞ মনে হবেই রাসুল (সাঃ) মেনে নিয়েছিল কুফরি ? নাকি জ্বিহাদ করে কুফরি দূর করছে ? ভাই বলেনতো কোরআন হাদিস পড়ছেন ? নাকি মুখস্ত বয়ান দিলেন এতক্ষন ? এখানে কোন পয়েন্টে আপনি জামায়াত ইসলামকে ইসলামিক দল প্রমান করলেন ? এমনকি শেষ দিকে এসেও আসল রূপ তুলে ধরে বলছেন - অনৈসলামিক সিস্টেম বলেই আপনারা পুরো পুরি ইসলামিক সিস্টেমে রাজনীতি করতে পারছেন না । -- আপনারা রাজনীতিই করছেন এই কুফরি দূর করে ইসলামিক সিস্টেম আনার জন্য ,আর সেই আপনারাই যদি বলেন আমরা পারছি না ' তবে রাজনীতি করতেছেন কেন ? আমাদের কাতারে এসে দাঁড়ান না কেন ? আর নইলে দলের পিছন থেকে ইসলাম নাম সরিয়ে ফেলেন , ইসলামের নাম দিয়ে কুফরি মেনে নেয়া আর সেইটা দিয়ে আমাদের ভ্রান্ত করার অধিকার আপনাদের নেই ।
--- জিনিয়াস পাপী
"আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।
মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।" [সুরা বাকারাঃ ১১-১২]
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন