মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৩

যারা সরকারের স্বার্থরক্ষায় ফতোয়া প্রদানে ব্যস্ত

নিদাল হাসান যা করেছে, ঠিকই করেছে – শেইখ আনোয়ার আল আওলাকি
মে 23, 2013 by gurabamedia

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
আমরা আজ ইসলামের পক্ষে কর্মরত আলেম নয়, বরং সরকারের-দালাল আলেমদের দেখি, যারা সরকারের স্বার্থরক্ষায় ফতোয়া প্রদানে ব্যস্ত। এহেন যুগে ইমাম আনোয়ার আল আওলাকি একজন সত্যবাদী স্কলার। আমেরিকান নাগরিক, মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সৈন্য নিদাল হাসান যখন তাঁর মুসলিম ভাইবোনদের প্রতিরক্ষায় ইরাক ও আফগানিস্তানে মুসলিমদেরকে হত্যা করতে পাঠানো হবে এমন একটি মার্কিন সৈন্যদলের উপর হামলা করে, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কাফিররা তো বটেই এমনকি আমেরিকান মুসলিম জনগোষ্টি পর্যন্ত অভিযোগ করতে থাকে! এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে সত্য কথা বলার সত্ সাহস দেখিয়েছিলেন শেইখ আনোয়ার আল আওলাকি, পরবর্তীতে যিনি আমেরিকার রোষের স্বীকার হন এবং আমেরিকান ড্রোন হামলায় মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুক এবং আমাদেরকে তাঁর পথ অনুসরণের তওফিক দিন আমীন!

============

নিদাল হাসান যা করেছে, ঠিকই করেছে

============

নিদাল হাসান একজন প্রকৃত বীর। তিনি একজন বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি এমন অসংগতিপূর্ণ একটি জীবন মেনে নিতে পারেন নি যেখানে নিজে একজন মুসলিম হয়ে, তাকে সেই সেনাবাহিনীর পক্ষে চাকরি করতে হবে, যারা তাঁর আপন লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এই অসংগতির কথা উঠলেই, বহু মুসলিম একে ঝেড়ে একপাশে ফেলে দেয় আর ভান করে যেন এরকম কোন কিছুর অস্তিত্বই নেই। কোন সচ্চরিত্রবান মুসলিমেরপক্ষে এটি সম্ভব নয় যে, সে তার সৃষ্টিকর্তা ও তার মুসলিম ভাইবোনের প্রতি নিজেরদায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হবার পরেও, একজন মার্কিন সৈন্য হিসেবে আমেরিকার খেদমত করতে থাকবে। এই আমেরিকাই আজ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদান করছে, যা মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এর সেনাবাহিনীরা আজ সরাসরি দুইটি মুসলিম রাষ্ট্রে আক্রমণ চালাচ্ছে, আর তাদের হাতের পুতুল সরকার দিয়ে অবশিষ্ট যেসব মুসলিম রাষ্ট্র আছে, সেগুলোও দখল করে রেখেছে।

নিদাল সেই সেনাবাহিনীদের উপর গুলিবর্ষণ করেছেন, যারা ইরাক এবং আফগানিস্তানে অগ্রসর হবার পথে ছিল। সুতরাং তিনি যা করেছেন, সে কাজের বিশুদ্ধতা নিয়ে কীভাবে কোন মতবিরোধ থাকতে পারে? বরং সত্যি বলতে, একজন মুসলিম তার মার্কিন সেনাবাহিনীতে একজন সৈন্য হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্তকে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক একমাত্র একভাবেই যথার্থ প্রমাণ করতে পারেন, তা হলো যদি তার নিয়্যত বা উদ্দেশ্য হয় নিদালের মতো পুরুষদেরপদাংক অনুসরণ করা।

ভাই নিদালের এই বীরত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আমেরিকান সমাজের উভয় সংকটে পড়া মুসলিমদের বাস্তব প্রতিচিত্র ফুটে উঠেছে। নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠা মুসলিমদের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাদেরকে এমন একটি অবস্থান নিতে হবে যাতে করে, হয় তাদেরকে ইসলামের সাথে প্রতারণা করতে হবে, নাহয় দেশ/জাতির সাথেপ্রতারণা করতে হবে। অনেকেই আজ এ দু’টির মাঝে প্রথমটিকে বেছে নিচ্ছে। আমেরিকাস্থ মুসলিম সংগঠনগুলো নিদালের এই অপারেশনের নিন্দা প্রকাশ করার জন্য ন্যাক্কারজনক কোরাস করে বেড়াচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আজ মুসলিমদের জন্য যে একটি ইসলামী দায়িত্ব- এ ব্যাপারে কোন মতভেদ থাকতে পারে না। এক দানা পরিমাণ জ্ঞান রাখেন এমন কোন আলেম ও এই ব্যাপারে ইসলামের সুস্পষ্ট প্রমাণাদির বিরোধিতা করতে পারবেন না যে, আজকের মুসলিমদের এই অধিকার আছে (অর্থাত্ আমেরিকান সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অধিকার), বরং মুসলিমদের উপর এটি দায়িত্ব, যে তারা আমেরিকার অত্যাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। নিদাল সে সমস্ত সৈন্যদের হত্যা করেছেন যাদেরকে ইরাক ও আফগানিস্তানে মুসলিমদের হত্যা করার জন্য পাঠানো হচ্ছিল। অতএব, যে সব আমেরিকান মুসলিম তাঁর আচরণে নিন্দা জানিয়েছে, তারা আসলে মুসলিম উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আর মুনাফেকির মধ্যে পতিত হয়েছে।

আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ “সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয়সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।” [সূরা নিসাঃআয়াত ১৩৬-১৩৭]

একজন মুসলিম হয়ে, আমেরিকায়বা মোটের উপর বলতে গেলে পশ্চিমার যেকোন দেশে অবস্থান করতেযেয়ে যে দ্বন্দ্ব বাঁধছে, তা আজ সেই ইসলামী অভিমতের হেকমত উন্মোচন করে, যা মুসলিমদের কে পশ্চিম থেকে হিজরতকরার ব্যাপারে আহ্বান জানায়। মুসলিমদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন এরূপ একটি পরিবেশে ইসলাম মেনে চলা ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের ভাই নিদালকে ধৈর্য্য, উদ্যম এবং দৃঢ়তা দান করুন, আর আমরা আল্লাহর কাছে দু’আ করি তিনি যেন উনার এই মহত্ ও বীরত্বপূর্ণ কাজকে কবুল করে নেন। আমীন!

————
শেইখ আনোয়ার আল আওলাকি

৯ নভেম্বর, ২০০৯

শেইখ আনোয়ার আল আওলাকির ব্লগ থেকে সংগৃহীত, এ লেখাটি প্রকাশ করার পরে ব্লগটি সরিয়ে ফেলা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন